ঢাকা মেডিকেল থেকে শিশু চুরি, দুজনের যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ১৯:৩৮
ঢাকা মেডিকেল থেকে শিশু চুরি, দুজনের যাবজ্জীবন
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

২০০৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে দুই নবজাতককে চুরি করে পাচার করা হয়েছিল। সেই দায়ে আজ মঙ্গলবার দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে তাদের।


খিলগাঁও থানায় করা এই মামলায় মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এই রায় দেন।


দণ্ডিতরা হলেন গাজীপুরের বোর্ডবাজার কুনিয়াপাচু এলাকার ঝর্না বেগম এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁনমারা বস্তির মানিক।


রায় শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দণ্ডিত মানিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঝর্না রয়েছেন পলাতক।


রায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দারোয়ান আব্দুল মতিন এবং বিশেষ আয়া শিলাকে খালাস দেয়া হয়েছে। শিলাও পলাতক।


ঢাকা মেডিকেল থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার সবুজবাগ থানায় মামলাটি হয়। শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম এটি দায়ের করেন।


ওই মামলায় আসামি ঝর্না, মানিক, শিলা, মতিনকে অব্যাহতির সুপারিশ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। আসামিরা তখন ঢাকার পঞ্চম নারী ও মিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতিও পেয়ে গিয়েছিলেন।


মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ জানুয়ারি খিলগাঁও এলাকায় ঝর্ণা বেগম আট থেকে দশ দিন বয়সী ছেলে নবজাতকসহ আটক হন। ঝর্ণা বেগম তখন স্বীকার করেন, ওই বাচ্চা তার নয়। এ ছাড়া তার হেফাজতে আরও একটি কন্যা নবজাতক আছে রামপুরায়। তখন পুলিশ রামপুরা থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে।


ঝর্ণা জানান, ছেলে শিশুটি তিনি নিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মানিক মিয়ার কাছ থেকে। পরে মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর কন্যাসন্তানটি তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দারোয়ান আবদুল মতিনের কাছ থেকে নিয়ে আসেন বলে পুলিশকে জানান।


তদন্ত শেষে খিলগাঁও থানার এসআই আবুল খায়ের ঝর্ণা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ২৬ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে ঝর্না ও মানিক চুরি করে এনেছিলেন। তাদের সহায়তা করেন দারোয়ান মতিন ও আয়া শিলা। নবজাতক দুটির প্রকৃত অভিভাবক পাওয়া যায়নি। মামলায় ১৫ জনের মধ্যে নয়জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।


ঝর্ণাকে গ্রেফতার করার পর আদালতে এক প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, নবজাতক সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেন ঝর্ণা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুবাই ছিলেন।


পরে খিলগাঁও থানায় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নতুন মামলা হয়। ওই মামলারই রায় হল মঙ্গলবার।


তদন্ত কালে আসামিরা হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন নয়জন।


রাষট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার। আসামি পক্ষে ছিলেন মোকসেদ আলী আকন্দ।


বিবার্তা/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com