মেকআপ কী ত্বকের জন্য ক্ষতিকর?
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪১
মেকআপ কী ত্বকের জন্য ক্ষতিকর?
মডেল: জাকিয়া ইমি
শাহনাজ শারমিন
প্রিন্ট অ-অ+

অনেকে বলেন, সাজলে নাকি মন ভালো থাকে। যদি তাই হয় তাহলে সাজতে কোনো বাঁধা নেই। নারীরা সাধারণত সাজতে খুব ভালবাসেন। শুধু সাজলেই হলো না, সুন্দর দেখানোর কিন্তু একটা ব্যাপার থাকে। সৌন্দর্য কিন্তু যেনো তেনো কোনো ব্যাপার নয়।


বিশেষ করে যারা অফিস করেন, তারা কম-বেশি কিছু না কিছু মেকআপ নিয়ে থাকেন। সাজতে গিয়ে যদি বলি মেকআপের কথা। কেউ করেন শখে। কেউ করেন দরকারে। কিন্তু কাজটা এমন যে দরকারে পড়ে করলেও মন্দ লাগে না। বিশ্বজুড়েই মেকআপ বিষয়টি এখন নিত্যপ্রয়োজনীয়। নানা ব্র্যান্ড আর নানা উপকরণ, লক্ষ্য একটাই নিজের ভালো লাগার জন্য সেজে ওঠা।



আপনি সুন্দর হওয়ার জন্য মেকআপ করছেন ভালো কথা কিন্তু তার সাথে ত্বকের যত্ন করছেন তো? মানে এই যে মেকআপের সময় কত রকম প্রোডাক্ট আপনার মুখে লাগাচ্ছেন। আপনি ব্যবহার করছেন হয়ত প্রাইমার, কনসিলার, ফাউন্ডেশন, ফেসপাউডার, শিমার আরো না জানি কতকিছু।


আমাদের মুখের ত্বক কিন্তু আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় বেশি সেনসেটিভ হয়। তাই মেকআপের আগে ও পরে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়া জরুরি যাতে ত্বকের কোনো ক্ষতি না হয়।


মেকআপ করার জন্য উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করলে পুরো চেষ্টাটাই নষ্ট হয়ে যায়। বেশি মেকআপ করলে উগ্র মনে হয়, আবার অল্প মেকআপ করলেও ত্বক অনুজ্জ্বল রয়ে যায়। তাই নিজের ত্বকের গড়ন, গায়ের রং, মুখের গঠন এবং পরিবেশ অনুযায়ী মেকআপ করা অনেক বেশি জরুরি। ত্বকের রং ও চেহারার সঙ্গে মানানসই সাজসজ্জা না হলে আপনার পুরো ব্যক্তিত্বটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।


রোজ রোজ ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক, লাইনার, আইশ্যাডো দিয়ে সাজছেন ঠিকই। কিন্তু এর বিনিময়ে কি আস্তে আস্তে প্রাকৃতিক জেল্লা কেড়ে নিচ্ছে না তো এসব কৃত্রিম প্রসাধনী? এই প্রশ্ন ইদানিং কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে অনেককেই।


কিন্তু রূপবিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করছেন, প্রায়শই প্রসাধন ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই মেকআপের কুপ্রভাব দেখা যায়। তার মূল কারণ দুটি। প্রথমত ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করেন না। দ্বিতীয়ত দিনের শেষে মেকআপ ঠিক মতো তোলাও হয় না।


মেকআপ কেনা, তার ব্যবহার ও প্রসাধনের পরে পরিচর্যার কিছু কায়দা মনে রাখলে এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।


মেকআপে যদি রাসায়নিক রঞ্জক বেশি মাত্রায় থাকে, তবে তাতে জীবাণু মিশতে পারে। এই ধরনের মেকআপ ত্বকে বেশিক্ষণ থাকলে র‌্যাশ, ব্রণ বার হয়। ত্বকের নতুন কোষ তৈরি হতেও বাধা পায়। তখনই চামড়া স্থিতিস্থাপকতা হারায়, তাতে বলিরেখা পড়ে। সবচেয়ে আগে ভাঁজ পড়ে চোখের চার পাশে। চেহারায় বয়সের ছাপ আসে।


আর কোনোভাবে যদি মেকআপের অবশিষ্ট ত্বকে থেকে যায়, তবে তা লোমকূপের মুখ আটকে দেয়। ওই ছিদ্রে ব্যাকটিরিয়া জন্মায়। ফলে ছিদ্র বড় হতে থাকে। তখনই ত্বকে গর্ত দেখা দেয়। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হয়। ত্বক নিষ্প্রাণ, বয়স্ক দেখায়।


নিম্ন মানের কাজল, আইলাইনার ভুল ভাবে ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণও হতে পারে। চোখ চুলকায়, জ্বালা করে, লাল হয়। দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হতে শুরু করে। তাই চোখের মেকআপ নির্বাচনের সময়ে সাবধানতা বিশেষ জরুরি।


সারাদিন ঠোটে লিপস্টিক লাগিয়ে রাখেন? লিপকালার ত্রুটিপূর্ণ হলে ঠোটের স্বাভাবিক রং চলে যেতে পারে। তখন ঠোট শুকিয়ে ছাল ওঠে, কালচে ছাপও দেখা দেয়।


প্রসাধন নির্বাচন


ভাল গুণমানের প্রডাক্টে এমন উপাদান থাকে, যা ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষা করে, সজীব রাখে, দ্যুতি বাড়ায়। তাই খুব উন্নত মানের প্রডাক্ট ব্যবহার করলে ত্বক ভাল থাকবে। তবে পেশার প্রয়োজনে রোজ মেকআপ করতে হলে, ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।


তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র ত্বকের প্রসাধন সামগ্রী কোন সময় এক হবে না। অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলেও সংবেদনশীল ত্বকের উপযুক্ত সামগ্রী কিনতে হবে। কোন প্রডাক্টে কৃত্রিম রঞ্জক, ল্যানোলিন বা মিনারেল অয়েল থাকলে, তা এড়িয়ে চলুন।


অন্যদিকে, মিনারেলসমৃদ্ধ মেকআপ বেছে নেওয়া ভাল। কারণ এই ধরনের প্রসাধনী ত্বকে আটকে না থেকে তা উপরের পরতে আলগা লেগে থাকে। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয় না। আবার পরিবেশের ক্ষতিকর পদার্থগুলো ত্বকে ঢুকতে বা মেকআপে মিশতেও দেয় না।



সঠিক নিয়মে মেকআপের অভ্যাস


স্ক্রাব করে, দু’বার মুখ ধুয়ে তবে মেকআপ শুরু করুন। এতে কোন ময়লা মেকআপে মিশে বিক্রিয়া হওয়ার সুযোগ থাকবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মেকআপ তোলার বিষয়টি। ঘরে ফিরে যতই ক্লান্ত লাগুক, মেকআপ ভাল ভাবে ধুয়ে তুলে ফেলুন। প্রথমে মেকআপ রিমুভার দিয়ে সমস্ত প্রসাধনী পরিষ্কার করে নিন। চোখের অংশ সুইট আমন্ড অয়েল দিয়ে মুছে নিন।


তারপরে ক্লেনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে হালকা ময়শ্চারাইজার লাগান। মেকআপ ঠিক করে না তোলার জন্যই ত্বকে বেশির ভাগ সমস্যা হয়। মেকআপ না তুলে ভুলেও ঘুমোতে যাবেন না। এতে লোমকূপের মুখ বুজে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করবে। বালিশের ময়লার সঙ্গে মেকআপ ও ত্বকের মৃত কোষ মিশে হারিয়ে যেতে পারে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা।


মেকআপ ব্রাশগুলো পরিষ্কার রাখুন


একটি পার্টিতে যাবার আগে আপনি মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করেন এবং তাড়াহুড়োতে তাদের ঐভাবেই রেখে চলে যান। পরবর্তী পার্টির যখন সময় আসে, তখন আপনি একই মেকআপ ব্রাশ পুনরায় ব্যবহার করার ভুলটা করে ফেলেন। পুরাতন ব্লশ বা পাউডারের অবশিষ্টাংশের সাথে একই মেকআপ ব্রাশের পুনরায় ব্যবহারটি আপনার ত্বকের ছিদ্রকে আরও নিস্তেজ করে দেয়।
এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হল, ব্রাশগুলিকে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাসে কমপক্ষে দুবার বা প্রতিটি মেকআপ সেশনের পরে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।
এছাড়াও ব্রাশগুলি ড্রেসিং টেবিলে সাজিয়ে রাখবেন না, তাতে ধুলো বালি জমতে পারে। এর পরিবর্তে তাদের একটি ব্যাগে বা টিস্যুর মধ্যে মুড়িয়ে রাখুন।


ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার


প্রতিদিন সকালে ও রাতে ত্বক পরিষ্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেকআপ ব্যবহার করলে। তবে আপনি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মুখ বা শরীর পরিষ্কার করেন, তাহলে আপনার ত্বক শুষ্ক ও নির্জীব দেখাতে পারে।


বিশেষ করে মেকআপ ব্যবহার করলে। তবে আপনি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মুখ বা শরীর পরিষ্কার করেন, তাহলে আপনার ত্বক শুষ্ক ও নির্জীব দেখাতে পারে। তাই সাবধান! আসলে সাবান বা ফেস ওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দেয়। ফলে ত্বক নির্জীব ও শুকনো দেখায়। অতএব আপনার ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চারাইজিং তেলকে ধরে রাখতে পরিষ্কারের জন্য বেশি পানি এবং কম সাবান ব্যবহার করুন, দেখবেন উপকার পাবেন।


শুধুমাত্র মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ


প্রতিদিন ত্বকে সানস্ক্রিন প্রয়োগ সুস্থ্য অভ্যাস। কিন্তু শুধুমাত্র মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। শরীরের যে যে অংশ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে, সেই সেই অংশেও সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত। প্রসঙ্গত, আপনি যদি শুধুমাত্র মুখেই সানস্ক্রিন প্রয়োগ করেন, তাহলে মুখ এবং শরীরের রং পৃথক দেখাতে শুরু করবে।


ঘুমানোর অভ্যাস


ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস হল দীর্ঘদিন একই বালিশের কাভারে ঘুমোনো। আপনি যখন ঘুমোন, বালিশের কাভার বাড়তি নাইট ক্রিম, মৃত চামড়ার কোষ, তেল এবং ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করে। আপনি যখন আবার সেই কাভারে পাশ ফিরে শোন তখন সেই সব জিনিস আবার আপনার মুখেই জমা হয়। অতএব প্রতি সপ্তাহে একবার কাভারগুলি পরিবর্তন করুন, ভাল ফলাফল পেতে সুতির বদলে রেশমের কাভার ব্যবহার করুন।


প্রসাধনীর সঙ্গে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা


রঙিন বোতল এবং বাক্সগুলি যা মেকআপের দোকানের আলমারিতে শোভা পায় তা খুবই লোভনীয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, রং বা নানারকম প্রসাধনী চেষ্টা করার মজাই আলাদা। কিন্তু আপনি কি জানেন এটি ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক বদভ্যাস। ত্বককে ভাল রাখতে এক বা দুটি ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত থাকাই ভাল।


যদি আপনি অফিসের সমস্যা বা আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চাপে থাকেন, তবে তা আপনার ত্বকে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। আপনার জীবনে তীব্র চাপ এবং টেনশন আসতে না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হল, নিজেও বাঁচুন এবং ত্বককেও বাঁচান। স্বাস্থ্যকর ত্বকের চাবিকাঠি হল নিজেকে খুশিতে রাখা যা অচিরেই সুস্থ্য জীবনযাপনের দিকে নিয়ে যায়।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com