বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৩১
বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর হাতিরঝিলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।


সর্বোচ্চ আদালত ভবন ভাঙার রায় দেয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিলেন তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা। সবশেষ আদালতের দেয়া সাত মাস সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে ১৫ তলা ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেন রাজউক কর্মকর্তারা। ভবন ভাঙার আধুনিক সব যন্ত্রপাতিও রয়েছে তাদের সঙ্গে।


তবে পুরো ভবনটি কখন কীভাবে ভাঙা হবে, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে বুলডোজার, ভেক্যু মেশিনারিজসহ রাজউকের একটি দল বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।


অলিউর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিজিএমইএ ভবনে এসেছেন তারা। ভবনটিতে এখনো দু–একটি অফিস রয়েছে। তাদের মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য লোক ডাকা হয়েছে।


পুরো ভবন আজই ভেঙে ফেলা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, এই যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা ভবন ভাঙার কার্যক্রমেরই অংশ।



অলিউর রহমান বলেন, হাতিরঝিল লেকের ভেতরে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ’র বহুতল ভবন ভাঙার জন্য আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছি। ভবন ভাঙার জন্য আমাদের বুলডোজারসহ অন্যান্য গাড়ি এখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিস আছে। ব্যাংকের ভল্টে টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল তারা সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। আমাদের কাছ থেকে তারা দুই ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছে। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে সময় ও সুযোগ দিয়েছি।


তিনি আরো বলেন, এটি একটি ১৫ তলা বিল্ডিং। এখানে আরো অনেক অফিস আছে। তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়া হলে আমরা ভাঙার কাজ শুরু করতে পারবো। শুরুতে আমরা প্রাথমিক কাজগুলো করছি।


এর আগে সোমবার রাতে রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ভবন ভেঙে ফেলা হবে। তবে কবে, কখন এই ভবন ভেঙে ফেলা হবে, সে বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যানও নিশ্চিত করেননি।


১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে।


২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়।


রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।


কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা। বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনের ওপরের দুই তলা নিয়ে বিলাসবহুল ‘অ্যাপারেল ক্লাব’ করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্টুরেন্ট ও সভাকক্ষ আছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com