পর্যটক আগ্রহে বরিশালের সাতলা শাপলা বিল
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩০
পর্যটক আগ্রহে বরিশালের সাতলা শাপলা বিল
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সাতলা বিল বা সাতলার শাপলা বিল।যেখানে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শাপলার এক বিশাল সমারোহ যেন শাপলার রাজ্য। বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় অবস্থিত একটি দর্শনীয় বিল।


লতাপাতা গুল্মেভরা বিলের পানিতে ফোটা শত সহস্র শাপলা যেন সূর্যের লাল আভাকেও হার মানিয়েছে। কখনো কখনো চোখ ধাঁধিয়ে যায় বা মন জুড়িয়ে যায়। ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় চেপে হারিয়ে যাওয়া যায় শাপলা ফুলের এই রাজ্যপাটে।


বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলায় সাতলা গ্রামে গেলে দেখা মিলবে নয়নাভিরাম এক দৃশ্যের। প্রায় ১০ হাজার একর জলাভূমি জুড়ে এরকম লাল শাপলার আধিক্য। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় শাপলা চাষ ও এর বিপণনের মাধ্যমে। সাতলা বর্তমানে একটি পর্যটক মুখী এলাকা হলেও এটি একটি বিলের নাম। এই বিলে প্রাকৃতিক-ভাবে শাপলা ফোটে। ছোট নদী, হাওর ও বিলবেষ্টিত ছোট গ্রাম সাতলা।


সবচেয়ে বেশি শাপলার উপস্থিতি দেখা যায় সাতলার নয়াকান্দি ও মুড়িবাড়ীতে। এখানে মার্চ/এপ্রিল থেকে শুরু করে নভেম্বর/ডিসেম্বর পর্যন্ত শাপলার দেখা মেলে। বিলের চারপাশ সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা।


হারতা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতে, আষাঢ় থেকে কার্তিক—এই পাঁচ মাস সাতলা বিলে ফোটে লাল শাপলা। বিলের সৌন্দর্য উপভোগের উপযুক্ত সময় শরতের শেষ ভাগ থেকে হেমন্তের মাঝামাঝি। ভোর থেকে সকাল আটটা এবং পড়ন্ত বিকেলে শাপলার রূপ-সৌন্দর্য বেশি। সূর্যের তেজ বাড়তে থাকলে শাপলা ফুলের পাপড়ি ছোট হয়ে যায়।


যেভাবে যাবেন:


ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে বরিশাল। লঞ্চ থেকে নেমে একটা মাহেন্দ্র (সিএনজি সদৃশ যান) রিজার্ভ করে সোজা সাতলা চলে যেতে হবে। এক মাহেন্দ্রতে সর্বোচ্চ ৭ জন বসতে পারে। ভাড়া নিতে পারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার (আনুমানিক)। রিজার্ভ করার সময় বলে নিবেন যে সাতলার বাগদা অথবা নয়াকান্দি নামক স্থানে যাবেন। যা কিনা সাতলা বাজারের পরে অবস্থিত। না চিনলে সাতলা বাজার গিয়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলেই পথ দেখিয়ে দিবে।


বরিশালের নথুল্লাবাদ থেকে শিকারপুর হয়ে সাতলা পর্যন্ত বাস আছে। ভাড়া ৯০ টাকা। কিন্তু বাসে গেলে বেশি সময় লাগবে। সাতলা গিয়ে ডিঙ্গি নৌকা ভাড়া নিয়ে বিল ঘুরবেন। নৌকা ও লোকজনের পরিমাণ ভেদে নৌকায় ভ্রমণের জন্য এ খরচের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হতে পারে। কেউ চাইলে ঢাকা-হুলার হাট-ভাণ্ডারিয়া রুটের লঞ্চে (ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ এবং সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার) স্বরূপকাঠি নেমে স্থানীয় ট্রলারযোগে মিয়ারহাট থেকে বৈঠাকাটা-চৌমোহনা হয়ে সাতলা যেতে পারেন। ট্রলারে যাওয়ার জন্য যাতায়াত বাবদ ১ হাজার ৫০০-২ হাজার ৫০০ টাকা লাগবে। কেউ স্থলযোগে বাসে আসতে চাইলে হানিফ, সাকুরা, সোনারতরী বা বিআরটিসি বাসে সরাসরি বরিশাল এসে সাতলার বাসে যেতে পারেন। আর স্বরূপকাঠি পর্যন্ত বাসে আসার জন্য হানিফ, সোনারতরী বা সুগন্ধা পরিবহনে আসতে পারেন।


উল্লেখ্য সাতলার বিলে থাকার জন্য খুব ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে রাত যাপনের জন্য স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তাদের আশ্রয়ে থাকা যেতে পারে। পার্শ্ববর্তী হারতা বাজারে রাতে থাকার জন্য স্বল্প খরচের দুটি হোটেল আছে যেখানে হয়তো খুব আরামদায়ক হবে না সবার জন্যে। আরামদায়ক রাত যাপনের জন্য অবশ্যই উজিরপুর বা বরিশালের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি সাতলার স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন।


বিবার্তা/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com