চারিদিকে পোড়া গন্ধ আর নিঃস্ব মানুষের হাহাকার
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২১
চারিদিকে পোড়া গন্ধ আর নিঃস্ব মানুষের হাহাকার
আকরাম হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর মিরপুর-১০ নাম্বারের ঝিলপাড়া বস্তিতে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যার পরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৫০০ অধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে বস্তিতে বসবাস করা কয়েক হাজার মানুষ। দুর্ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের কারণ এখনো জানা যায়নি।


শনিবার (১৭ আগস্ট) সরজমিনে দেখা য়ায়, পুড়ে যাওয়া বস্তির ছাইয়ের স্তুপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এখানে সেখানে ছড়িয়ে রছেয়ে সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত আসবাপত্রের পোড়া ধ্বংসস্তূপ, আর সব হারানো মানুষের হাহাকার। কেউ কেউ পোড়া ভিটায় চুপচাপ বসে রয়েছেন।



বস্তির প্রবেশ মুখে এক নারী বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার আব্বার সব শেষ হয়ে গেছে। আব্বার কিচ্ছু নেই। এখন আমার আব্বার কি হইবো?


নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদের ছুটিতে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন সায়মা আক্তার। গতকাল কর্মস্থলে চলেও যেতে চেয়েছিলেন তিনি। মায়ের অনুরোধে আরো একদিন থেকে যান ঝিলপাড়া বস্তির বাবার বাড়িতে। আর তাতেই স্বচোখে দেখলেন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সন্ধ্যার পর পরই পরিবারের সবাই যখন বাসার বাইরে ঠিক তখন সায়মা আক্তার ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে রুমে খেলছিলেন। হঠাৎ করে শোনে বস্তিতে আগুন লেগেছে। সব কিছু ফেলে ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে বস্তির বাইরে চলে আসেন। কি ঘটতে চলছে তা বুঝে ওঠার আগেই চারিদেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বস্তিতে থাকা তার ভাইয়ের দোকান, ঘর সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।



রুপা নামের এক নারী বলেন, গতকালের আগুন আমাদের আঁধ মরা করে তুয়ে গেল। এর থেকে একেবারে মেরে ফেলা ভালো। আমাদের সব তো শেষ হয় গেছে। আমাদের আর কিছু নেই। এখন আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আমাদের মতো গরিব মানুষের শুধু ক্ষতি হয়। আমাদের কষ্টের জীবন কষ্টেই গেল।


তানিয়া নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষর্থী বলেন, আগুন লাগার পর বস্তির সবার সঙ্গে আমি দৌঁড়ে বের হয়েছি। বস্তিতে আনন্দ নামের একটা স্কুল ছিল। সেখানে আমি ক্লাস ফোরে পড়তাম। আগুনে আমাদের স্কুলও পুড়ে গেছে। আমি এখন স্কুলেও যেতে পারবো না।



সত্তুরের উপরেএক বৃদ্ধারও ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। দুপুরের দিকে দেখা যায় চুপচাপ পোড়া ভিটায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। বিবার্তার কাছে কান্না করতে করতে বলেন, আমি ১৮ বছর ধরে মানুষের বাসায় কাজ করি। আমার সহায়-সম্বল বলতে যা ছিল সব ওই ঘরে। আগুন লাগার পর আমি কোনো রকম বের হতে পেরেছি। সাথে কিছুই নিতে পারি নাই। কিছু অবশিষ্টও নেই, সব শেষ হয়ে গেছে।


নিজের সম্পদ বলতে অবশিষ্ট আছে গায়ে জড়ানো শুধু একটা কাপড়। আগুন লাগার পর বস্তি থেকে বের হওয়ার সময় পায়ের স্যান্ডেল কোথায় হারিয়েছে তা ঠিক নেই।



অগ্নিকাণ্ডের ফলের কয়েক জন আহত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ঈদের সময় অধিকাংশ বস্তিবাসী গ্রামের বাড়িতে গেছে।এখনো সবাই ঢাকা ফেরেনি। এ কারণে বস্তিতে মানুষজন কম ছিল। যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও কোনো প্রাণহানী হয়নি।


বিবার্তা/আকরাম/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com