ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দৃষ্টিতে ভালো যাত্রীর বৈশিষ্ট্য
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ১০:১৮
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দৃষ্টিতে ভালো যাত্রীর বৈশিষ্ট্য
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দৃষ্টিতে বিমানযাত্রীদের মধ্যে কারা ভালো যাত্রী হিসেবে গণ্য। আপনি জানেন কি? দুর্ব্যবহার করা আর অযাচিতভাবে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী যাত্রী কারো পছন্দ না। একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দৃষ্টিতে ভালো যাত্রীর বৈশিষ্ট্য নিয়েই এ লেখা।


নিজের ব্যাগ নিজ দায়িত্বে রাখুন: যাত্রীরা সবাই যদি আশা করে যে, তাদের ব্যাগ একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উঠিয়ে দেবে, তাহলে তা সত্যিই কঠিন। কারণ শত শত যাত্রীর ভারী ব্যাগ ওপরে তোলা যেমন কঠিন তেমন এতে সময়ও নষ্ট হয়। আপনি যদি সুস্থ-সবল ব্যক্তি হন তাহলে নিজের কাজটি নিজেই করে নিন।


কম্পার্টমেন্ট বোঝাই ও সিট খোঁজা: ওভারহেড কম্পার্টমেন্ট নিজেই বোঝাই করুন, নিজের সিট নিজেই খুঁজে নিন। অনেক সময়েই যাত্রীরা তাদের ব্যাগ ঠিকঠাক ওভারহেড কম্পার্টমেন্টে ঢোকান না। অনেকেই যাতায়াতের রাস্তাতে ব্যাগ ফেলে রাখেন। ফলে অনেক সময়েই বিমানযাত্রায় সময় নষ্ট হয়।


ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার করুন: যে কাউকে অনুরোধ করলে তার সঙ্গে ‘প্লিজ’ বলাটা স্বাভাবিক ভদ্রতার মধ্যে পড়ে। কোনো কাজের পর ধন্যবাদ জানানোটাও তার কাজের স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয়। বিমানে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আপনার জন্য কোনো কাজ করলে ভাববেন না যে, এটি তার দায়িত্বের অংশ বলেই করলেন। তারা সবাই মানুষ এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। কিন্তু এটা খুবই আশ্চর্যজনক অনেকের মধ্যে সাধারণ ভদ্রতাগুলোও করতে দেখা যায় না। এক্ষেত্রে সবার জানা উচিত, কর্মক্ষেত্রে ভদ্র আচরণ পাওয়া প্রত্যেক কর্মীরই অধিকার।


দৃষ্টি সংযত রাখুন: বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নারী বা পুরুষ হেঁটে যাওয়ার সময় অনেকেই তাদের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকেন যে, তাদের স্বাভাবিক কাজের বিঘ্ন ঘটে। এছাড়াও অনেকেই বিমানের ভেতর তাদের কাজের স্থানে উঁকি মেরে কার্যক্রম লক্ষ্য করার চেষ্টা করেন। তাদের এমন আচরণে বিমানের কর্মীদের কাজে যে শুধু ব্যাঘাত ঘটে তাই নয়, এতে অস্বস্তিতেও পড়েন তারা।


ব্যবহার করুন ‘ওয়েক মি আপ’স্টিকার: অধিকাংশ বড় ফ্লাইটেই সিটের সঙ্গে একটা স্টিকার দেয়া থাকে, যাতে লেখা থাকে ‘খাবারের সময় আমাকে ডেকে দিও’এমন স্টিকার থাকলে খাবার দেয়ার সময় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আপনাকে নিশ্চিন্তে ডেকে দেবেন। কিন্তু এমন স্টিকার না থাকলে অনেক যাত্রী খাবারের সময় ডাকলে বিরক্ত হন। অনেকে আবার না ডাকলেও বিরক্ত হন। ফলে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনার প্রয়োজনে স্টিকারটি ব্যবহার করুন।


খাবার: খাবার গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই, বরং তা প্রত্যাখ্যান করাই ঝামেলা। বিমানে প্রত্যেক যাত্রীর জন্যই পর্যাপ্ত খাবার মজুদ থাকে। এ খাবার গ্রহণ করার সময় যার হাত থেকে নিলেন তার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না।


অগোছালো ট্রে নয়: খাবার খাওয়ার পর আপনার ট্রে যদি পুরোপুরি অগোছালো থাকে, তা গোছাতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। আর এভাবে ৬৪ জন যাত্রীর ট্রে গোছাতে দুই মিনিট করে লাগলে তাতে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে।তাই অন্য একজন মানুষের কথা চিন্তা করে হলেও আপনার ব্যবহৃত ক্যান, গ্লাস, টিসু পেপার, খাবারের প্লেট ইত্যাদি এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন যেন তা সহজেই ফেরত দেয়া যায়। আর এক্ষেত্রে সময়টাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি সময়মতো খাবার খাওয়া শেষ না করেন তাহলেও এটা খুবই ঝামেলাপূর্ণ হয়ে যায়।


গ্যালারিতে আসুন: আপনার যদি অতিরিক্ত কোনো পানীয় কিংবা হালকা খাবার প্রয়োজন হয় তাহলে বিমানের গ্যালারিতে যাওয়াই ভালো। অধিকাংশ বিমানের পেছনের দিকেই এটি থাকে। যাতায়াতের সময় একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে ডেকে কোনোকিছু চাওয়ার চেয়ে এটি অনেক ভদ্র পদ্ধতি।


সময়মতো হেডসেট ও কম্বল ফেরত দিন: বিমানযাত্রার শেষ দিকে বিমানের যাত্রীদের কাছ থেকে হেডসেট নেয়ার দায়িত্বে একজন নিয়োজিত থাকেন। আপনি সিনেমাটির মাঝপথে আছেন কিনা, এটি তার দেখার বিষয় নয়। কারণ তার কাজ বিমানটি সময়মতো পরিষ্কার করে আবার নতুন করে সাজিয়ে যাত্রী ওঠানো। এখানে আপনার সিনেমা দেখার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তার কাজ। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের হেডফোনগুলোর তার মানুষের দুর্ঘটনার কারণ হয়। তাই সেগুলো তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নেয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকে। অনুরূপ বিষয় কম্বলের জন্যও প্রযোজ্য।


বিবার্তা/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com