‘অধিকার আদায় করতে নিতে হবে মেয়েদের’
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৯
‘অধিকার আদায় করতে নিতে হবে মেয়েদের’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার ফলে আমরা আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, আরো এগিয়ে যাব। আর এ অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমরা নারীর সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবো।


তিনি বলেন, এজন্য মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। তারা যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তাহলে পরিবারেও তাদের গুরুত্ব বাড়বে। অধিকার আদায় করতে নিতে হবে মেয়েদের। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পরিমিবোধও বাড়াতে হবে। তবে অধিকার আদায় করতে গিয়ে পারিবারিক ঝামেলা যেন না সৃষ্টি হয়।


বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৮ উপলক্ষে রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতি বছরের মতো এ বছর বেগম রেকেয়া দিবসে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


এ বছরে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেলেন- সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার, প্রফেসর জোগরা আনিস, শীলা রায়, রমা চৌধুরী (মরনোত্তর) ও রোকেয়া বেগম।


পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ গ্রাম স্বর্ণের পদক, একটি সার্টিফিকেট ও দুই লাখ করে টাকা দেয়া হয়। পদকপ্রাপ্ত জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার নিজের অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এ পদককে তিনি বাংলাদেশের নারী সমাজকে উৎসর্গ করেন।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মনে রাখতে হবে সংসার সুখের হয় রমনির গুণে। মেয়েদের বেশি আয়ুষ্কালের হয়, বেশি কষ্ট সহিষ্ণু হয়। সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নাম আমরাই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করেছি। মা জন্ম দেন। মা-ই বোঝেন সন্তান জন্ম দেয়ার কষ্ট।


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এদেশের নারীসমাজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আমরা স্থানীয় সরকারের নারীর অংশগ্রহণের কোটা ৩০ শতাংশ নিশ্চিত করেছি। মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানাবিধ দিকে নারীর ভাগ্যের উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি।


তিনি বলেন, আমরা আগমীতে প্রতিটি উপজেলায় কর্মজীবী নারীদের হোস্টেল করে দেব। যে হোস্টেলে থেকে নারী তার কর্মস্থলে সহজেই যোগ দিতে পারবেন। তাদের জীবন যাত্রাকে সহজ ও শান্তিময় করতে পারবে।


তিনি আরো বলেন, এছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। যেখানে দেশী-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।


শেখ হাসিনা বলেন, নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়েছে আমাদের উপমহাদেশের নারীরাই। আমরাই প্রথম প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়েও নারীদের অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।


তিনি বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের নারীসমাজের প্রতি আহবান জানান।


তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বৃথা যেতে দেইনি, দেব না। বেগম রোকেয়া স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা জজ হবে, ব্যারিস্টার হবে, বিচারপতি হবে। আজ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সচিব, মেজর জেনারেল সবই হচ্ছে মেয়েরা। আমরা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি।


তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা আজ সকল স্তরে সুযোগ পাচ্ছে। নারীরা আজ পুলিশ, বিজিবি, এসপি, ডিসি, সচিব, বিচারপতি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে নিয়োজিত আছেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। আজ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী, উপনেতা সবাই নারী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা এতবড় দেশ। সেখানে কিন্তু একজন নারী প্রেসিডেন্ট তারা করতে পারেনি। সেদিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে আছি।


তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ নির্মূলের জন্য ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। উপবৃত্তি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং জেন্ডার সমতায় সরকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে নারীরা আজ কর্মমুখী। বেড়েছে নারীদের কর্মসংস্থান।


বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এ দিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।


দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com