মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রোহিঙ্গাদের
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৫
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রোহিঙ্গাদের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উদ্যোগকে ‘প্রতারণা’ বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংগঠনের এক নেতা।


আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জায়গা এখনো নিরাপদ নয়। তাদের নিয়ে যদি ক্যাম্পে রাখা হয় তাহলে বাংলাদেশের ক্যাম্পই তাদের জন্য ভালো।


মুহিব উল্লাহ বলেন, দেখা গেছে, একটি পরিবারে ১০ জন সদস্যের পাঁচজন আছে তালিকায়। তাহলে পরিবারের পাঁচ সদস্য কি অন্যদের রেখে যাবে?


রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে সাত লাখ ছাড়ায়। আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।


আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও নানা কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গতবছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর তারিখ ঠিক হলেও নতুন করে নিপীড়নের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থেকে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।


যেসব কারণে মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের অনীহা


মিয়ানমারের তালিকা ধরে তিন হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়। কিন্তু নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও ভিটেমাটি ফেরত দেয়াসহ চারটি শর্তে দ্বিতীয়বারের মতো স্বদেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।


রোহিঙ্গা সঙ্কট: ধৈর্য্য হারাচ্ছে কক্সবাজার


আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মুখ রক্ষার জন্য আমাদের ফেরানোর কথা বলছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা ফেরানোর কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। রোহিঙ্গাদের জায়গা এখন নিরাপদ নয়। যদি বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে এখানকার ক্যাম্পই আমাদের জন্য ভালো। মিথ্যা অভিযোগের বেসাতি করছে মিয়ানমার, যদিও রোহিঙ্গাদের ফেরানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।


নিজ দেশের সরকারের ‘প্রতারণার’ উদাহরণ দিয়ে মুহিব উল্লাহ বলেন, দেখা গেছে, একটি পরিবারে ১০ জন সদস্যের পাঁচজন আছে তালিকায়। তাহলে পরিবারের পাঁচ সদস্য কি অন্যদের রেখে যাবে?


তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব রদ করা হয়েছে, সেই একই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফেরানোর ক্ষণিকের ব্যাপার মাত্র।


রোহিঙ্গাদের ভুল বোঝাচ্ছে কিছু এনজিও: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


দেশত্যাগের দুই বছর পূর্তিতে এসে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে বড় ধরনের সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে রোহিঙ্গারা। কুতুপালংয়ের ৪ নম্বর ক্যাম্পের বর্ধিত অংশের মাঠে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা।


রোববার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ওই সামবেশে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুহিব উল্লাহ।


তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসীর সামনে রোহিঙ্গাদের দাবি তুলে ধরতে চাই আমরা। আমরা জানিয়ে দিতে চাই, মিয়ানমারে আমাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ভিটেমাটি ফিরিয়ে আমাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে।’



রোহিঙ্গাদের নিজস্ব রীতির সাদা পোশাকে সমাবেশে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে বলে জানান এ রোহিঙ্গা নেতা। ক্যাম্পে ক্যাম্পে খবর পৌঁছানো হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে।


রোহিঙ্গা নেতারা জানান, সবার হাতে থাকবে পতাকা, ব্যানার-পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। দোয়া মাহফিল হবে নিহত রোহিঙ্গাদের জন্য। রোহিঙ্গা ভাষায় ধর্মীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বক্তব্য দেবেন নেতারা।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com