মানসিক অসুস্থতার মিথ্যা সনদ দিলে জেল-জরিমানা
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৮:৩৮
মানসিক অসুস্থতার মিথ্যা সনদ দিলে জেল-জরিমানা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কোনো চিকিৎসক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সনদ দিলে জেল ও জরিমানার বিধান রেখে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।


এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত (মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত) ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান। এর আগে ৩ জানুয়ারি এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।


সচিব বলেন, ১৯১২ সালের একটি আইনকে হালনাগাদ করে নতুনভাবে বাংলায় রূপান্তার করে এই আইন করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সংক্রান্ত নাগরিকদের মর্যাদা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, সম্পত্তির অধিকার ও নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে একটি যুগোপযোগি আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে এই আইন করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘আইনে ৩১টি ধারা রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সব কার্যক্রম পরিচালনা, সম্প্রসারণ, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’


‘এছাড়া অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে অবহেলা বা আদালতের কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন না করলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’


‘কোনো ব্যক্তি এ আইনের অন্য কোনো বিধান বা এর অধীনে প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহযোগিতা বা প্ররোচনা বা প্রতিপালনের বিষয়াদি বা সরকারের কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রতিপালন না করা বা প্রতিপালন না করতে সহযোগিতা করা বা বাধা দিলে তিনি সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন’ বলেও জানান জিয়াউল আলম।


তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রদান এবং এ সংক্রান্ত সংক্ষুব্ধতার ক্ষেত্রে প্রতিকারের লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাবিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিধানের উল্লেখ রয়েছে খসড়া আইনে।’


বিবার্তা/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com