বঙ্গবন্ধু প্রীতি ও বাস্তবতা
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২০, ২০:৫০
বঙ্গবন্ধু প্রীতি ও বাস্তবতা
কামরুজ্জামান
প্রিন্ট অ-অ+

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত টিস্যু বক্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।যা খুবই হতাশাজনক, সভ্যতা বিমূখ এবং জ্ঞান বিবর্জিত একটি পদক্ষেপ বলে মনে হয়েছে। ইতপূর্বেও তারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে এ ধরণের পাগলাটে কর্মকাণ্ডের পূনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।এসবের মাধ্যমে সমাজে হতাশা ও মানসিক ‍বিকৃতি ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে বলেও মনে হয়।


কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, বঙ্গবন্ধু তো একা দেশ স্বাধীন করেননি, দেশ স্বাধীন হয়েছে অসংখ্য মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায়, তো কেবল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন?


এক্ষেত্রে আমি একটি উদাহারণের অবতারণা করতে চাই।কোনো একজন দরিদ্র কৃষকের সন্তান যদি বাল্য বয়সে সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে বিমানের পাইলট হবে এবং সেই লক্ষে সে কর্ম-প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগ্রগামি হয়, তখন একপর্যায়ে অনেকেই তার প্রতি অনেকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।তার ডেডিকেশনে মুগ্ধ হয়ে প্রথমেই বাবা-মা তারপর স্কুল শিক্ষক, এলাকার ধনী ব্যক্তিত্ব, বৃত্তি প্রদান সংগঠন থেকে শুরু করে অনেকে।একসময় সে যখন সত্যিই পাইলট হয়ে যায় তখন তার কৃতিত্বের জন্য কে সবচেয়ে মূল্যবান?


বঙ্গবন্ধু এবং এই পাইলট, উভয়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় কমন, আর তা হচ্ছে একটি বৃহৎ স্বপ্ন দেখতে পারার সাহস এবং সেই লক্ষে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। শুধু একারণেই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীই সবচেয়ে সম্মানিত, তার সহযোগীদের অবদানকে অস্বীকার না করেও। কেননা, এধরনের একটি সিদ্ধান্ত অন্য সকল সহযোগিতার বিষয়গুলোকে একত্র করতে সক্ষম হয়েছে। একজন দরিদ্র কৃষকের সন্তানের পাইলট হওয়ার ইচ্ছাটাকে প্রথমদিকে সবার কাছে যেমন অবাস্তব কল্পনা মনে হয় ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন সেই সময় দেখেছিলন যখন অন্যদের কাছে এটা অবাস্তব কল্পনা মনে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার লক্ষকে সামনে রেখে কাজ করে গেছেন, বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন।একসময় তার স্বপ্নকে এদেশের জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করে এবং তা বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসে, তার কাঁধে কাঁধ রেখে সহযোগিতা করেছে, কারণ তিনি স্বপ্নও দেখেছিলেন সেই মাপের। এ জন্যই তিনি জাতির পিতা, সবচেয়ে সম্মানিত।তার প্রতি আবেগ ও ভালবাসা থাকা এদেশের মানুষের জন্য একটি স্বাভাবিক কৃতজ্ঞতা বোধের বিষয়।


কিন্ত, বর্তমান সময়ে যারাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি অস্বাভাবিক অতিরিক্ত আবেগ এবং ভালবাসা প্রদর্শন করেন, তাদেরকেই একটা সময় নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, অথবা সেই উদ্দেশ্যেই তারা এমনটা করে থাকেন। আবেগ ও ভালবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ কখনোই সুফল বয়ে আনে না অথবা তা সত্যিকার আবেগ নয়।ভালবাসা কর্মের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়।কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বুলি আওড়িয়ে দুর্নীতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার মানে হচ্ছে কৌশলে জনগণের কাছে বঙ্গবন্ধুকে খাট করার চেষ্টা।নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের বিকৃত করে ফেলা।যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বার বার উচ্চারণ করেন অথচ দায়িত্বশীল অবস্থানে দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন তারা প্রকৃতপক্ষে সমাজে হতাশা ও মানসিক ব্যধি ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন।কারণ, এধরনের দ্বিমুখি আচরণ থেকে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা গ্রহণ করে থাকে।


সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি শোষণ-দুর্নীতি মুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি কি কাজ করছি? আমার কর্ম কি তার লক্ষকে এগিয়ে নিতে সহায়ক নাকি প্রতিবন্ধক? এসব প্রশ্ন আমাদের নিজেই নিজেকে করা উচিত। বিশেষ করে যারা অধিকতর দায়ীত্বশীল অবস্থানে আছেন।


বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ (সা) বলেছেন, নিয়তের শুদ্ধতার উপর কর্মের সফলতা নির্ভর করে। তাই আমাদের কর্মকাণ্ডের নিয়ত বা উদ্দেশ্য আগে ঠিক করে নেয়া উচিত। তা না হলে এধরনের বঙ্গবন্ধু প্রীতি কেবল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে ব্যর্থ করতেই কাজে লাগবে।


লেখক: কামরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর


বিবার্তা/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com