ঘূর্ণিঝড়ের সময় আগে ও পরে করণীয়
প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৯, ১৭:২২
ঘূর্ণিঝড়ের সময় আগে ও পরে করণীয়
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

৪৩ বছর পর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত বয়ে আনছে ফণি। অতিপ্রবল এ ঘূর্ণিঝড় আজ শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ অতিক্রম করার সময় এটির গতি হবে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। ধেয়ে আসা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফনির কারণে হতে পারে জলোচ্ছ্বাসও। সমুদ্রবন্দরগুলোতে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


প্রকৃতিসৃষ্ট এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় এলাকা থেকে দূরে থাকলেও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে নিতে হয় নানান সাবধানতা। তাই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর কী করবেন, তা জেনে রাখা জরুরি।


আবহাওয়ারে পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করা জরুরি। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত শুনুন। নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারের ক্ষেত্রে অবশ্যই রেডিও রাখতে হবে।



বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম যেমন ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক প্রভৃতি রাখুন; কাজে লাগতে পারে নিজের ও প্রতিবেশির।


ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে অথবা অন্য আশ্রয় নিতে যাবার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেয়া অতি আবশ্যক এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা যেতে পারে; তার তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।


আর্থিক সঙ্গতি থাকলে ঘরের মধ্যে অথবা বাড়ির কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় পাকা গর্ত তৈরি করে রাখতে পারেন। এই পাকা গর্তের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে খাদ্যের প্রস্তুতি জরুরি। বাড়িতে বিভিন্ন রকম শুকনো খাবার যেমন-চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ইত্যাদি সংরক্ষণ করুন।


নোংরা পানি কিভাবে ফিটকিরি ও ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায় সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিন।


ঘূর্ণিঝড়ের ফোন ফুল চার্জ করে রাখুন। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ফোন ফুল চার্জ না থাকলে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অসুবিধা হবে।


বড় ড্রাম কিংবা বালতিতে যতটা সম্ভব পানি ধরে রাখুন। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের পরে পানির লাইনও সাময়িক বন্ধ থাকতে পারে।


হাতের কাছে পর্যাপ্ত মোমবাতি, গ্যাস লাইট ইত্যাদি রাখুন।


ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে গেলে বাড়ির সমস্ত বৈদ্যুতিক সামগ্রী থেকে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করুন।


ঘূণিঝড় সম্পর্কে নিতে বিস্তারিত জানুন; পরিবার সদস্যদের অবহিত করুন; আশপাশের মানুষকেও জানান।


শহরের জন্য সাবধানতা


রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর অঞ্চলে বেশিরভাগ মানুষ পাকা বাড়িতেই বসবাস করেন তাই বাসস্থানের দিক থেকে সিংহভাগই নিরাপদ।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানীতে ভারি বর্ষণ, ঝড় হাওয়া, বজ্রপাত ইত্যাদি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ শহরে বেশিমাত্রায় না পড়লেও সাবধান থাকতে হবে ঘরের বাইরে চলাফেরায়। ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সচেতন থাকতে হবে।


প্রচুর বজ্রপাতের আশঙ্কা আছে, তাই গৃহস্থালী বৈদ্যুতিক আসবাব ব্যবহারে সাবধান হতে হবে, সম্ভব হলে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে।


বাইরের চলাফেরার সময় বৈদ্যুতিক খাম্বা ও তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়াও ঝড় বাতাসে উপড়ে যাওয়া গাছ, বৈদ্যুতিক খাম্বা এবং বাতাসে উড়ে আসতে পারে এমন যে কোনো বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।


নিতান্তই নিরুপায় না হলে সব অঞ্চলের মানুষের উচিত হবে নিজ নিজ নিরাপদ বাসস্থানে অবস্থান করা।


ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌছালে দূর্যোগ কবলিত মানুষদের জন্য ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জার্মান রেড ক্রস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বাংলাদেশ সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)।


আরোও কিছু সাবধানতা


* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেখে আতঙ্কিত না হওয়া।


* যেকোনো পেইজে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে পোস্ট দেখে আতঙ্কিত না হয়ে টিভি অথবা এফএম রেডিও এর খবর শুনুন। বিপদে শান্ত থেকে সমাধানের চেষ্টা করাই আসল কাজ।


* চার্জ দেওয়া: পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট এ চার্জ ফুল রাখুন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলার জন্য এক দিনের বেশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, মোবাইল ফোনের সেবা পাওয়া যায়নি।


ঢাকায় আছি বলে কিছু হবে না, এমন মনে করা বোকামি। ব্যাকআপ হিসেবে মোমবাতি এবং লাইটার রাখা ভালো। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আগুণ সব সময়ই শেষ পন্থা।


* ফার্স্ট এইড বক্স: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়রিয়া, জ্বর এর জন্য স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে রাখুন।


* নিরাপদ আশ্রয়: বাসা টিন শেড হলে বা নিচ তলায় হলে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পানিরোধক বাক্সে টেপ এবং পলিথিন পেঁচিয়ে রাখুন। ফ্লোরে মাল্টিপ্লাগ রাখবেন না।


* শুকনো খাবার: নিরাপত্তার জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন লাইন বন্ধ থাকতে পারে। রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনা খাবার সংগ্রহে রাখুন।


* রেলিংয়ের ওপর ফুলের টব, কনস্ট্রাকশন এর জিনিস: এই ধরনের জিনিস নিরাপদ স্থানে রাখুন। খোলা জায়গায় কনস্ট্রাকশনের জিনিস রাখবেন না। বাসার পাশে নির্মাণাধীন ভবন থাকলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।


ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে করণীয়


* রাস্তায় থাকলে শপিং মল, মসজিদ, স্কুল বা যেকোনো বিল্ডিং এ আশ্রয় নিন। কোনোভাবেই খোলা আকাশের নিচে থাকা যাবে না।


* এই সপ্তাহে জ্যামে পড়লে গাড়ির পাশে জায়গা রেখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন যেন বিপদের মুহূর্তে দরজা খোলা যায়।


* বিল্ডিংয়ে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের মেইন লাইন অফ করে দিন।


* দরজা জানালা বন্ধ রাখুন যাতে বাইরে থেকে ময়লা বা ভারী কিছু উড়ে এসে আঘাত করতে না পারে।


* টিনশেড বাসা বা নিচু জায়গায় হলে যদি নিরাপদ মনে না হয়, নিরাপদ কোথাও আশ্রয় নিন।


* ফোনে রেডিও শুনতে হবে। ডেটা কানেকশন চালু রেখে ফেইসবুক স্ক্রল করলে ব্যাটারিও দ্রুত শেষ হবে, নেটওয়ার্কও বেশি ব্যস্ত থাকবে।


* কোনো ভাবেই ট্যাপের পানি সরাসরি খাওয়া যাবে না। ফুটিয়ে বা ভালো ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।


* খুব বেশি জরুরি না হলে রাস্তায় বের হওয়া যাবে না। ইলেকট্রিক শক খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।


* ফোনে কথা বলে নেটওয়ার্ক ব্যস্ত না রেখে এসএমএস ব্যবহার করে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করুন।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com