‘জামায়াতকে আকড়ে রাখতেই খালেদার আইনজীবী পরিবর্তন’
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৩
‘জামায়াতকে আকড়ে রাখতেই খালেদার আইনজীবী পরিবর্তন’
বিবার্তা প্র‌তি‌বেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জামায়াতকে আকড়ে ধরার জন্যই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আইনজীবী পরিবর্তন করে যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।


মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৪ দল আয়োজিতে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।


সমাবেশে বিএনপি নেত্রীর নতুন আইনজীবী নিয়োগের সমালোচনা করে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আদালত খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু আজকে শুনলাম উনার নিজের আইনজীবীর উপর কোনো বিশ্বাস নেই। এ কারণে আজকে একজন বিদেশী আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেই আইনজীব কে? সেই আইনজীবী হলো, ওই একাত্তরের ঘাতক মীর কাশেম আলীর আইনজীবী হয়েছিলেন। লন্ডনের সেই কুখ্যা আইনজীবী। একাত্তরের ঘাতকের লবিষ্ট ছিল যে, সেই আইনজীবীকে ঢাকায় আনছে খালেদা জিয়ার দল। তার মানে হলো, এখনো খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছাড়েননি। একাত্তরের ঘাতকদের ছাড়েননি।


নাসিম বলেন, আগামী নির্বাচনে বাংলার জনগণ খালেদা জিয়াকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে দেবে, বর্জন করবে ইনশাল্লাহ। নির্বাচন সামনে আসছে। এই নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। যে কোনো বাধা, হুমকি দেয়া হোক না কেন, কোনো কাজে আসবে না। বাংলার জনগণের নেত্রী দেশের সব সমস্য সমাধান করছেন। সেই নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলার জনগণ আবার নির্বাচিত করবে ইনশাল্লাহ। যদি সাহস থাকে মাঠে খেলতে আসেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যেতে চাই না। মাঠে খেলেই নির্বাচনের গোল দিতে চাই।


মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে নাসিম বলেন, আপনার নেত্রী জেলে আছে। আপনাদের আন্দোলন হলো ঘরের মধ্যে। আর আমরা জেল খেটেছি, মার খেয়ে মাঠ ছাড়িনি। আপনার দলের লোকেরা এমন যে, মারের আগেই পালিয়ে যায়। আন্দোলন করবেন আপনারা, আন্দোলন আপনারা কী করবেন বাংলার জনগণ বুঝে গেছে। বাংলার জনগণ আপনাদের আর ক্ষমতায় আসতে দেবে না। একাত্তরের ঘাতকদের আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না।


সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দেশে বারবার জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে। অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা এরই ধারাবাহিকতা। জঙ্গিবাদের রাজনীতির বিষবাষ্প।


যত বাধাই আসুক বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হবেই। আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। উন্নত রাষ্ট্রেও পরিণত হবো। দেশের এই অর্জন, এই উন্নয়ন যারা চায় না, তারা বারবার ষড়যন্ত্র করবে। জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইবে। তবে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপশক্তিতে প্রতিহত করবো।


আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, জঙ্গিরা বিভিন্নভাবে মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করে। এক জঙ্গি আরেক জঙ্গির বউকে নিয়ে সংসার করে, এটা কি ইসলাম সমর্থন করে? মানুষ হত্যা এটা কি ইসলাম সমর্থন করে? নিজেরা আত্মহত্যা করে এটা কি ইসলাম সমর্থন করে? না, করে না।


জঙ্গিদের পরিবার নিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এই যে জঙ্গিরা মরে গেলে অমুকে তমুকের সঙ্গে, তমুক মরে গেলে আরেক জনের সঙ্গে মেয়েরা থাকছে। মেয়েরা কি হাত বদলের জিনিস। ইসলামের কোনো জায়গায় আছে মেয়েরা হাত বদলের জিনিস। সব জঙ্গি আস্তানায় বাচ্চাদের মাসের পর মাস আটকিয়ে রাখা হয়, যখন অভিজান চলে তখন তারা বাচ্চাদের সামনে দেয়। আজকে একটাই কথা এই মানবতাবিরোধিরা কখনোই ইসলামের লোক না। আমরা যখন সরকার গঠন করলাম তখন থেকেই তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।


ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেন বলেন, অনেকেই বলে জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এটা সে (জঙ্গি) নিজে নিজে করেছে। আমি বলবো এটা পরিকল্পিত ঘটনা এবং যারা বলে সে নিজে নিজে আক্রমন করেছে এটা ভুল। বিএনপি জামায়াতের সময় থেকে এ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। তারপর থেকে আমাদের উপর নানাভাবে নানা ধরনের আক্রমন হয়েছে। এই আক্রমন এরই ধারাবাহিকতা। মুক্তমনাদের উপর আক্রমন মুক্তিযুদ্ধের উপর আক্রমন এসব চক্রান্ত।


ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আরেকাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, গণআজাদী লীগের সাধারণ সভাপতি এ কে শিকদার, সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশীদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক।


‌বিবার্তা/ওরিন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com