ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন সম্পাদক পরিষদের
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২২
নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন সম্পাদক পরিষদের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সদ্য কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে দেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।


পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার বেলা ১১টার ২০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।


সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত শনিবার মানববন্ধনের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


কর্মসূচিতে ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে নয়টি ধারা নিয়ে আমরা কথা বলছি, তা অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। চলতি জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনেই এটি সংশোধন করতে হবে।


মানববন্ধনে দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আলোচনা বন্ধ হয়নি। এটি ইতিবাচক বিষয়। তবে আলোচনার নামে যেন প্রহসন না হয়।


তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার আগ থেকেই এই আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। আমরা মনে করি, এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইনটি সংশোধন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।


সম্পাদক পরিষদের সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে-


১. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।


২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।


৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে, কিন্তু কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।


৪. কোনো সংবদামাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।


৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।


৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।


৭. এই সরকারের পাশ করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্বার্থহীনতভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। এই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।


সাত দফা দাবি ঘোষণার পর সম্পাদকরা ১০ মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।


মানববন্ধন আরো উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com