ডিজিটাল সাজে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মণ্ডপ
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:৫৫
ডিজিটাল সাজে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মণ্ডপ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গতি নাশিনী দেবী দূর্গার আগমন বার্তায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবী দূর্গার মাহাত্ম্য বর্ণনার জন্য পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে শেষ সময়ে এসে দেবীর মণ্ডপ ও তার প্রাঙ্গণ সাজাতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা। নগরীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় পূজা মণ্ডপ, বনানী পূজা মণ্ডপ ও কৃষিবিদ ইন্সিটিটিউটসহ প্রধান তিনটি পূজা মণ্ডপে সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকভাবে পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়েছে।


এর মধ্যে কৃষিবিদ ইন্সিস্টিউটে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘের (সসকস) আয়োজিত দুর্গোৎসব ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আয়োজকদের দাবি। তারা দেবী দূর্গার মাহাত্ম্য ইলেক্ট্রনিক বাতি ও মোটরে প্রবাহিত লাল জলের সাহায্যে বড় পর্দায় ত্রিমাত্রিক সরাসরি সম্প্রচার করবে। মৃৎশিল্প ও মণ্ডপ সজ্জার নকশা কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায় মণ্ডপটি ভারতের বেলুর মঠের মত করে সজ্জিত হচ্ছে।


মৃৎ শিল্পীরা জানান, পূজা মণ্ডপে দুই সেট প্রতিমা স্থাপন করা হবে। মাটির তৈরির প্রতিমা মূল বেদীতে ও ককসিটের তৈরী প্রতিমা পূজা মণ্ডপের সামনের দেওয়ালে স্থাপন করা হবে।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীরা মাটির তৈরির প্রতিমা মূল বেদীতে স্থাপন করেছেন। ককসিটের প্রতিমার শিল্পীরা প্রতিমা সেটের বিভিন্ন অংশ মূল বেদীর দক্ষিণ পাশে বসে ককসিট দিয়ে দেবী দূর্গা, গণেশ, কার্তিক, মহাদেব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মহিষাসুরের অবয়ব দিচ্ছেন। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে এ পুজা মণ্ডপের সাজ সজ্জার কাজ করছেন শিল্পীরা। তারা ভারতের শ্রী শ্রী স্বামী বিবেকানন্দের আশ্রম বেলুড় মঠের মত করে এ মন্দির প্রাঙ্গন সাজাচ্ছেন। তাদের কাজে সরাসরি ভারতের শিল্পীরা সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে চব্বিশ ঘণ্টাই কাজ চলছে। লক্ষ্য চব্বিশ তারিখের মধ্যে সব কাজ শেষ করা। পুরো মণ্ডপের নকশার কাজ তত্ত্ববধান কাজ করছেন চারু শিল্পী উত্তম রায়।


পুরান মতে, দেবী দুর্গার মহিষাসুরকে আঘাতে যত ফোটা রক্ত বের হয়, ঠিক তত সংখ্যক নতুন করে মহিষাসুর জন্ম নেয়। তাই মহিষাসুর বধ দেবীর পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। দেবকুলে মহিষাসুরকে দ্রুত বধ করতে কালী দেবীর জন্ম। দেবকুলে কালী মহিষাসুরের ক্ষত দেহ থেকে ঝড়ে পড়া রক্ত জিহ্বা দিয়ে শুষে নেয়। দেবী দুর্গার খড়গের আঘাতে মহিষাসুর থেকে যতটুকু রক্ত পড়ে ততটুকু দেবী কালি জিহ্বা দিয়ে শুষে নেয়। ফলে নতুন করে মহিষাসুর জন্মাতে পারে না।


কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে দেবী দূর্গার এই অসুর বধের মাহাত্ম ইলেক্ট্রিক বাতি, মোটরে সাহায্য প্রবাহিত লাল জলের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি দেখানো হবে। দেবী দুর্গার এক হাতে মহিষাসুর বধের রক্তাক্ত খড়গ, অন্য হাতে মহিষাসুরের খণ্ডিত মস্তক থাকবে। দেবী দুর্গা মহিষাসুরের উপর পা দিয়ে দণ্ডায়মান থাকবে। দেবীর পায়ের নিচে কাটা মহিষাসুরের ঘাড় থেকে লাল পানি রক্তের মত করে প্রবাহিত হবে। এ কাজে মোটর ও রাবারের টিউবের মাধ্যমে মহিষাসুরের গলার ভিতর দিয়ে লাল পানি ঘাড় দিয়ে বের করা হবে। মহিষাসুর থেকে প্রবাহিত রক্ত বেদীতে পড়া মাত্র দেবী দূর্গা কালী রুপে রক্ত পান করবে। যা কালির মুখ দিয়ে টিউবের সাহায্যে দেবীর জিহ্বা দিয়ে শুষে নিবে। ফলে আর মহিষাসুর জন্মাতে পারবে না। এ দৃশ্যটি চক্রারে বারবার চলতে থাকবে।


জানতে চাইল সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি কৃষিবিদ সমির চন্দ বলেন, ঢাকা শহরে ২৮ বছর পূর্বে ঢাকেশ্বরী জাতীয় জাদুঘর, রাম কৃষ্ণ মিশন ও সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ জাঁকজমকভাবে দুর্গতি নাশিনী দেবী দূর্গার পূজার আয়োজন করে আসছে। বলতে গেলে ঢাকার মধ্যে প্রাচীনতম পূজা মণ্ডপ এই কৃষিবিদ ইন্সিস্টিউশনের এই প্রাঙ্গণ। আমরা গতবার প্রতিমা প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। আশা করছি এবার প্রথম হব। ভক্ত সাধারণেরা জেনে খুশি হবে, স্বামী বিবেকাননন্দ আশ্রমের বেলুড় মঠের মত করে মন্দিরের অবয়ব করা হচ্ছে। এবার দুটি প্রতিমা সেটে মন্দিরের পূজা মণ্ডপ সাজানো হবে।


তিনি আরো বলেন, এবারই প্রথম ডিজিটাল দুর্গা পূজার আয়জন করছি আমরা । লেজার লাইট ও সয়ংক্রিয় রঙ্গিন পানির প্রবাহের ব্যাবহার দেশে আমরাই প্রথম । লেজার আলোর মাধ্যমে বাই অর্ডার ত্রিমাত্রিক এসব দৃশ্য দেখানো হবে। এছাড়া পুরাণের মাঙ্গলিক ক্রিড়ার পাশাপাশি কৃর্তি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।


প্রসঙ্গত, ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব সমাপ্ত হবে।



বিবার্তা/আদনান/আমিরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com