জাতি পাপের কালিমালেপন থেকে মুক্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:২০
জাতি পাপের কালিমালেপন থেকে মুক্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, তারা অন্যায় করেছে, তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হয়েছে। এ রায়ে অবশ্যই আমি খুশি।


তিনি বলেন, যারা অন্যায় করবেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায় করলে শাস্তি হবে, এ রায়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়েছে।


এর আগে বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এতে বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।


একইসাথে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয় আরো ১১ আসামিকে।


সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি পাপের কালিমালেপন থেকে মুক্ত হয়েছে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। বিচার বিভাগ যা মনে করেছেন সেভাবেই রায় দিয়েছেন, এ নিয়ে সরকারের কিছু বলার নেই।


তিনি বলেন, রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়াসহ যারা বিদেশে পলাতক রয়েছেন তাদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে।


জনগণ তারেক রহমানের ফাঁসি প্রত্যাশা করেছিল, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিচারক যথেষ্ট বিবেচনা করে এই রায় দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করলে আপিলে যেতে পারেন। যোগ্য বিচার হয়েছে, যারা অপকর্ম করবে তাদের বিচার হবে, এই রায় তার প্রমাণ।


উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।


তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।


অধিকতর তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তখন জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলার ছক করা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে এসেছিল হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড।


২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২।


বিবার্তা/খলিল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com