জাপা এমপি আলতাফ বললেন, 'আমি পার্টি দিয়ে কি করবো?’
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:০৬
জাপা এমপি আলতাফ বললেন, 'আমি পার্টি দিয়ে কি করবো?’
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

বগুড়া-৭ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আলতাফ আলীর বিরুদ্ধে তাঁর নির্বাচনী এলাকা শাজাহানপুর-গাবতলী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ তুলে তাঁর নিজ দলের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।



বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে এর আগে জয়ী হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে উপনির্বাচনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নির্বাচিত হন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার সুযোগে চার লাখ ২২ হাজার ভোটারের আসনটিতে মাত্র ১৭ হাজার ৮৫৯ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আলতাফ আলী নির্বাচিত হন।


স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচিত হবার আগেও জাতীয় পার্টির কোনো কর্মসূচীতে দেখা যায়নি আলতাফ আলীকে, নির্বাচিত হবার পরেও জাপা নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখেননি তিনি।


জাপার জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় আলতাফ আলী বক্তব্য দিতে উঠলে নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুঁড়ে মারে। এছাড়া সভায় বক্তারা আলতাফ আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেন।


জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন বলেন, আলতাফ জাতীয় পার্টির এমপি হলেও তিনি দলীয় কোনো কর্মসূচীই পালন করেননি। নেতাকর্মীদের খোজখবর রাখেননি। প্রকল্প হরিলুট ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিনি জনবিচ্ছিন্ন।


নন্দীগ্রাম পৌর জাপার সদস্য-সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, এই লোকটাকে (এমপি আলতাফ) দলীয় কর্মসূচীতে দেখা যায় না। দলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখে না। পুরোপুরি নেতাকর্মীবিচ্ছিন্ন এই এমপি পার্টি অফিস দেখতে কেমন বা কোথায়, সেটাও সে বলতে পারবে না। এরা কীভাবে দলের মনোনয়ন পায়?


এবিষয়ে শাহজাহানপুর থানা জাপার সভাপতি আব্দুল হান্নান বিবার্তাকে বলেন, আলতাফ আলী এমপি হবার পর দীর্ঘ চার বছরেও একবার আমাদের সাথে বসেননি বা আমাদের ডাকেননি। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনোদিন আসেননি।


তিনি বলেন, আগামীতে তাকে আবার মনোনয়ন দিলে দলের আর কিছুই থাকবে না। তিনি বসন্তের কোকিল। আমরা চাই কর্মীবান্ধব কাউকে এখান থেকে মনোনয়ন দেয়া হোক।


জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক বিবার্তাকে বলেন, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে হরিলুট, অনিয়ম, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি জটিলতা সৃষ্টি করে আসছেন।


তিনি অভিযোগ করেন, টিআর-কাবিখার টাকা বেনামে আত্মসাৎ করছেন এই এমপি। উন্নয়নে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তাকে আবার মনোনয়ন দেয়া হলে স্থানীয় লোকজনের কাছেই জাতীয় পার্টি বিতর্কিত হবে।


এবিষয়ে আলতাফ আলী এমপির কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে আমি কেন যোগাযোগ রাখবো? তাদের আমার কোনো দরকার নেই। আমি পার্টি দিয়ে কি করবো?’


''আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ'' জানানো হলে আলতাফ আলী বলেন, ‘তাতে আমার কিছুই আসে যায় না’।


বিবার্তা/বিপ্লব/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com