দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে ঠাণ্ডা পানি
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৯, ১৬:৫৭
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে ঠাণ্ডা পানি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

গরম হোক আর শীতকাল হোক, ঠাণ্ডা পানি ছাড়া চলে না এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকের আবার ঠাণ্ডা পানি ছাড়া চলেই না। তবে সবসময় ঠাণ্ডা পানি খাওয়া শরীরের জন্য উপকার বয়ে আনে না, উল্টো নানা রোগব্যাধির কারণ হয়।


তবে সবসময় ঠাণ্ডা পানি খাওয়া কি শরীরের জন্য উপকারী? আসুন জেনে নেই ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার কুফল...


১. বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠাণ্ডা পানি পানের অভ্যাস অস্বাস্থ্যকর। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লেষ্মার আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


২. মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পানে আমাদের স্বাভাবিক পরিপাকক্রিয়াও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।


৩. শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠাণ্ডা পানি একেবারেই পান করা যাবে না। কারণ, ঘণ্টাখানেক ওয়ার্কআউটের পর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। এই সময় ঠাণ্ডা পানি পান করলে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বিঘ্নিত হয়। ফলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।


৪. দন্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পানের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস স্নায়ুর ওপর। এই ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের গতি অনেকটা কমে যেতে পারে।


তাই ঠাণ্ডা পানি পানের অভ্যাস থাকলে বদলে ফেলুন।


যত বেশি সম্ভব পানি পান করা সবচাইতে বেশি প্রচলিত স্বাস্থ্য উপদেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত বিষয়গুলো সত্য হলেও, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়।


পানি পানের পরিমাণ এবং পদ্ধতি


সকালে খালি পেটে এক গ্লাস বা আড়াইশ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে।


খাওয়ার ঠিক পরপরই পানি খাওয়া যাবে না। বরং পুরো খাওয়ার মাঝে এক কাপ পরিমাণ বা দেড়শ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে, চুমুকে চুমুকে।


দুপুরের খাওয়ার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর এক’দুই চুমুক পানি পান করতে হবে।


পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড রেখে তারপর গলধঃকরণ করা উচিত।


সবসময় ফুটানোর পানি পান করতে হবে। ফুটানোর ১২ ঘণ্টা পর ওই পানি পান না করাই ভালো।


পানি পানের স্বাস্থ্যকর পরিমাণ নির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এটি নির্ভর করে আবহাওয়া এবং একজন ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণের উপর। পাশাপাশি সারাদিন অন্যান্য তরল কতটা পান করা হচ্ছে সেটাও হিসেবে রাখতে হবে।


দৈনন্দিন খুঁটিনাটি সমস্যাগুলো সারাতে পানি পান করা সমস্যাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।


মনে রাখতে হবে, পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে, কুসুম গরম পানি পান করতে হবে, এবং ধীরে পান করতে হবে


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com