২১ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশা: রিজভী
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:২৮
২১ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশা: রিজভী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সরকার।


তিনি বলেন, এরপর সাজানো মামলায় রায় দিয়ে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে এক নম্বর মিশন কার্যকর করেছে সরকার।


রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, এখন দ্বিতীয় মিশন কার্যকর করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় আগামী ১০ অক্টোবর রায় দেয়া হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীল নকশারই অংশ।


তিনি বলেন, রায় প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা নানা ধরনের বক্তব্য রাখছেন। বলছেন- এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি বিপাকে পড়বে। তার মানে সরকার জানে কি রায় হতে যাচ্ছে অথবা সরকারই ২১ আগস্ট মামলার রায় লিখে দিচ্ছে।


তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।


বিএনপির এই নেতা বলেন, এসকে সিনহা তার আত্মজীবনী বইয়ে পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন, তিনি সরকারের চাপে ও হুমকির মুখে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি তার ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ে পরিষ্কার বলেছেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি ও ভীতি প্রর্দশনের মুখে তিনি দেশ ছেড়েছেন এবং তার পরিবারকে জিম্মি করে বিদেশে থাকাকালীন অবস্থায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বিবিসির রিপোর্টসহ দেশের কিছু গণমাধ্যমে আজ তা প্রকাশ পেয়েছে। তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।


তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে সংসদে পাস হল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এ কালো আইন করা হয়েছে।


রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে অথবা যে কোনো মাধ্যমেই যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয়, অথবা প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্যই এ ন্যক্কারজনক কালো আইন তৈরি করা হয়েছে।


তিনি বলেন, এই কালো আইনে মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের বিস্তার লাভ করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এটি সংবিধানবিরোধী একটি আইন। কারণ এ আইনে সংবিধানের মূল চেতনা বিশেষ করে মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।


বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তালিকা করে আজগুবি সংবাদ প্রকাশ করছে কিছু গণমাধ্যম। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশব্যাপী সংসদীয় এলাকায় বিএনপির নামে ভুয়া প্রার্থী তালিকা ছাপানো হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি চক্রান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিই মিথ্যা তালিকা প্রকাশে কাজ করছে।


তিনি বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে এধরনের বানোয়াট সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।


সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের রিমান্ড বাতিল করে তার মুক্তি দাবি করেন রিজভী।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com