স্বপ্নের ভুবন ‘দ্য রিসোর্ট প্যালেস’
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:০৩
স্বপ্নের ভুবন ‘দ্য রিসোর্ট প্যালেস’
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে অনেকেই বিদেশে যান। কিন্তু দেশের মধ্যে একটা সবুজ স্বর্গ প্রকৃতি আর স্বপ্নবান মানুষেরা মিলে রচনা করেছেন, সেখানে একটিবার যাওয়া যেতে পারে।


দিনের বেলা পাখির ডাক আর রাতের বেলা ঝি ঝি পোকার ডাকের মাঝে প্রাকৃতিক পরিবেশে শোনা যায় শেয়ালের ডাক। আর চোখে পড়বে খরগোসের দৌঁড়ঝাপ। এর বাহিরেও সুযোগ সুবিধার এত বেশী সমাবেশ যা বাংলাদেশের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখানে দিনের সৌন্দর্য এক রকম। আর রাতের রূপ তো মোহনীয়, স্বর্গীয়।


হ্যাঁ বলছি, দ্যপ্যালেস রিসোর্ট এন্ড স্পা‘র কথা।


ঢাকা থেকে মাত্র ২০০ কি. মি. দূরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই এ রিসোর্টটির অবস্থান। উপজেলার পুটিজুরী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার অতিক্রম করে বৃন্দাবন চা-বাগানের পাশের রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা যাবে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দরতম স্থান এ রিসোর্টে।



১৫০ একর জমির ওপর নির্মিত এ রিসোর্টে রয়েছে অত্যাধুনিক সব সুবিধা। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সিলেট বিভাগের চা, কমলা লেবু, আনারস আর রাবার বাগানের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার পর বিশ্রাম আর রাত কাটানোর জন্য যখন একটি ভাল জায়গা খুঁজতেন, তখন তাদেরকে হতাশ হতে হত। তবে এখন আর সেই হতাশা নেই। প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা ৫ তারকা হোটেল দি প্যালেস রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।


আবাসনের জন্য এখানে রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় পাঁচ তারকাসুবিধা সমেত পাখিডাকা, ছায়াঢাকা ২৩টি ভিলা। তন্মধ্যে ১ বেডরুমের ৮টি বাংলোর প্রতি রাতের ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। ২ বেডরুমের ৮টি বাংলোর ভাড়া প্রতি রাতে ২৫ হাজার টাকা। ৩ বেড রুমের ৪টি বাংলোর ভাড়া প্রতি রাতে ৩৫ হাজার টাকা। ২টি প্রেসিডেন্সিয়াল ভিলার প্রতি রাতের ভাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এগুলোতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আর নামকরণে রয়েছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি। আমেরিকায় মুক্তিযুদ্ধের তহবিল গঠনে কাজ করা পন্ডিত রবি শংকর ও জর্জ হ্যারিসনের নামে নামকরণ করা হয়েছে ভিলা দুটির।



প্রধান টাওয়ারের বহুতল ভবনে থাকার জন্য আছে ১০৭টি রুম। আর রুমগুলো সাজানো হয়েছে প্রাসাদ বলতে যা বুঝায় তার স্বার্থকতা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তার সব দিয়ে। রুমগুলোর ভাড়াও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা। এক্সিকিউটিভ কিং ৫৫টি রুমের ভাড়া ১০ হাজার টাকা করে। সিগনেচার কিং ২২টি রুমের ভাড়া ১১ হাজার টাকা করে। আর সিগনেচার টুইন ৩০ রুমের ভাড়া ১২ হাজার টাকা করে।


প্যালেসে রয়েছে চারটি বড় সভাকক্ষ, ৪শ’জনের ব্যাংকুয়েট হল, ছোটদের খেলার জায়গা তিনটা, বিলিয়ার্ড, ফুটবল, বাস্কেটবল, ২টি টেনিস কোর্ট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ক্রিকেট নেট প্র্যাকটিস এর সুবিধা, দুটি জিম, রিমোট কন্ট্রোল কার রেসিংয়ের ব্যবস্থা। দুটো সুইমিংপুল (১টি পুরুষ আর একটি মহিলা), একদিক থেকে জলধারা এসে পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে, এটাকে নাকি বলে ইনফিনিটি পুল। এর চতুর্দিকে সবুজ ছন গাছগুলোও সিলেটের ঐতিহ্য। দুটো সিনেপ্লেক্স এর মধ্যে ১টি থ্রিডি ও অন্যটি টুডি। স্থাপত্যশৈলীর দেখা মেলে দুটি ঝুলন্ত সেতুতে। মসজিদটিতেও রয়েছে নির্মাণশৈলী। দুটো নিজস্ব বিদ্যুত কেন্দ্র থাকায় নেই কোন ভোগান্তি। ‘হেলিকপ্টার নামার হেলিপ্যাড আছে তিনটা। এগুলোও দেখার মত করে নির্মাণ করা হয়েছে।


লেকে মাছ ধরা যায়। মাছ ধরার জন্য রয়েছে বড়শি আর আধারের ব্যবস্থা। এক সাথে ৫০ জন এখানে মাছ শিকার করতে তবে মাছ শিকারের পর তা রান্না করতে যেতে হবে রেস্টুরেন্টে। এর জন্য দিতে হবে চার্জ।


চমৎকার নির্মাণশৈলীর মসজিদ আছে নিরালায়।



হাঁটার জন্য রয়েছে ৭ কিলোমিটার ট্রেইল। বাই-সাইকেল চালানোর জন্যও ট্রেইল রয়েছে। আর হাঁটা চলার সময় পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেমে মিষ্টি মধুর সঙ্গীত উপভোগ করার। ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে।


এখানে রয়েছে সব ধরনের মৌসুমী ফলের গাছ। অতিথিদেরকে এই ফল আপ্যায়ন করানো হয়। আর সব ধরনের সবজি চাষ করা হয় কমপ্লেক্সের ভিতরে। ফলে এখানে নেই কোনো ভেজাল খাবার। সেখানে রয়েছে ২টি ট্যারেস। একটি হল ফাউন্টেইন ভিউ ট্যারেস আর অপরটি হল টি-গার্ডেন ভিউ ট্যারেস।


পার্কিং জোনে রাখা যায় ৮০টি গাড়ি। আর অতিথিদের সেবা করার জন্য সেখানে কর্মরত রয়েছেন ২৯০ জন কর্মী। অতিথিদের যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য দর্শনার্থীদেরকে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয় না। এমনকি রেস্টুরেন্ট ও সিনেপ্লেক্সেও বাহিরের অতিথির প্রবেশ নিষিদ্ধ।


৫টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে প্যালেসে। এগুলো হলো : অলিভ রেস্টুরেন্ট, রেভ্যুলেশন ক্যাপে, নস্টালজিয়া, সাইগন ও সিসা লাউঞ্জ। অ্যারাবিয়ান খাবার সিসা ইতালিয়ান, মেক্সিকান, ইন্ডিয়ান, কন্টিনেন্টাল, ভিয়েতনামি খাবার এবং আন্তর্জাতিক বুফেতে মিলে সবধরনের খাবার। দুপুরের খাবারে জনপ্রতি ব্যয় হবে ১২৫০+ আর রাতের খাবারে জনপ্রতি ব্যয় হবে ১৫০০+। এখানে, উল্লেখ্য, ওদের এই খরচের সাথে কোন পানীয় ও পানি যুক্ত নয়। যার বিল যুক্ত হবে।



তবে এ রিসোর্টে প্রবেশসহ ভ্রমণে টাকার অংকটা বেশী ব্যয় করতে হয় বিধায় সবার পক্ষে এখানে আসাটা কঠিন। এখানে প্রতিরাতে অবস্থান করতে কমপক্ষে ২০ হাজার, উপরে লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। তারপরও প্রতিদিন দেশ-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠছে রিসোর্টটি।


প্যালেসে ঘুরতে হলে আপনাকে কমপক্ষে একরাত ঐখানে থাকার জন্য রুম বুকিং দিতে হবে। রুম বুকিংয়ের খরচের সাথে যে যে জিনিসগুলো ফ্রি পাবেন :


-দু’জনের জন্য সকাল বেলার ব্যুফে নাস্তা (৬০-৭০টি আইটেম থাকে, সকাল ১০:৩০ পর্যন্ত যত ইচ্ছা খান)। পাচঁ বছরের নিচে বাচ্চা হলে সে ফ্রী।


- পাঁচ তারকা মানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম যেখানে পাবেন ২ লিটার মাম পানি, চা/কফি বানানোর সরঞ্জাম, জুতো, টুথপেস্ট-টুথব্রাশ, সাবান, শ্যাম্পু, ওজন মাপার মেশিন, লোশন, লকার, শাওয়ার ড্রেস, ব্যাগ, পুরো এরিয়ার ম্যাপ, টিভি, কলম, প্যাড, চিরুনী, কটন, শাওয়ার ক্যাপ, লন্ড্রি ব্যাগ এমনকি সুই-সুতা পর্যন্ত।পুরো এরিয়া জুড়ে ফ্রী ওয়াইফাই।


কিভাবে যাবেন :


ঢাকা থেকে বাসে, ট্রেনে, গাড়িতে এবং হেলিকপ্টারে আসা যাবে এই প্যালেসে। ঢাকা থেকে সিলেট রুটের যেকোন বাসে উঠে বলবেন, হবিগঞ্জের ‍বাহুবল উপজেলার পুটিজুরি বাজারে নামিয়ে দিতে। পুটিজুরি বাজার বললেই ওরা বুঝবে। বাজারে নেমে যে কোনো সিএনজিকে বলবেন প্যালেস। ভাড়া নিবে ১০০ টাকা। একেবারে প্যালেসের গেটে নামিয়ে দিবে।


বিবার্তা/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com