বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ধর্ষিতার পরিবার
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪১
বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ধর্ষিতার পরিবার
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় হাত, পা ও মুখ বেঁধে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছিল কয়েক দুর্বৃত্ত। পরদিন ওই ঘটনায় মামলা হয়। মঙ্গলবার ওই ঘটনার ৯ম দিন। কিন্তু নামেমাত্র একজন আসামিকে গ্রেফতার করলেও বাকিরা প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরাফেরা করছে।


উল্টো আসামি পক্ষকে ফোনে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা। তাই বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্যাতিতা ও তার পরিবারের সদস্যরা।


সোমবার রাতে বিবার্তা২৪ডটনেটের অফিসে এসেছিলেন ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার পরদিন থানায় মামলা দায়ের করতে যান নির্যাতিতার স্বামী। কিন্তু সকাল থেকে থানায় অবস্থান নিলেও মামলা নিতে বিভিন্ন টানবাহানা শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় মামলা রেকর্ড করা হয়। অনেক কষ্টে মামলাটি রেকর্ড করালেও ওই মামলার কোনো কপি দেয়নি পুলিশ। উল্টো বাদীকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ।


তারা জানান, ধর্ষণের শিকার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে বাদী সেখানে অবস্থান করেন। কিন্তু গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলেও তাদের দেয়া হয়নি কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট।


নির্যাতিতার স্বামী জানিয়েছেন, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে গেছে। এখন মামলার কপি ও মেডিকেল রিপোর্ট পুলিশের কবজায়। তাই তাদের ধারণা, আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশ তাদের সাথে এমন আচরণ করছে।


তারা আরো জানান, পুলিশের এমন আচরণ ও আসামিপক্ষের হুমকির বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো রকম আশার বাণী পাচ্ছেন না তারা। ফলে তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর ফলে বিষয়টি ধামাচাপা হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।


বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার বিকালে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আরিফুল হক ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বিবার্তাকে বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিলো। আমি আসামিপক্ষকে থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। তবে তারা মামলা দায়ের করছে কি না বা পরবর্তিতে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।


তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিপক্ষকে হুমকি দেয়া হচ্ছে- এমন কিছু আমার জানা নেই। তবে যদি হুমকি দিয়ে থাকে তা হলে আসামিপক্ষকে থানায় জিডি করার পরাপর্শ দেন ওই জনপ্রতিনিধি।


মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রূপগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সফিউল আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল থেকে পাওয়া ছাড়পত্র ও মামলার কপি আজ বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আসামিরা বাদীপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে এবং তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আসামিরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে দেরি হচ্ছে। তবে তাদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।


এদিকে, মামলার বাদী বিবার্তাকে জানিয়েছেন, পুলিশ আজ (মঙ্গলবার) তাদের কাছে মামলার কপি দিয়েছে। তবে মামলার বাকি আসামি গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।


প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। নির্যাতিতা ওই নারী একটি বোতল কারখানায় চাকরি করেন। তার স্বামী পোশাক শ্রমিক। পোশাক কারখানায় কাজের পাশাপাশি তিনি ভুলতা এলাকায় একটি বাসার কেয়ারটেকারের দায়িত্বও পালন করেন।


প্রতিদিনের মতো গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে বাসায় রেখে তিনি পোশাক কারখানায় যান। তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পর চারজন বখাটে বাড়ির দেয়াল টপকে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে বখাটেরা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা ওই নারীর মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরায়। পরে বাসার মালিকের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।


এদিকে, এঘটনায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্যাতিতার স্বামী রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৬। মামলা দায়েরের পর মূলহোতা স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলীর ছেলে মোক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।


বিবার্তা/খলিল/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com