ভালোবাসার দৃঢ় গাঁথুনিতেই সজ্জিত হতে পারে অন্দর
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:১৯
ভালোবাসার দৃঢ় গাঁথুনিতেই সজ্জিত হতে পারে অন্দর
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলে জীবনটাই পাল্টে যায়। নতুন পরিবেশ পেয়ে নতুন জীবন শুরু হয়। তৈরী হয় নতুন একটি পরিবার। নতুন জীবনের সবকিছু নতুন করে সাজানোর তাগাদা থাকে। তাই আপনার ঘর বাড়ির অন্দর সাজিয়ে তোলেন ভালবাসার স্পন্দনে এবং শৈল্পিক মননে। অন্দরসজ্জার সঙ্গে আছে মনের নিখাদ গভীর সম্পর্ক।


খুব বেশি কিছু না করে সাধারনভাবেই ভালোবাসার দৃঢ় গাঁথুনিতেই সজ্জিত হতে পারে অন্দর। তার জন্য দরকার দুজনের প্রতি দুজনের আন্তরিকতা, মমতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্বাস।


আসলে নতুন সংসারে দেয়ালের রং থেকে শুরু করে আসবাবপত্র; সবকিছুতেই লেগে থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। সীমিত জায়গায় ছোট্ট সংসারকে ছিমছামভাবে সাজানোর দিকেই মূল লক্ষ্য থাকে। তার মানে এই নয় যে, ঘর সাজানো মানেই খরচ। এই ধারণা একদমই ভুল।
অল্প ব্যয়ে মার্জিত করে সাজিয়ে নেয়া যায় নিজের ফ্ল্যাট বা ছোট ঘরখানা। কিভাবে পরিকল্পনামাফিক তা করা যায় সেটাই হলো দুজনের আর্থিক সামঞ্জস্যতা এবং দুজনেরই রুচিবোধের মিশ্রণ।


নতুন সম্পর্কের দায়িত্ববোধের পাশাপাশি দুজনেরই পারস্পরিক পছন্দের প্রতি আস্থা এবং সম্মান থাকা উচিৎ। তবে অন্দরের খুঁটিনাটি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা চিরাচরিত রীতিনীতিতেই গড়ে উঠে। যেমন, নতুন সংসারে মেহমানের আপ্যায়ন শুরু হবেই লিভিং রুম বা বসার ঘর থেকেই। তাই বসার ঘরের আয়তনের দিকে লক্ষ্য রেখে সাজানোর জন্য সচেতন হতে হবে। আপনার ঘরটি ছোট হলে গাদাগাদি করে আসবাবপত্র রাখার দরকার নেই।


বসার ঘরের সোফাও একটু পরিকল্পিতভাবে বসানো উচিত, যেন অল্প পরিসরেও অতিথি আরাম করে বসতে পারেন। বসার ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন পেইন্টিংসও ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।


এছাড়াও তৈরি করতে পারেন ‘ফিচার ওয়াল’ কিংবা ইলিউশন। তবে ইলিউশন ব্যবহারে কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা সব ঘরে সব ধরনের ইলিউশন মানায় না। দেয়ালে ভুল ইলিউশনের ব্যবহার মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


একটা দেয়াল একটু উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে কিংবা বিভিন্ন ধরনের রাফ টেক্সচার করে তাতে স্পটলাইটের ব্যবস্থা করে টাঙিয়ে রাখতে পারেন প্রিয় মুহূর্তের ছবিগুলো। তাতে অন্দরের সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘরময় ছড়িয়ে থাকবে ভালোবাসা।


যেহেতু, নতুন সংসারে এমনিতেই রঙে ভরপুর থাকে, তাই অন্দরে স্নিগ্ধতা আনতে পর্দাকেই সবার আগে বেছে নেয়া হয়। মনে রাখবেন উজ্জ্বল রংই ঘরকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করে রাখে। তাই উজ্জ্বল রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টে রাঙিয়ে তুলতে পারেন রুমগুলোকে। হলুদ, কমলা, লাল, সবুজ বা কালচে লাল রঙের ফ্লোরাল প্রিন্ট বেছে নিতে পারেন পর্দার ক্ষেত্রে। আর পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বসার ঘরের কুশন কভারও বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ফ্লোরাল প্রিন্টের।


সোফার কভারের ক্ষেত্রে যদি ফ্লোরাল প্রিন্ট ব্যবহার করতে না চান তাহলে এক্ষেত্রে একটু গাঢ় রং বেছে নিন। তবে কুশন কভার ফ্লোরাল প্রিন্টের থাকলে সোফার কভার এক রঙের হলেই বেশি মানাবে। আসলে রঙের স্বাচ্ছন্দ্য একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম। যেমন, গাঢ় উজ্জ্বল রঙের অনুভূতি এ ধরনের, হালকা রঙের অনুভূতি আরেকধরনের। গাঢ় রঙের সমন্বয় হলে মানুষের মনের উপর তা প্রভাব ফেলবে।


নতুন দম্পতিদের ক্ষেত্রে আসবাবপত্র দিয়েই যে ঘর কানায় কানায় ভরিয়ে ফেলতে হবে তাও কিন্তু নয়! ঘর সাজাতে প্রতি রুমের আয়তন অনুযায়ী আসবাব কিনতে হবে। দরকারের বেশি আসবাবে ঘর বোঝাই না করাই ভালো। ঘর যত ছোটই হোক না কেন, অন্তত একটি-দু’টি গাছ রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ গাছের সবুজ রং চোখকে আরাম দেয়।


নানান ধরনের গাছের বৈচিত্রতা, সজীবতা মনকে করে তুলবে এমনিতেই উৎফুল্ল এবং উষ্ণ আমেজমুখর। ঘরের বিভিন্ন কোণে আলাদা করে সাজাতে পারেন ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির পটারি, ড্রাই স্টিক কিংবা ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড। আবার তাজা রঙিন ফুলও কিন্তু ভালোবাসার নিদর্শন।


বাড়ির অন্দর রঙিন, উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে সামান্য ফুলের ছোঁয়ায়। আর তাজা ফুল আসলে কোথায় সাজাবেন, কিভাবে সাজাবেন তার সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম হয় না। তাজা রঙিন ফুল নিজেদের পছন্দ এবং খুশিমতো সাজিয়ে অন্দরে এক রোমান্টিক আবহেরও সৃষ্টি করতে পারেন।


নব দম্পতিরা চাইলে দেশজ কারুশিল্প দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন ভালোবাসার ছোট্ট নীড়। অন্দরসজ্জায় দেশীয় সামগ্রীর ব্যবহারে অন্দর হয়ে উঠবে আরও বেশি আভিজাত্যে ভরপুর। এসব দেশীয় পণ্যের মধ্যে আছে উর্বশী কাঠের আসবাব, বাঁশ, পটারি, মুখোশ, চিত্রকর্ম, ল্যাম্পশেড, শতরঞ্জি সহ আরও কত কি। এসব পণ্য দেখতে যেমন নান্দনিক তেমনি অন্দরসজ্জায় অত্যন্ত পারদর্শী।


শুধু তাই নয়, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতাই সাজিয়ে নেয়া যায় ঘরের জানালাগুলোও। এর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিংবা মিষ্টি টুংটাং শব্দ শোনার জন্য উইন্ড চাইম ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। উইন্ড চাইম ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। শুধু একটি মাত্র উইন্ড চাইমই ঘরের আবেদন অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে পারে।


তবে সংসার নতুন কিংবা পুরনো হোক না কেন, অন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। আর আপনি আপনার অন্দর যেভাবেই সাজান না কেন, তা যেন কোন ভাবেই আপনার স্বাচ্ছন্দ্যকে নষ্ট না করে, সে দিকটি বিষেশভাবে খেয়ল রাখতে হবে।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com