টানা বৃষ্টিতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১০:১৭
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকায় বন্যার পানি না এলেও অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানিতে সয়লাভ হয়ে গেছে। অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লাসহ বৃষ্টির পানি বাসা-বাড়িতেও প্রবেশ করেছে। এতে ভোগন্তির শিকার হচ্ছেন রাজধানীবাসী।


শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।


সরেজমিন দেখা গেছে- পুরান ঢাকার সিক্কাটুলী লেন, আসাসাদেক রোড, আলা উদ্দিন রোড, কারওয়ান বাজারের পশ্চিম তেজতুরী বাজার, বসুন্ধরা শপিং মলের পেছনের গলি, পূর্ব তেজতুরী বাজার, নাখাল পাড়ার বেশ কিছু এলাকা, মালিবাগের কয়েকটি গলি, রামপুরার বিভিন্ন গলি, মিরপুরের বিভিন্ন জায়গা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকায় বাসা-বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।


পশ্চিম তেজতুরী বাজারে বাসিন্দা সাবানা আক্তার বিবার্তাকে জানান, গত তিন দিন থেকে এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তাদের মহল্লায় পানি জমে গেছে।


অল্প বৃষ্টিতে মহল্লায় পানি জমে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই দিনে আমার বাসায় তিনবার পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টি কমলে পানিও চলে যায়। তবে ময়লা পানি বাসায় প্রবেশ করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও বাসা পরিষ্কার করতেও অনেক কষ্ট হচ্ছে।


তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি ও পানির কারণে পরিবারের কেউই বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। বের হলে রিকশায় বের হতে হচ্ছে।


এমন বৃষ্টিতে সাবানার মতো রাজধানীতে আরো অনেকেই ভাগান্তিতে রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঢাকা শহরে এটা নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি হলেও প্রায় সব এলাকায়ই জলবদ্ধতা দেখা দেয়।



এর আগে শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে পশ্চিম তেজতুরী বাজার হালিম কমিউনিটি সেন্টার ও একই এলাকাস্থ বসুন্ধরা সিটির পেছনের একটি গলিতে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে। রাস্তার পাশে অনেক দোকান ও বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য রিকশা চালকরা ১০ টাকার বিনিময়ে পানি পার করছেন।


স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় সুবিধাভোগী কিছু রিকশাচালক সেখানে অবস্থান করেন। তারা শুধু পানি পারাপারের জন্য জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা করে নেন।


একই অবস্থা পুরান ঢাকার সিক্কাটুলী লেন, আসাসাদেক রোড, আলা উদ্দিন রোড এলাকায়ও।


শুক্রবার রাতে সিক্কাটুলী লেন ও আসাসাদেক রোড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় পানি জমে আছে। এ এলাকায় অনেক বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। বাসিন্দাদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছেন রিকশা ও সিএনজিচালকরা।


সিক্কাটুলী লেনের বাসিন্দা সাদিক মিয়া বিবার্তাকে বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যায়। তবে শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। তাই পানির পরিমাণও বেশি। এতে অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে।


তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি হলেই রিকশাচালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ২০ টাকার ভাড়া তখন ৫০ টাকা হয়ে যায়। ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অনেকেই প্রয়োজন থাকলেও বাসা থেকে বের হন না।


এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আরো পাঁচ দিন আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. শামসুদ্দিন আহমেদ বিবার্তাকে জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়াও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রাও সামান্য বাড়তে পারে।


বিবার্তা/খলিল/উজ্জ্বল/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com