বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা কেন নামকরা পত্রিকাগুলো কিনে নিচ্ছে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২৬
বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা কেন নামকরা পত্রিকাগুলো কিনে নিচ্ছে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যারা বিশ্বের শীর্ষ ধনী, যাদের সব কিছু আছে, তারা আর কি চায়? উত্তর : মনে হচ্ছে এরা সবাই যেন কোনো-না-কোনো নামকরা সংবাদপত্র বা সংবাদ সাময়িকীর মালিক হতে চায়।


এক্ষেত্রে সর্বশেষ উদাহরণ মার্কিন ধনকুবের মার্ক বেনিওফ ও তার স্ত্রী। তারা দু'জনে মিলে কিনে নিয়েছেন টাইম ম্যাগাজিন। বেনিওফ হচ্ছেন বিজনেস সফ্টওয়্যার কম্পানি সেলসফোর্সডটকমের মালিক। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা এই সংবাদ সাময়িকী কিনে নিয়েছেন ১৯ কোটি ডলারে।


তার আগে আমাজনের মালিক জেফ বেজোস কিনে নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট। একই বছর আরেক মার্কিন ধনকুবের জন হেনরি কিনে নেন বস্টন গ্লোব পত্রিকা।


এরকম উদাহারণ সাম্প্রতিক সময়ে আরও অনেক। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বিধবা স্ত্রী লরেন পাওয়েল আটলান্টিক ম্যাগাজিনের সিংহভাগ শেয়ার কিনেছেন। বায়োটেক বিলিওনিয়ার প্যাট্রিক সুন শিয়ং কিনেছেন লস এঞ্জেলেস টাইমসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট কোস্টের আরও কয়েকটি নামকরা কাগজ।


বিশ্বজুড়েই বড় বড় সংবাদপত্রগুলোর এখন দুর্দিন চলছে। সংবাদপত্রের সার্কুলেশন কমছে। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে অন্যদের সঙ্গে। কাজেই এই দুর্দিনে বড় বড় ধনকুবেররা যখন বিশাল অংকের টাকা নিয়ে এগিয়ে আসছে, তখন তাতে সাড়া না দিয়ে উপায় থাকছে না তাদের।


মিডিয়া অ্যানালিস্ট কম্পানি 'এনডার্স অ্যানালাইস'-এর ডগলাস ম্যাকাবে বলছেন, সংবাদপত্রগুলো এখন বিপুল চাপের মুখে আছে। কারণ, তারা শুরুতে অনলাইন সংস্করণ ফ্রি করে দিয়ে ভুল করেছিল। আর এখন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাবদ তারা যা আয় করছে তা প্রিন্ট সংস্করণে পাওয়া বিজ্ঞাপন থেকে অনেক কম।


এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন সংবাদপত্র শিল্প আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়।


প্রশ্ন হলো, তাহলে বিশ্বের নামকরা ধনীরা কেন এক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন? কিসের আকর্ষণে?


মিস্টার ম্যাকাবে মনে করেন, অর্থ নয়, নামকরা সংবাদপত্রগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তির আকর্ষণেই তারা এটা করছেন। তাঁর মতে, "বিত্তশালীরা সবসময়েই সংবাদমাধ্যমের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে সেসব প্রভাবশালী পত্রিকা, যার মাধ্যমে তারা প্রতিপত্তি অর্জন করতে পারবেন।"


তবে বস্টনের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার অধ্যাপক ড্যান কেনেডি বলছেন, প্রতিপত্তি শুধু নয়, অন্য কারণও আছে ধনকুবেরদের এই আগ্রহের পেছনে। মিস্টার কেনেডি সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বই লিখেছেন, যার শিরোনাম, "হাউ জেফ বেজোস অ্যান্ড জন হেনরি আর রিমেকিং নিউজপেপার্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি।''


তিনি বলেন, "আমি বলবো এটি তাদের অহমিকা এবং ভালো কিছু করার সত্যিকারের আগ্রহ - এই দু'য়ের সম্মিলন। এরা মনে করছে এসব সংবাদপত্রের আসলে যেটা ঘাটতি তা হলো আর্থিক বিচক্ষণতা। যদি তারা মালিক হতে পারে, তাহলে এসব সংবাদপত্র আবারও ভালো করবে।"


ওয়াশিংটন পোস্টের বেলায় এই আত্মবিশ্বাস যে ফল দিচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই। জেফ বেজোস তার আমাজনকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন পোস্টের গ্রাহক সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এটি এখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। সূত্র : বিবিসি


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com