‘১০০ বছর পর পানি সরবরাহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি’
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৩:২৫
‘১০০ বছর পর পানি সরবরাহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি’
ফাইল ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা এখন দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল। ঢাকা ওয়াসায় অনেক অনিয়ম ছিল। আমরা সেগুলো দূর করেছি। সরকার দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এর জন্য আমরা আগামী ১০০ বছর পর কিভাবে পানি সরবরাহ করবে সেই পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা শহরের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য শহরের পানি সমস্যারও সমাধান করবো আমরা।


রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেল রবিবার সকালে ঢাকা ওয়াসার দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন ঢাকা শহরে পানির জন্য হাহাকার ছিল। জনগণ প্রতিনিয়ত পানির জন্য হাহাকার করছে। আমরা নিজেরাও ভুক্তভোগী ছিলাম। রাজধানী ঢাকার পানি ব্যবস্থাপনা এক ধরণের বিশৃঙ্খলা অবস্থায় ছিল। আমি শৃঙ্খালা ফিরিয়ে বিশুদ্ধ পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।


তিনি আরো বলেন, ১৫০ টাকার পানির গাড়ি দেড় হাজার টাকা দিয়ে নিতে হতো। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়ায় রাজধানী পানি সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, গ্রাম পর্যায়ের মানুষও যাতে সুপেয় পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।


তিনি বলেন, আমরা যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন পানি সমস্যা নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। পানি সমস্যা সমাধানে তড়িৎ সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু তখন সেটা আমরা করতে পারিনি। ২০০৯ সালে এসে আমরা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ হাতে নেই, এতে করে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এখন পানির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়েছে।


তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পানির সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনী নামিয়ে তাদের হাহাকার মিটিয়েছি। এই সেনাবাহিনী দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সমস্যা সমাধান আমাদের করতে হয়েছে।


শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার ওয়াসা একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়ন স্থির করে। আমরা প্রথমবার সরকার গঠনের পরেই ওয়াসার পানি কিভাবে আরো বিশুদ্ধ করা যায়, সে ব্যবস্থা হাতে নিয়েছিলাম। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে আমরা সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেনন্ট প্ল্যান্ট-২ নির্মাণ করি। এভাবে আমরা পানির উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেই।


দাশেরকান্দি শোধনাগার স্থাপন হলে এ শোধনাগারে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি শোধন করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্নবিত্তরাও পাবেন। বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। রাজধানী ঢাকায় ভবিষ্যতে বস্তি থাকবে না। সরকার সবার জন্য আবাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা এখন ঢাকা শহরে যে ভাড়া দিয়ে একটা কামরায় থাকে সে ভাড়া দিয়ে ২০ তলা ফ্ল্যাটে থাকবেন। তারা যাতে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা করবো। তারা দিনে, সপ্তাহে মাসে যেভাবে পারবে সেভাবে ভাড়া পরিশোধ করবেন।ঢাকা শহরে বিত্তবানর যেমন থাকবেন, তেমনি বস্তিবাসীরাও থাকবেন। তারা কোথায় যাবে? তারাও তো মানুষ। বিভিন্ন কারণে তারা বস্তিতে এসে বসবাস করেন। উচ্চবিত্তদের জন্য গরীব মানুষেরও দরকার আছে। তারা কাজ করে খাবে সেটা তো দোষের নয়।


তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে আমরা এ কাজগুলো করতে পারছি। ঢাকা শহরে অনেক খাল ছিল। সেগুলো কালভার্ট সেতু বা রোড হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। জনগণের ভোটে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে সব কালভার্ট ভেঙে খাল এবং খালের উপরে দোতলা-তিনতলা রাস্তা নির্মাণ করবো।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com