পূজার দিনই ঢাকা সিটি নির্বাচন, ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৯
পূজার দিনই ঢাকা সিটি নির্বাচন, ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজার দিনই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।


রবিবার (২২ ডিসেম্বর ২০১৯) ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ওই তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোটগ্রহণের তারিখ ধার্য করে নির্বাচন কমিশন। একইদিন সরস্বতী পূজার দিন হওয়ায় বিভিন্ন মহলে নির্বাচন পেছানোর দাবি ওঠে।


গত ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ সরস্বতী পূজা উদযাপনের জন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ভোটগ্রহণের তারিখ পেছানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন। কিন্তু এদিন মঙ্গলবার ( ১৪ জানুয়ারি) আসন্ন ৩০ জানুয়ারি ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পেছানোর রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি হতে আর বাধা নেই। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।



হাইকোর্টের এ আদেশের পর বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এদিন বিকেলে সিটি নির্বাচনের ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধের পর ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পেছানো না হলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহবাগ ছাড়েন।


এর আগেও এ নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনসহ বেশ কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার ( ১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তারিখটি পুনর্বিবেচনার জন্য আহবান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক ( এজিএস) সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহবান জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই দিনে সরস্বতী পূজা ও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখরতায় বিঘ্ন ঘটা ও নির্বাচন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সমস্যা সংকুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন কমিশনের প্রতি নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।


পূজা উৎসবের দিন ঢাকা সিটি নির্বাচন হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বিবার্তাকে বলেন, সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুক।


ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বিবার্তাকে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে নির্বাচনের তারিখ দেয়া উচিত। আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদের সাথে এবিষয়ে কথা বলবো।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বিবার্তাকে বলেন, প্রথমেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়ে কিভাবে এ অসাংবিধানিক কাজটি করলো সেটা বুঝতেছি না। হাইকোর্টও একই কাজ করলো। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের উচিত সব ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা।


তিনি বলেন, এরকম একটি হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়া হচ্ছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।


ডাকসুর সহ সম্পাদক ( এজিএস) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বিবার্তাকে বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই তারা হাইকোর্টের দোহাই না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।


তিনি বলেন, আমরা চাই নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটের অধিকারের পাশাপাশি উৎসবের অধিকারও নিশ্চিত করবেন।


সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বিবার্তাকে বলেন, আদালতের এ রায়টা মানুষের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য নয়।


এদিকে মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট খারিজ হওয়ার পর বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘উচ্চ আদালতে গিয়েও যদি এ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আইনানুগ বিচার না পায়, তখন আমরা ভাবী ভবিষ্যৎটা কোথায়? আমরা যাবো কোথায়? আমার মতে, এর মধ্য দিয়ে (রিট খারিজ) এই অধিকারগুলো ক্ষুন্ন করা হচ্ছে, খর্ব করা হচ্ছে। এমনকি আমাদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।’



এসময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, কেন যেন সবকিছু একই সূত্রে গাঁথা।বাংলাদেশের যারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তাদেরও তো ধর্মীয় অনুভূতি আছে, তাদেরও পূজা-অর্চনা করার অধিকার রয়েছে।’


রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট তিথির প্রসঙ্গ তুলেছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি তিথিলগ্ন, এ লগ্নতে পূজার সময় আমরা সরস্বতী পূজা করে থাকি। আগামী ৩০ জানুয়ারি পূজার যে লগ্ন রয়েছে সেদিন সূর্যোদয়ের পর থেকে ৯ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সরস্বতী পূজার দিন। আমরা এটা বারবার উপস্থাপন করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও


সত্য, হাইকোর্ট আগামী ২৯ জানুয়ারি কোনো কারণে ছুটি দেয়া হলো এবং কোন কারণে ১ ফেব্রুয়ারি স্কুল-কলেজগুলোতে পরীক্ষা হচ্ছে, এ বিষয়টিকে নিয়ে আমাদের রিট আবেদন খারিজ করেছেন।’


তিনি বলেন, ‘কিন্তু পূজার যে ব্যাপকতা এবং পূজার সঙ্গে যে উৎসবের আঙ্গিক- এটাকে বিবেচনায় আনার প্রয়োজন মনে করেননি হাইকোর্ট। যেহেতু হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছেন আমরা নাগরিক হিসেবে এই আদেশে সংক্ষুব্ধ। তাই এ বিষয়ে আপিল করা হবে। কারণ উচ্চ আদালতে এসেও যদি এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আইনানুগ সঠিক বিচার না পায় তখন আমরা ভাবী-ভবিষ্যৎটা কোথায়? আমরা যাবো কোথায়?’


বিবার্তা/রাসেল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com