ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯, ১৬:৫২
ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


সোমবার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন জেল সুপার এ নির্দেশ দেন।


আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলাদেশ সরকারের নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সে অনুযায়ী তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক। যদিও একজন ওসি সরাসরি প্রথম শ্রেণির নাগরিক না, তবে এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা আছে। দয়া করে আপনি ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন।


এরপর রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম ডিভিশনের বিরোধিতা করে বলেন, আসামি বর্তমানে বরখাস্ত। তাই তার ডিভিশন বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী জেল সুপারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।


এর আগে, ২০ জুন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জন্য কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ। এরপর বিচারক ডিভিশন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।


২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।


এরপর ১৫ দিন পলাতক ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম। ১৬ জুন দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। ১৭ জুন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।


প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানেন। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান।


বিবার্তা/তাওহীদ/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com