শোলাকিয়ায় হামলা : ৫ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৭
শোলাকিয়ায় হামলা : ৫ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

চাঞ্চল্যকর শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


অভিযোগপত্রে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৪জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে অভিযুক্ত ১৯জন বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে।


অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম (২৪), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর এলাকার জঙ্গি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী (৩২), শিবগঞ্জের হাজারদিঘা গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান (৬০), নিহত জঙ্গি শফিউলের বাড়িওয়ালা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পান্থাপাড়ার আনোয়ার হোসেন (৪৫) এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী সাদিপুর কাবলিপাড়ার জঙ্গি নেতা মো. আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ (৩৩)। অভিযুক্ত এই পাঁচজনই এই মামলায় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে।


বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। মামলাটির তদন্তে পুলিশ নিবিড়ভাবে কাজ করেছে।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার নিকট টাঙ্গাইলে অভিযানে নিহত মাহফুজুর রহমান বিজয় ওরফে সুজন এর ভাড়াটিয়া বাসায় শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ২৪শ জুন রাজধানীর বসুন্ধরায় অ্যাপোলো হাসপাতালের পেছনে তানভীর কাদেরীর বাসায় শোলাকিয়া হামলার পরিকল্পনা হয়। এই পরিকল্পনায় রাজীব গান্ধী, তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, নূরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান চকলেট, তানভীর কাদেরী, খাইরুল ইসলাম ওরফে বাঁধন ওরফে পায়েল, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিমল ওরফে নাহিদ, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিব্রাস ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের ও মেজর জাহিদ উপস্থিত ছিল।
পরবর্তিতে হামলার তিন দিন আগে ৪ জুলাই মিরপুর শেওড়া পাড়ার একটি বাসায় নূরুল ইসলাম মারজান, সারোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান ও রাজীব গান্ধী এই তিন জঙ্গি শোলাকিয়া হামলার বিষয়ে আরো একটি পরিকল্পনা মিটিং করে। ওই মিটিংয়েই শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে হত্যা করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, শোলাকিয়া হামলায় খরচের যাবতীয় টাকা হুন্ডির মাধ্যমে সিরিয়া, সৌদি আরব ও পাকিস্তান থেকে আসে। এ ছাড়া ভারত থেকে আসে অস্ত্র ও গোলাবারুদ।


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জালাই ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্ ময়দানের প্রবেশে পথের আজিম উদ্দিন হাই স্কুল সংলগ্ন সবুজবাগ সংযোগ সড়ক পথে জঙ্গি হামলার সময় পুলিশ ও জঙ্গি সংঘর্ষে গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক নিজ ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া এ ঘটনায় জঙ্গিদের চাপাতির কোপে জহুরুল ও আনসারুল নামে দুই পুলিশ কনস্টেবল ও আবির রহমান নামে এক জঙ্গি নিহত হয় এবং ১০ পুলিশ সদস্য ও চার মুসল্লিসহ ১৪ জন গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পর পাশের আজিমউদ্দিন স্কুলের মাঠসংলগ্ন মুফতি মোহাম্মদ আলী মসজিদের সামনের টয়লেটে আত্মগোপনে থাকা হামলাকারী জঙ্গি দলের দলের সদস্য শফিউল ইসলাম ওরফে ডন ওরফে মোকাতিলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে র‌্যাব। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় র‌্যাব পাহারায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ আনার পথে একই বছরের ৬ আগষ্ট রাত ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের ঘোষপাড়া ডাংরী নামক স্থানে একদল জঙ্গি অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শফিউল ও মুস্তাকিম নামে দু’জন। তারা শোলাকিয়া হামলার আসামি। এ সময় আহত হন র‌্যাবের তিন সদস্য।


শোলাকিয়ার হামলাকারী শফিউল, আবির, করিমসহ কয়েকজন হামলার আগে ওই এলাকাটি কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ করে। তাদের মূল পরিকল্পনা ছিল শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে হত্যা করা। কিন্তু পথে পুলিশের তল্লাশি তৎপরতা দেখে তারা বুঝতে পারে ঈদ জামাতের ভেতরে প্রবেশ করা সহজ হবে না। এ সময় হামলাকারী জঙ্গিদের কমান্ডার করিম সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ চেক পোস্টে হামলা করার। এজন্য তারা সকাল সাড়ে ৮টার দিক আবির ও শফিউলের ব্যাগে থাকা গ্রেনেড বের করে। তারা একসঙ্গে ওয়ান, টু, থ্রি বলে গ্রেনেডের রিং খুলে ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথের পুলিশ চেক পোস্টের দিকে ছুড়ে মারে।


একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়। এ সময় আবির আরেকটি গ্রেনেড ছোড়ে। ওই গ্রেনেডের আঘাতে ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্য পড়ে যান। জঙ্গিরা তাদের প্যান্টের পকেটে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা চাপাতি বের করে দুই পুলিশকে কুপিয়ে জখম করে। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে পিছু হটে জঙ্গিরা। এ সময় জঙ্গিরা তাদের প্যান্টের বাঁ পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে হাজির হলে জঙ্গি শফিউল আরো একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারে। তখন পুলিশ ও র‌্যাব গুলিবর্ষণ করতে থাকলে ঘটনাস্থলে শফিউলের বুকে গুলি লাগে। ওই সময় আবির চাপাতি উঁচিয়ে পুলিশকে কোপানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে জঙ্গি আবির ঘটনাস্থলে মারা যায়।


বিবার্তা/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com