কেন শেখ হাসিনার নৌকায় ভরসা রাখবেন?
প্রকাশ : ০১ মে ২০১৮, ১৩:০৯
কেন শেখ হাসিনার নৌকায় ভরসা রাখবেন?
শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল, সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের জয়রথ চলমান।


ক্ষমতাগ্রহণের পরেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা ও ভাতা প্রদান করেন।


দীর্ঘদিন চলমান সমুদ্রসীমার সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন এবং বিজয় লাভ করেন। ভারত-মায়ানমারের সমুদ্রসীমার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেন।


দীর্ঘদিনের ছিটমহলবাসীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়। তাদের নিজস্ব পরিচয় দেয়ার সুযোগও করে দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।


বিশ্বব্যাংক’র দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন না করায় শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংক’র বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং এতে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। যা এখন বাস্তব এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।


শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বছরের প্রথমদিনে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের টিফিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা সেশনজটমুক্ত পুরোপুরিভাবে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। হাতের নাগালেই এখন সব পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে শতশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৭৬ভাগ। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছেন, ধর্মের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তোলার জন্য কয়েক হাজার মাদ্রাসাও নির্মাণ করেছেন।


শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। আগের চেয়ে বেকারত্বের হার অনেক কমে গেছে।


লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে এনেছেন। সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের যুক্ত করে বৈষম্য দূর করেছেন। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে করেছেন ৬ মাস, যা আগে ছিল মাত্র ২ মাস।


কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। কৃষিখাতে এখন পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়েছেন ৯ হাজার কোটি টাকা। কৃষকদের সেবার জন্য অনলাইন সেবা চালু করেছেন এবং খাদ্য উৎপাদন করেছেন ৪০০ লাখ মেট্রিকটন যা আগে ছিলো ৫৩ লাখ মেট্রিকটন।


চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে ব্যাপক। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন ১৭টি। বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩১টি। অনলাইনে চিকিৎসা সেবা চালু করেছেন। প্রত্যেক ডাক্তারকে পাশ করার পর প্রথম ২ বছর প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করেছেন। শিশুমৃত্যুর হার কমে গেছে।


শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের আওতাধীন আনার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। বর্তমানে ৮৩% লোক এর আওতাভুক্ত হয়েছে যা আগে ছিল ৩৬%। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে এখন ১৫ হজার ৮২১ মেগাওয়াট যা আগে ছিল ১০ হাজার ৮৭৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্য ১১৫টি যা আগে ছিল ৮৮টি। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।


শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার যা আগে ছিল ৯০০ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭.২৪। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার যা আগে ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার।


যোগাযোগ ব্যবস্থায় শেখ হাসিনার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পদ্মাসেতুসহ ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে ঢাকা শহরকে ফ্লাইওভারের মোড়কে সাজানো, বিভিন্ন মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ, মেট্রোরেল চালু, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেলওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর জন্য আদর্শ। বিগত সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলায় এই সরকার শতভাগ সফল। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সতর্কতা জারি ও দুর্যোগ সংগঠিত হওয়ার পূর্বেই নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া ও দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সকল কাজে সফল এই সরকার।


পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ ২য় অবস্থানে চলে এসেছে। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হতে যাচ্ছে। সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি, আন্তঃপরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ নির্বাচিত হয়েছেন।


প্রায় ১০লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে ও লালনপালন করে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছেন। যার স্বীকৃতিতে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।


বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনা-ই। আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারো ক্ষমতায় এনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন।


জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


লেখক : শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল,সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বিবার্তা/তৌহিদ/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com