জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৭
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা এদেশের বিরোধীতা করেছে, সেই রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ ও তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনসহ এদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


শুক্রবার বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রজন্ম চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে তারা এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। 'গৌরব’৭১' শীর্ষক সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করে।


সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে প্রতিটি আন্দোলনে জামায়াত এদেশের বিরোধীতা করেছে। আজ পর্যন্ত তাদের সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।


গোলাম কুদ্দুস বলেন, ব্যক্তিকে তার অপরাধের জন্য দণ্ড দিয়ে সাজা দেওয়া যায়। কিন্তু সংগঠনকে দণ্ড দেওয়া যায় না। সংগঠনকে দণ্ড দিতে হলে অবশ্যই সেই সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।


'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট' প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য হয় আদর্শের দ্বারা। কিন্তু যে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলো তাতে কোনো আদর্শ আছে বলে মনে হয় না। এই ঐক্য হলো ক্ষমতায় যাওয়ার ঐক্য।


ড. কামালের উদ্দেশ্যে গোলাম কুদ্দুস বলেন, 'আপনি ১৯৭২ সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা। আর সেই সংবিধানে লেখা আছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা। তাহলে আপনি এখন কেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীদের সাথে ঐক্য করলেন?'



গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, 'যারা বাংলাদেশ চায় নাই, তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের পরিবারের ভোটাধিকারও নিষিদ্ধ করতে হবে।'


তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজাকারদের বাড়িগুলোতে আলাদা রং দেয়া উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ সেই রং দেখে তাদের দিকে ঘৃণার চোখে তাকায়।


সমাবেশে, সংসদ সদস্য সানজিদা খানম বলেন, '১৯৭১ এর ঘাতক, ৭৫'র ঘাতক, ২১ আগস্টের ঘাতক সবাই একসূত্রে গাঁথা। আর তারা হলো দেশবিরোধী জামায়াত। আর যেদিন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে সেইদিন আমি খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছি। জামায়াতে ইসলামীকে এদেশে পুনর্বাসন করে জিয়াউর রহমান এদেশকে কলঙ্কিত করেছে।'



স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী মনরঞ্জন ঘোষাল বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে রাজাকারদের নিয়ে কথা বলতে হবে আমি কখনো ভাবিনি! রাজাকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়াতে একজন মুক্তিযোদ্ধ হিসেবে আমি খুশি হয়েছি। তবে আমার মনে হয়, রাজাকার জামায়াতী এখন বিভিন্ন দলে ঢুকে রাজনীতি করার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।


আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, 'জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। ১৯৭১ সালে যারা ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, ২লক্ষ মা-বোনদের নির্যাতন করেছে তাদেরকে কেন স্বাধীনদেশে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেব? তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।'



গৌরব’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন, 'আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ, তাদের নাগরিক সুবিধা সংকুচিতসহ তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।'


আগামী নির্বাচনে কোন রাজাকার প্রার্থী আসলে রাজপথে তাদের প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।



সমাবেশ শেষে স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের জন্য আনন্দ মিছিল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্যাহ, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, মাসুদা খানম মেধা, আরেফা পারভীন তাপসী, সুমনা আক্তার লিলি, গেরিলা মুক্তিযাদ্ধা বিচ্ছু জালাল প্রমুখ।



সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৌরব’৭১ এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনি এবং সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য হানিফ খান।


বিবার্তা/রাসেল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com