ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২৩
ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
টেলিভিশন থেকে নেয়া ছবি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের একটা স্বাভাবিক বিষয়। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই ষড়যন্ত্র করে আগামী নির্বাচন ঠেকানো যাবে না।


তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি জয়লাভ করতে পারি, তবে আমার লক্ষ্যই হবে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়ে তোলা।


সোমবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলছিলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি করার স্বাধীনতা সবার আছে। সেজন্য অন্যান্য দলগুলোকেও রাজনীতির চর্চা করার স্বাধীনতা আমি নিশ্চিত করেছি।নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদের ভূমিকা কী? যে যত ষড়যন্ত্রই করুক না যথা সময়ে নির্বাচন হবে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলার স্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। ৭৫ এর পর মানুষ সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সেটাকে সাধুবাদ জানাই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জোট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গি সেটা দেখতে হবে। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না।


শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ মানুষ এটাকে কীভাবে দেখছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে করুন। এখানে অসুবিধার তো কিছু নেই।


প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ নানা চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। দিন বদলের পালা শুরু হয়ে গেছে, আমরা দারিদ্রের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যা আগে ছিল ৪০ শতাংশ। সাথে সাথে আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর অবহেলিত কোনো দেশ নয়, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।


দফা কত উঁচু হয় সেই অপেক্ষায় আছি


সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতদিন তাদের দাবি ছিল ৪টি। এখন তা সাত দফা হয়েছে। দফা কত উঁচু হয় সেই অপেক্ষায় আছি।


অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐকবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে।


সৌদি সফর দু’দেশের সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।


প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক, বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা তুলে ধরেন। উল্লেখ করেন অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথাও।


তিনি বলেন, সৌদি বাদশাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।


সুশীল সমাজ সুশীল-ই থাকুক। নির্বাচনকালীন সরকারে এলে তাদের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রয়োজনে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা বড় হবে।


তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট করা এখন অসম্ভব। অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। এমন সময় মন্ত্রিসভা ছোট করবো কীভাবে? তবে বিরোধী দল দাবি করলে, বিষয়টি বিবেচনা করবো।


নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের পরিসর কেমন হবে? মন্ত্রিসভা ছোট করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিভিন্ন দেশের বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলেছি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছি। গতবার আমি বলেছিলাম, বিভিন্ন দল থেকে নিয়ে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের। তবে এবারের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা তো আছেন। এই সময়ে এত প্রজেক্ট চলছে, একজন মন্ত্রীর পক্ষে কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেখা অসম্ভব। ইতোমধ্যে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে। যদি মন্ত্রিপরিষদ ছোট করা হয় তাহলে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাদের একজন মন্ত্রীর কাঁধে আসবে। ফলে প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ব্যাহত হবে কিনা তাও দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমি চাই প্রকল্পগুলো তাড়াতাড়ি শেষ হোক।


তারপরও আমি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবদেশে মন্ত্রিসভা রেখেই নির্বাচন করা হয়। তাই দেখি কি করা যায়। এরপরও বিরোধী দল চাইলে মন্ত্রিসভা ছোট করার বিষয়টি বিবেচনা করবো।


সুশীল সমাজের কোনো প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় থাকবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশীলরা সুশীলই থাক। মন্ত্রিত্ব পেলে তাদের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।


নব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি করা। তৃণমূল পর্যায়ে যারা বাস করে তারা কি পেল, তাদের ভাগ্য কেমন ভাবে পরিবর্তন হবে সে দিকটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। যতদিন আপনারা থাকবেন, জনগণদের কি দিতে পারলেন তার হিসেবটা আপনাদের দিতে হবে।নারী সাংবাদিকদকে জঘন্য ভাষায় বক্তব্যে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু করার আগেই তিনি আদালতে গিয়েছিলেন। আর তার বিরুদ্ধে শুধু একজন নারীর মামলার কেন? অন্য নারীদেরও করতে হবে। তার বিরুদ্ধে মামলা করুন, আমরা যা করার করবো।


সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে চার দিনের সরকারি সফর শেষে গত শুক্রবার মধ্যরাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি বাদশাহ এবং দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গিয়েছিলেন।


বিবার্তা/শারমিন/কাফী


>>পথচারীদের স্বভাব বদলাচ্ছে না : প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com