ছাত্রলীগের নতুন ২ নেতার যত চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৪
ছাত্রলীগের নতুন ২ নেতার যত চ্যালেঞ্জ
ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।


বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযোগে বাদপড়া সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীর ব্যর্থতার জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করতে হবে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখককে। এটি তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জও। তারাও এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।


রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাত্রলীগে স্থান পাওয়া বিতর্কিত নেতাদের যে তালিকা করা হয়েছিল, তাদের নাম প্রকাশ এবং অনুপ্রবেশকারীসহ বিতর্কিতদের কমিটি থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে একটি অংশ টিএসসিতে অনশন করেছিলেন। এখন তাদের সেই দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া, শোভন-রাব্বানীর বলয় থেকে দূরে থাকা, সিন্ডিকেটমুক্ত থাকা, টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি থেকে দূরে থাকা, ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী তথা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করা, জেলা-উপজেলায় সম্মেলন করা, ছাত্রলীগের আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে আগামী সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মূল লক্ষ্য।


নতুন দুই নেতাও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমাদের মাধ্যমে যেন কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সব সময় কাজ করে যাব। ছাত্রলীগ কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না; কোনো চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। সুতরাং আমরা যদি কোনো প্রমাণ পাই যে কেউ চাঁদাবাজি করছে, ছাত্রলীগের দুর্নাম করছে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দিক-নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই আমরা চলব। আমরা যে দায়িত্ব পেয়েছি, সে দায়িত্ব পালন করব। ছাত্রলীগ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ছাত্রসংগঠন। এটা চালাতে হলে আমাদের অবশ্যই কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা বসে সার্বিক একটা পরিকল্পনা করব, ছক আঁকব। সেই ছক অনুযায়ী যে ১০ মাস সময় আছে, আমাদের যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, যেসব কমিটির বয়স দুই বছরের বেশি হয়েছে, সেগুলো বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী ছাত্রলীগ গড়ে তুলব।


ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য বলেন, আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আগামী ১০ মাসের মধ্যে কমিটিগুলো তৈরি করে একটি সুন্দর সম্মেলন উপহার দেয়া। ছাত্রলীগ নিয়ে যেন নেতিবাচক কোনো প্রশ্ন না ওঠে- আমরা সে পর্যায়ে ছাত্রলীগকে নিয়ে যাব।


এ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্যই দুজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বে যারা এসেছেন, তারা গঠনতন্ত্রের আলোকেই এসেছেন। দুর্নীতি করলে, অন্যায় করলে ছাত্রলীগের মতো সংগঠনে যে জায়গা হয় না, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতির দেয়া ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে।


সংগঠনটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, জয় ও লেখককে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করার মধ্য দিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি যে নীতিনৈতিকতাহীন রাজনীতি পছন্দ করেন না, তার উদাহরণ তিনি নিজেই তৈরি করেছেন।


ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে আল নাহিয়ান খান জয়


বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী খানের ছেলে জয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবার হাত ধরে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।


বরিশাল জেলা স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি দেয়া জয় উপজেলা ছাত্রলীগেও সম্পৃক্ত ছিলেন। এসএসসি পাস করে ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই এ কলেজে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে যায়।


উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনে আইন বিভাগে ভর্তি হন জয়। বর্তমানে তিনি অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পরই তার ডাক আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে।


মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জয়ের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার বাবা আব্দুল আলীম খানের হাতে উপজেলা ছাত্রলীগের পথচলা।


ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য


লেখক ভট্টাচার্যের গ্রামের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে। তিনি এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্র।


দায়িত্ব পাওয়ার পর লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করব। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশানুযায়ী কাজ করে যাব।


শোভন-রাব্বানীর কমিটি গঠিত হওয়ার ১০ মাস পর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩০১ জন বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ১নং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com