সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭০ বছরে ছাত্রলীগ
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৩
সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭০ বছরে ছাত্রলীগ
শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৪ জানুয়ারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘শিক্ষা শান্তি প্রগতি’শ্লোগান দিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী গঠন করেন ছাত্রলীগ। সংগঠনটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ গঠনের এক বছর আগেই ছাত্রলীগ গঠন করেন বঙ্গবন্ধু। প্রজ্ঞাবান এই নেতা জানতেন, মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই পারে মানবীয় দেশ গড়ে তুলতে।


বাস্তবেই বিশ্ববাসী দেখেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৫৮ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ‘৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬ সালে ছয় দফা ও ১১ দফা দাবি প্রণয়ন, ‘৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ‘৭০ সালের নির্বাচন, ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনে ছাত্রলীগের কর্মীরাই ছিল অগ্রসৈনিক। তারা অকাতরে জীবন দিয়েছে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, রক্ষা করেছে বাঙালি জাতির সম্মান ও অধিকার।


জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলার গঠনের কাজেও এ ছাত্রসংগঠন অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। একাত্তরে জাতির পিতা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তখন জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’শ্লোগান দিয়ে এই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই সর্বাগ্রে রাজপথে বেরিয়ে আসেন। এ সংগঠনটির ১৭ হাজার নেতাকর্মী বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিতে জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন।


বাংলাদেশের কোনো সংগঠন সাংগঠনিকভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। একমাত্র ছাত্রলীগই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা করে সাংগঠনিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়, যা বাংলাদেশের কোনো সংগঠন করেনি। অন্যান্য সংগঠনের নেতারা যুদ্ধ করেছেন ব্যক্তিগত জায়গা থেকে। একমাত্র ছাত্রলীগই সাংগঠনিকভাবে যুদ্ধ অংশ নেয়। সুতরাং বুকের তাজা রক্ত দিয়ে কেনা বাংলাদেশের মানচিত্রে বড় একটি অংশের দাবিদার এই ছাত্রলীগ।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে সর্বপ্রথম প্রতিবাদী মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ’৭৫-পরবর্তী মৃত্যু উপতক্যায় পরিণত হওয়া বাংলাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আত্মদানের এই মিছিল কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি। বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, অনাহার ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি সংগ্রামেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।


১/১১-পরবর্তীকালে চাপিয়ে দেয়া অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ কারণে গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে থাকেন, বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই ছাত্রলীগের ইতিহাস। যা বঙ্গবন্ধুও বলে গেছেন বারংবার। অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরশাসকদের হটাতেও এই ছাত্রসংগঠন গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা রেখেছে।


সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে এ সংগঠনের। থাকবেই না কেন? শান্তিকামী বিশ্বের অগ্রসৈনিক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ ছাত্র সংগঠন। কারণ এ ধরা জানে, মহৎ, সৎ ও পরমতসহিষ্ণু হৃদয়ের উদ্দেশ্যই থাকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কল্যাণ। এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতেও দরকার হয় অগণিত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর। শুধু কর্মী থাকলেই চলে না, এদেরকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, দেখাতে হয় সঠিক পথ। ছাত্রলীগের সৃষ্টিকাল হতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অত্যন্ত সফলতার সাথে এ মহান দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন। হয়েছেন বাংলার ইতিহাসের নায়ক।


ছাত্রলীগ মানবতার কল্যাণে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে দেশের ৫০ লক্ষাধিক ছাত্রকে নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু যত মানবীয় নিয়ম নীতি রক্ষার বাহক হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠন করে গেছেন।


বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর দেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ছাত্রলীগ। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই ছাত্রসংগঠন অসহায় মানুষের পাশে বার বার দাঁড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানবতার চেতনার পথে শান্তি আর মুক্তির বার্তা দিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। মানবতার ডাকে এই ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা নিজের রক্ত দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকার দৃশ্য একাধিকবার দেখেছে শান্তিকামী বিশ্ব। ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বসের সময় হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়েছে এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেবে না কেন? ছাত্রলীগের রক্তের প্রতটি ফোঁটায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মানবতাবাদী দর্শন, রয়েছে ত্যাগের মহিমার রক্ত ঝরানোর ইতিহাস, অধিকার আদায়ের প্রাণ বিসর্জন দেয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস। শুধু রক্ত দিয়েই প্রকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষান্ত থাকেনি এ সংগঠন। তাঁরা বিপন্ন মানুষের পেটে অন্ন এবং বস্ত্রহীনে বস্ত্র তুলে দেয়ার বিরল নজির স্থাপন করেছে একাধিকবার।


২০১৫ সালের এপ্রিলে নেপাল যখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু উপতক্যায় পরিণত হয়, ছাত্রলীগের তখনকার মানবীয় দায়িত্ব পালনের কথা ভুলে যাওয়ার নয়। নেপালবাসীর চরম দুর্দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নেপালবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগও। ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড নেপালিজ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ’-এর হাতে নগদ ছয় লাখ টাকা তুলে দেন সংগঠনটির তৎকালীন নেতারা। পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেপালবাসীর জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তহবিল সংগ্রহ করেছে।


দেশরত্ন শেখ হাসিনার অন্যতম সফলতা ছিটমহল সমস্যার সমাধান। সেই বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫০০০০ গাছ লাগায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সঙ্কটে মাদার অব হিউম্যানেটি শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও মানবতার আহবানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগ বিপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠিত মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে তিন মাসের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের মাঝে টানা চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করে যাচ্ছে, যা একটি ছাত্রসংগঠনের জন্য গর্বের বিষয় হতে পারে, কিন্তু ছাত্রলীগের জন্য স্বাভাবিক। কারণ, ছাত্রলীগ তার সূচনালগ্ন থেকেই মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।


অতীতে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বর্তমান সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় কর্মী তৈরীর মাধ্যমে দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলছে প্রতিনিয়ত। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিজ মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকবে, দীপ্তি ছড়াবে যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী।


লেখক : সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com