শুধু ভাতার উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১২:৩৫
শুধু ভাতার উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এমন পরিমাণে ভাতা দেবো যা দিয়ে আপনি খাদ্য কিনতে পারবেন। কিন্তু কাজ আপনাকে করতে হবে। শুধু ভাতার উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। শুধু ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে কর্মবিমুখ হয়ে পড়বেন।


তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসব, নয়তো আসব না। এটা জনগণের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দেন। তবে মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের কাজ।


গণভবন থেকে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে সমাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে বন্টনের কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।


এর ফলে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী ও প্রতিবন্ধীসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে শুরু হলো।


শেখ হাসিনা বলেন, কারো সংসার চালানোর দায়িত্ব আমরা নেবো না। তবে যে ভাতা দেবো, সে ভাতায় আপনাদের খাবারের ব্যবস্থা হবে। বয়স্ক মানুষ যখন ভাতা পায় তখন ছেলে-মেয়েরাও তাকে গুরুত্ব দেয়। তার পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা দূর হয়। তাকে সংসারে বোঝা না ভেবে গুরুত্ব দেয়া হয়।


ভাতা পদ্ধতি ডিজিটাল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে ভাতার টাকা ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে যেতো। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজ আমরা সেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে যারা যা প্রাপ্য তার কাছেই পৌঁছে দেবো। কেউ আর কমিশন খেতে পারবে না। সরাসরি টাকা আপনার হাতে পৌঁছে যাবে। প্রতিটি জায়গায় নামের তালিকা করে ডাটাবেজ করে রাখবো।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ওপর আস্থা আছে আছে, ভরসা আছে আমার। মানুষের জন্যই কাজ করি, মানুষের জন্যই রাজনীতি করি। আর সে কথা চিন্তা করেই আমরা বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে হিজড়া, বেদে, চা শ্রমিক ইত্যাদিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। সমস্যার সমাধান করেছি। ১ কোটি ৪০ লাখ মা এখন মোবাইল ফোনে টাকা পাচ্ছে, এর ফলে তাদের সন্তানরা স্কুলে যাচ্ছে।


সরকার গঠনের পর বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬’ এ যখন সরকার গঠন করি তখন দেখি ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম খাদ্য ঘাটতি দূর করতে হবে। তখন বিএনপি ছিল সংসদে বিরোধী দল। সংসদে তারা বলতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে না।


তিনি বলেন, ৯৬’ এ যখন ভাতা প্রবর্তন করি তখন প্রত্যেক এলাকায় কমিউনিটি করলাম। এর মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেই। কিন্তু বিএনপি সরকার এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। কারণ এ থেকে সেবা পেলে জনগণ নাকি নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। এরপর ২০০৮ এ ক্ষমতায় এসে পুনরায় সবকিছু চালু করি। সব ধরণের ভাতা কার্যকর করি।


তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষ তাদের জীবনের যে মৌলিক চাহিদা সেই চাহিদাগুলো পূরণ করা আমাদের লক্ষ্য। মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় সে জন্য আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। পুরো সংসারের দায়িত্ব আমরা নেব না।


এ সময় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


প্রথম পর্যায়ে গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকারভোগীরা এ সুবিধা পাবেন। প্রথম পর্যায়ে মঙ্গলবার থেকে এক লাখ ১৫ হাজার উপকারভোগী তাদের গত এপ্রিল-জুন সময়কালের ভাতাসমূহ ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।


সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থ বছরে আরো ১০টি জেলার উপকারভোগীদের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। পরবর্তীতে সরাসরি ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৬ লাখে উন্নীত হবে।


সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডাক্তার মোজাম্মেল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নরুজ্জামান আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জাকিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com