কলকাতায় বাংলাদেশের বিজয়ের উৎসব শুরু
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৬
কলকাতায় বাংলাদেশের বিজয়ের উৎসব শুরু
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার থেকে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে শুরু হল ‘বাংলাদেশ বিজয় উৎসব ২০১৭’। এদিন বিকালে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আ.ক.ম.মোজাম্মেল হক।


অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক মানস ঘোষসহ বিশিষ্টরা।


পরে নিজের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন ‘ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও ভারত সরকার সেসময় আমাদের বুকে টেনে নিয়েছিল, এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলো, আমাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তারপর আমরা গেলিয়া যুদ্ধ শুরু করি। যদি ভারতবাসী আমাদের আশ্রয় না দিতেন তবে নয় মাস কেন, নয় বছরেও এই স্বাধীনতা আসতো না। ভারত শুধু আশ্রয়ই দেয়নি, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সৈন্যরাও আমাদের সাথে প্রণ দিয়েছে। এই বন্ধু পরিক্ষীত, অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের সৌহার্দ্য ভাতৃত্ব কোন গোজামিলের নয়, এটা রক্তের বন্ধনে লেখা, এই বন্ধুত্ব কখনওই নষ্ট হওয়ার নয়।’


মোজাম্মেল হক বলেন, একজন ব্যক্তি তার স্ত্রী বা স্বামী বদল করতে পারেন কিন্তু প্রতিবেশী কখনও বদল করা যায় না। তাই আমাদের প্রতিবেশি বদলানোর কোন সুযোগ নেই।


এদিনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বিএনপিকেও তোপ দেগেছেন বাংলাদেশের মন্ত্রী। বিরোধীদল বিএনপিকে কাগুজে বাঘ বলে অভিহীত করে মন্ত্রী বলেন তাদের আওয়াজ অনেক বেশি, তাদের যদি সমর্থন থাকতো তবে নির্বাচনের ময়দান থেকে পালিয়ে যেতো না।


মন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে ‘আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। কে আসলো কে গেলো, কে গেলো না তার জন্য বাঙালি জাতি অপেক্ষা করবে না। ২০০৮ সালে বাংলার মানুষ তাদের (বিএনপি) একবার উপড়ে ফেলেছে, আবার যদি তারা নির্বাচনে আসে বাংলার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ভাবে উপড়ে ফেলে কবর রচনা করবে।’


পরে অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী জানান, ভারতের মধ্যে বিশেষ করে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক জায়গায় যেখানে মুজিব নগর সরকার ছিল, আমাদের শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেয়া আছে, পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও অনেক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে সেগুলোকে যৌথভাবে সংরক্ষণের বিষয়ে কূটনৈতিক ভাবে আলোচনা চলছে।


পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপনী আগামী ১৯ ডিসেম্বর। এই উৎসবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকছে আবৃত্তি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিদিন বেলা বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।


বিবার্তা/ডিডি/ইমদাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com