একটি চাবির রিংয়ের দুর্দশার গল্প
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৫৪
একটি চাবির রিংয়ের দুর্দশার গল্প
ফাইল ছবি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

এক দেশে খুবই কাঠ খোট্টা রোবট টাইপের এক হাজবেন্ড এবং তার বড়ই হাহা হিহি টাইপের স্ত্রী বাস করতো। সেই ভদ্রলোক আবেগের যে কোনো রকম বহিঃপ্রকাশ কে বিরাট চারিত্রিক দুর্বলতা বলে মনে করতেন, অন্যদিকে তার স্ত্রী ছোট খাটো সব রকম আবেগের অতিনাটকীয় উপস্থাপনায় বিশ্বাসী ছিলেন।


তো একদিন কি মনে করে রোবট মানব তার বউয়ের জন্য একটা চাবির রিং খরিদ করলেন। কিন্তু তিনি তো সেই ধরনের ছ্যাবলা! কিসিমের মানুষ না যে বউকে গিফট দিয়ে বলবেন "শুধু তোমারি জন্য"। উহু, এর থেকে তিনি শহীদ হয়ে যাবেন তাও ভালো।


তো তিনি কি করলেন, রাতের বেলা বউয়ের বালিশের পাশে চুপ করে রিংটি রেখে দিলেন। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন সকালে এই দৃশ্য দেখে বাসার ঘটন অঘটন পটিয়শী মানুষটি চিৎকার চেঁচামেচি করে একটি অ্যাড ফ্রি প্যাকেজ নাটকের অবতারণা করবেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বালিশের পাশে চাবির রিং দেখে আর্ত চিৎকার দিতে দিতে কি ভেবে আবেগ গাড়ির ব্রেক কসলেন মিসেস, তার মনে হলো এটা তো সরাসরি হাতেই দিতে পারতো। ভেবে জায়গার জিনিস জায়গায় রেখে দিলেন।


একটু পর নাস্তার টেবিলেও রিংটি দেখে অতি কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে না দেখার ভান করে থাকলো। তারপর অফিসে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে, তখন দেখলো তার পতিধনটি চারপাশে ঘুরছে আর সলিলোকি করছে, 'আহা! কি সুন্দর চাবির রিং। আহা!কি সুন্দর চাবির রিং। 'কিন্তু তার মিসেস যথারীতি গম্ভীর মুখে চুল আঁচড়াতে থাকেন। একটু পর আর না পেরে বেচারা রোবট মানব বলেই ফেললে, "দেখো, কি সুন্দর চাবির রিংটা"। তখন বউটি তার স্বভাবজাত অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বললো, "ওমা! তাইতো! কিইই সুন্দর! "বলে হাতে নিয়ে আবার ফিরিয়ে দিলেন।


তখন তিনি বললেন, "লাগলে নিতে পারো।" উত্তরে খুব ভাব নিয়ে ইনি বললেন, "নাহ আমার আছে। "শুনে মনে হল তার কাছে সাত রাজার ধন আছে। সত্যি কথা বলতে কি তার চাবির রিংটা অনেকদিন হলো ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু তার নিজস্ব উদ্ভট কিছু ফিলসফির মধ্যে একটা হলো চাবির রিং, ওয়ালেট এগুলো কিনতে হয় না, গিফট পেতে হয়। সেটাও আবার খুব কাছের কোনো মানুষের থেকে, যেন হাতে জিনিসটা নিলেই তার কথা মনে পরে যায়।


যাইহোক, ভদ্রলোক এবার পাথরের মতো মুখ করে পেপার পড়া শুরু করলেন। তা দেখে এনার তো মেজাজ সপ্তমে। মনে মনে আফসোসও করলো, "কোনো কুক্ষণে যে সকালেই রিং টা নেইনি, এতো সুন্দর জিনিসটা হাত ছাড়া হয়ে গেল।এই লোকের কাছে এর থেকে বেশি কিছু আশা করাই ছিল দুরাশা। "মেজাজ গরমের ফলে বাচ্চা দুটোকে দুটো আর মেয়েটাকে একটা করে রাম ধমক দিয়ে অফিসে চলে গেল।


অফিসে গিয়ে মন খারাপ করে কাজ করছে। এমন সময় পিয়ন এসে বললো, "ম্যাডাম, ছিল লাগবো। "তখন ম্যাডাম মনে মনে এটা ভেবে অবাক হলেন যে বাংলাদেশ দণ্ড বিধিতে কেন সিল চাইবার অপরাধে ফাঁসির আদেশ নেই? এখন আদেশ যখন নেই তখন আর কি করা, নিজেকে সংবরণ করে যেই না ব্যাগে হাত ঢুকিয়েছেন সাথে সাথে তার হার্টের দুইটা বিট মিস হলো, কারণ তার হাতের সাথে উঠে এলো চাবির রিং। এর মানে রেডি হবার এক ফাকে মিনসে রিংটা ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আনন্দে আটখানা হয়ে হাহা করে হেসে উঠলেন। ম্যাডামের হাসি দেখো পিওন প্রথমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও পরে নিজেও গলা মেলালেন।


এবার ম্যাডাম গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে হাতের কিছু কাজ গুছিয়ে নিলেন। তারপর আয়েশ করে বসে এক কাপ চা হাতে নিয়ে তার হাজবেন্ডকে ফোন করলেন ধন্যবাদ জানানোর জন্য। (এরপরের কথোপকথন হার্টের সমস্যা থাকলে নিজ দায়িত্বে পড়বেন)
ইনিঃ থ্যাঙ্ক ইউ। (যতটা সম্ভব মিষ্টি করে। যদিও তার কণ্ঠে এটা অসম্ভব।)
তিনিঃ কেন? (পাথরসম সুরে)
ইনিঃ চাবির রিংয়ের জন্য।
তিনিঃ ওহ, তুমি ওটা নিয়েছ?
ইনিঃ তুমিই তো হাতব্যাগে দিয়ে দিয়েছ।
তিনিঃ ওহ সরি, ভেরি সরি। বিছানায় ছুড়ে রাখতে গিয়ে ভুল করে তোমার ব্যাগে ফেলেছি।
এরপর ম্যাডাম বাংলা ভাষার বজ্রাহত শব্দটির একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে বসে রইলেন।


সাবরিনা তানভী
সহকারী অধ্যাপক
ভাষাতত্ত্ব বিভাগ (ইংলিশ)
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/বাণী/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com