ভাসমান শহর ‘ডাল লেক’
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৮:১২
ভাসমান শহর ‘ডাল লেক’
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে কাশ্মীরকে ‘ভূ-স্বর্গ’ বলে অবিহিত করা হয়। আর কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের মুকুট বলা হয় ডাল লেককে। কাশ্মীর শহরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত টুরিস্ট স্পট ডাল লেক। স্বর্গীয় মুকুটে পুরো দিন আর রাত থাকতে কে না চায়? তাই নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারেন ডাল লেকের এক সকাল-বিকেল-সন্ধ্যারাতে।


ডাল লেকের অবস্থান শ্রীনগর শহরের ঠিক মাঝখানে। লম্বায় ডাল লেক প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার আর প্রশস্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে পুরো ডাল লেক দেখতে আপনাকে ঘুরতে হবে ১৫-২০ কিলোমিটার। গভীরতা প্রায় পাঁচ ফুট থেকে কোথাও কোথাও ২০ ফুট পর্যন্ত।


ডাল লেকের চারপাশজুড়ে আছে নানা রকম দর্শনীয় মুঘল গার্ডেন, এদের মধ্যে অন্যতম শালিমার বাগ, নিশাত বাগ। আর ডাল লেকের শেষ প্রান্ত ঘেঁষে রয়েছে বিখ্যাত হজরতবাল মসজিদ। যেখানে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দাড়ি মোবারক সংরক্ষিত আছে। তবে বিশেষ বিশেষ দিনে এটা দেখার সুযোগ দেয়া হয়।


ডাল লেকের প্রধান আকর্ষণ হলো এর পানিতে ভেসে থাকা হাউস বোট। ডাল লেকের আসল রূপ উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে থাকতে হবে হাউস বোটে আর ভাসতে হবে রঙিন সিকারায়। পুরো ডাল লেকটাই যেন এক ভাসমান শহর। কারণ শ্রীনগরের সব কর্মকাণ্ড বা ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত এই ডাল লেককে কেন্দ্র করে। সুতরাং ওদের সব আয়ের উৎস্য এই একমাত্র ডাল লেকে বেড়াতে আসা টুরিস্টরা।



হাউস বোটে বসে বা সিকারায় ভেসে ভেসেই আপনি কিনতে পারবেন আপনার পছন্দের প্রায় সব রকম পণ্য । দামটাও বেশ নাগালের মধ্যে। শাল-পশমিনা-সালোয়ার কামিজ, কারুকাজ করা বেড কভার, গয়না, কাঠের নানা আসবাব ফুল-খাদ্য-মাছ-মাংসসহ পাবেন ভাসমান বাজারে। দোকান, রেস্টুরেন্ট এমনকি ভাসমান ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে মার্কেট পর্যন্ত সব আছে এই ভাসমান শহরে।


তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে মনোরম হলো হাউস বোটে থাকা আর সিকারায় ভেসে বেড়ানো। প্রথমেই হয়তো হাউস বোট বা ডাল লেক আপনাকে মুগ্ধতায় পাগল করে দিতে পারবে না। কিন্তু ধীরে, ধীরে ফ্রেশ হয়ে, নাওয়া-খাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নিয়ে যখন হাউস বোটের সামনের খোলা কাঠের বারান্দা বা পাটাতনে চেয়ার পেতে বসবেন, তখন থেকে মুগ্ধতা ঘিরে ধরতে শুরু করবে আপনাকে।


সকাল গড়িয়ে দুপুরের দিকে সূর্য হেলে পড়তেই আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে ঝলমলে ডাল লেক। বিকেলে অন্য ডাল লেক। দুপুরে যেটা শুধু লালের ছোঁয়া ছিল, এখন সেটা শত রঙের খেলায় মেতে উঠবে, এক-এক জায়গায় সূর্যের এক এক রকম রং লেগে থাকবে। সবুজ পাহাড়ে হয়ে যাবে হলুদ রঙ, নীল পানিতে হবে মেরুন, দূরের সাদা পাহাড়ে হয়ে যাবে গোলাপি আর লাল। কাছে-পিঠের গাছে গাছে আলোর ঝলকানি থাকবে।


সন্ধ্যারাতে ডাল লেক যেন সেজে ওঠে তার আপন রূপে। ডাল লেককে পুরোপুরি উপভোগের সময়ই হলো সন্ধ্যা থেকে রাত। হাজারো আলোর ঝলমলে বাতি জ্বলে উঠবে শত শত হাউস বোটের সামনের কাঠের বেলকনিতে। এক অভূতপূর্ব সৌন্দর্যের রূপ দেখতে পাবেন সন্ধ্যা আর রাতের ডাল লেকে। আলোয় আলোয় আলোকিত পুরো ডাল লেকের সব হাউস বোট।



ঢাকা থেকে ডাল লেক যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে কলকাতা। আর কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর এয়ারপোর্ট। এখান থেকে ডাল লেকের দূরত্ব ২৩ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। সময় লাগে ৩০-৩৫ মিনিট। আর যারা জম্মু থেকে ডাল লেকে আসবেন, তাদের পাড়ি দিতে হবে ২৭০ কিলোমিটার। সময় লাগবে ছয় ঘণ্টা বা তার চেয়ে কিছু বেশি।


থাকার খরচ
আপনি একটু কম খরচে আর কিছুটা নিজের মতো করে থাকতে চান তবে, একটি সিকারা ঠিক করে নিতে পারেন এক ঘণ্টার জন্য। যে কোনো হাউস বোটে পৌঁছে যাবেন কয়েক মিনিটের মধ্যে। যথেষ্ট ভালো আর আরামদায়ক, উন্নত মানের ডাবল বেডের হাউস বোট পাওয়া যায় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। লেক লাগোয়া হোটেলও পেয়ে যাবেন একই রকম দামে।


খাবার-দাবার
শ্রীনগরের ডাল লেকে খাবার খরচ জনপ্রতি ৩০০ টাকা প্রতিবেলা। চা বা কফি পাবেন ২০-২৫ টাকায়। ডিম ৬০ টাকা, সিঙ্গেল ভাত ৬০ টাকা, এমনি খাবারের সাথে সালাদের দামও রাখবে আলাদা।


বিবার্তা/জাকিয়া/যুথি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com