ফাঁকা রাজধানীতে অজানা ‘আতঙ্ক’
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ২৩:০২
ফাঁকা রাজধানীতে অজানা ‘আতঙ্ক’
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে শনিবার পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। আর ধর্মীয় ওই উৎসবের ছুটিতে ব্যস্ততম নগরী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। কোথাও নেই চিরচেনা সেই যানজট। নেই কোনো শব্দদূষণ। শহরের অলিতে-গলিতে বিরাজ করছে দারুণ এক নিস্তব্ধতা। তবে ফাঁকা ওই নগরীতে রয়েছে অজানা আতঙ্ক।


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


ঈদ উপলক্ষে গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করেছে। রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ নিজ গ্রামে গেছেন। ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন সিংহভাগ মানুষ। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস কাটিয়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। আর যারা যেতে পারেননি তারা শুক্রবার ঢাকা ছাড়বেন। অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যে ঢাকা শহর একবারে ফাঁকা হয়ে যাবে।


রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার মনির হোসেন বিবার্তাকে জানান, তাদের ফ্ল্যাটে তিনিসহ মোট চারজন কেয়ারটেকার। ঈদের ছুটিতে বাকিরা বাড়ি চলে গেছেন। তাই এবারের ঈদে তাকে একাই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


তিনি আরো জানান, দুই-এক পরিবারে বাদে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও সবাই বাড়ি চলে গেছেন। এতে শুধু ফ্ল্যাটেই নয়, পুরো মহল্লাই নীরব হয়ে গেছে। তাই কিছুটা পুরো এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।


কারওয়ানবাজারস্থ বসুন্ধরার পেছনের গলির বাসিন্দা রাজু বিবার্তাকে জানান, তাদের ছয় তলা বাসায় প্রায় ১২ থেকে ১৫টি পরিবারে বসবাস করে। কিন্তু ঈদে সবাই বাড়ি চলে যাওয়ায় ভবনটি নীরব হয়ে গেছে। বাইরে বের হলেও তেমন কোলাহল পাওয়া যায় না। তাই মনে ভয় চলে আসে।


শুধু মনি ও রাজু নয়, এমন আতঙ্ক রাজধানীর আরো অনেকের মনে বিরাজ করছে। নোয়াখালীর বাসিন্দা আবুল হোসেন বসবাস করেন মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি ঈদ করতে সপরিবার গ্রামের বাড়ি গেছেন। তবে বাসা চুরির ভয়ে একজন পাহারাদার রেখে গেছেন তিনি।


রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। তিনি প্রতিবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যান। কিন্তু এবার ঈদে পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামে গেলেও তিনি ঢাকায় ঈদ করবেন।


তিনি জানান, বাসা পাহারা দেয়ার জন্য তার ছোট ভাই ও বড় বোনকে নিয়ে ঢাকায় থাকবেন। তবে পরিবারের অন্যরা ঈদে বাড়িতে গেছেন। তারা যে ভবনে থাকেন, সেই ভবনের এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি চলে গেছে। তাই ভয় লাগছে।


এদিকে, ঈদের ছুটিতে নগরী ফাঁকা হওয়ার সুযোগে যেকোনো সময় বড় ধরনের চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটার শঙ্কায় পুলিশ। তবে যেকোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্কবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।


ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। বসানো হবে বাড়তি চেকপোস্ট। তৎপর থাকবে গোয়েন্দা পুলিশও। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্পটে ছদ্মবেশে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের নজরদারি বাড়াবে।


নগরবাসীর প্রতি পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীর ফাঁকা বাসা-বাড়ির প্রতি নজর রাখতে হবে। তাছাড়া এলাকায় অপরিচিত কারো আনাগোনা দেখা গেলে সেটা পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হবে।’


বিবার্তা/খলিল/হুমায়ুন/মৌসুমী/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com