‘আমার শরীরে, রক্তে মিশে আছে রাজনীতি’
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:৫৬
‘আমার শরীরে, রক্তে মিশে আছে রাজনীতি’
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

''শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ'' - এই স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুত বিভাগের পাওয়ার সেল শাখা। আর সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটিকে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন।


সস্প্রতি রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে তার নিজস্ব কার্যালয়ে সরকারের বিদ্যুতের সফলতাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় বিবার্তার সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিবার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন।


বিবার্তা : বর্তমানে বিদ্যুৎ সেক্টরের অবস্থা কেমন?


মোহাম্মদ হোসাইন : বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমি বলবো যে একটা প্যারডিম শিফট হয়েছে জাতীয় জীবনে। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের পর যে ভিশন আমাদেরকে দিয়েছেন যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হবে। এই রূপকল্প নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করি। বিদ্যুৎ সেক্টরেও আমরা সেই আঙ্গিকে রূপকল্প ঘোষণা করি যে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করবো। সে লক্ষে আমরা কাজও শুরু করেছি।


২০০৯ সাল পর্যন্ত যেখানে আমাদের বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৫০০০ মেগাওয়াটের নিচে, বর্তমানে সেটি বেড়ে হয়েছে ১৬০০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গত সাড়ে আট বছরে বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। এটা অভাবনীয়। বিশ্বের কোথাও এমন ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।


আমরা যে শূধু বিদ্যুত উৎপাদন বাড়িয়েছি তা না, পাশাপাশি সমস্ত ইন্ডিকেটরও একইভাবে বেড়েছে। যেমন ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৪৭ ভাগ, যেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ৮৩ ভাগ। এটাও দ্বিগুণ। ২০০৯ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি নয় লক্ষ, এটা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ২ কোটি ৭৪ লক্ষ। এটাও প্রায় তিন গুণ।


শুধু যে পরিমাণগত পারফরমেন্স দেখাতে পেরেছি তা নয়, কোয়ালিটিতেও এগিয়েছি। বিদ্যুত খাতে সুশাসনের বড় একটি ইন্ডিকেটর হচ্ছে সিস্টেম লস। আমি যখন ১৯৯৬তে পাওয়ার সেক্টরে জয়েন করি তখন বিদ্যুতের সিস্টেম লসের পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন সিস্টেম লসের পরিমাণ ছিল ১৬ শতাংশ। আজকে সেটা এখন ১০ শতাংশ। যদি ১ শতাংশ সিস্টেম লস কমে তাহলে বছরে ৩শ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। সে হিসেবে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে শুধু সিস্টেম লস কমার কারণে।


২০০৯ সালের বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৫০ ডলার, আজকে সেটা ১৬২০ ডলার। এই যে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে সে কারণেও কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। যে-বাড়িতে একটা হয়তো দুইটা ফ্যান, তিনটা লাইট চলতো সেই গ্রামের বাড়িতে এখন ফ্রিজ, টিভি আছে। এই যে অতিরিক্ত লোকের কানেকশন দিয়েছি তা না, আগের যে ১ কোটি ৮ লক্ষ তাদেরও চাহিদা বেড়েছে সোটও আমাদের মেটাতে হয়েছে।


বিবার্তা : দেশের সব মানুষ কত সালের মধ্যে বিদ্যুৎসুবিধার আওতায় আসবে বলে মনে করেন?
মোহাম্মদ হোসাইন : ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসার কথা আমাদের ভিশনে উল্লেখ রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা আমাদের টার্গেট ফুলফিল করতে পারবো। কারণ প্রতি মাসে আমরা গড়ে প্রায় ৪ লক্ষ গ্রাহককে আমরা সংযোগ দিচ্ছি।


বিবার্তা : বর্তমানে আপনারা কোন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন?


মোহাম্মদ হোসাইন : আমরা যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছি যেটার মাধ্যমে ২০২১ সালে ২৪০০০ মেগাওয়াট, ২০৩০ সালে এসডিজি গোল অর্জন করতে হলে আমাদের ৪০০০০ মেগাওয়াট দরকার এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হতে হলে আমাদের ৬০০০০ মেগাওয়াট দরকার। আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৭টি, এই সরকারের আমলে এখন দেশে ১০৮ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটাও এবটি বড় অ্যাচিভমেন্ট।


আমাদের এখন প্রায় ১৬০০০ মেগাওয়াট রয়েছে ইন অপারেশন, নির্মানাধীন রয়েছে প্রায় ১০০০০ মেগাওয়াটের মত এবং আরো পরিকল্পনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের টার্গেট ২৪০০০ মেগাওয়াট থাকলেও ৩০০০০ মেগাওয়াটের টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আর আমাদের চাহিদা হলো মাত্র ২০০০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বেশি পরিকল্পনায় রেখেছি।


বিবার্তা : আমরা জানি যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল গ্যাস লাগে। বিষয়টি যদি তাই হয় তাহলে আমাদের এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের ভবিষ্যত কতটুকু?


মোহাম্মদ হোসাইন : আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ প্রাথমিক জ্বালানির প্রাপ্যতা। আমাদের বিগত সরকারগুলো জাতিকে যেভাবে বিভ্রান্ত করেছে আমাদের সেক্টরকেও একইভাবে বিভ্রান্ত করেছে। যেমন তারা বলেছে এই দেশ গ্যাসের ওপরে ভাসে। সেই চিন্তা করে পুরো পাওয়ার সেক্টরটা ছিল গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন ৯০ ভাগ উৎপাদন আসতো গ্যাস থেকে। আজকে সেটা কমে আসতে আসতে ৬০ ভাগে আসছে। এটা আরো কমে যাবে। আমাদেরকে টেকসই জ্বালানী মিশ্রণের বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। এ কারণে কয়লাকে আমরা মূল জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করেছিলাম। সেই লক্ষ্যে কাজও করছি।



আমাদের যথেষ্ট কয়লার মজুদ রয়েছে। জায়গাগুলো উর্বরভূমি এলাকায় হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কয়লা আহরণ করছি না। আপাতত আমদানিকৃত কয়লার উপর নির্ভর করে কয়লাভিত্তিক বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।


রামপালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাস্তবায়ন চলছে। পায়রাতে চীনের সাথে ১৩২০ মেগাওয়াটের আরেকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। মাতারবাড়িতে জাপানের আর্থিক সহায়তায় ১২০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রাইভেট সেক্টরগুলো বেশ কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে।


বিবার্তা : বিদ্যুতের কয়েক ধাপ মূল্য বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে না?


মোহাম্মদ হোসাইন : আমাদের ভিশন হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, দাম বাড়ানোটা কমিটমেন্টের বিচ্যুতি কিনা? আমি বলবো, বিদ্যুৎকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। টাকার মানটা বিবেচনা করতে হবে। আমাদের সব কিছু বিবেচনা করে সমন্বয় করতে হয়। সরকার যখন কম মূল্যে বিদ্যুৎ দিত, মানুষ অপচয় করতো। অফিস-আদালত, বাসাবাড়িতে সারা দিন লাইট-ফ্যান চালিয়ে রাখতো। এখন মানুষ অনেক অনেক সচেতন। বিদ্যুতে সরকার যে পরিমাণ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সেটি আপনার-আমারই টাকা। আমি বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে না দিয়ে ট্যাক্সের মাধ্যমে দিচ্ছি। সুতরাং টাকাটা যদি এই সরকার সাশ্রয় করতে পারে তাহলে অন্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করতে পারবে।


বিবার্তা : রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সুন্দরবন নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখছেন?


মোহাম্মদ হোসাইন : প্রথমেই বলবো এটা নিয়ে সবাই শঙ্কামুক্ত থাকতে পারেন। আমরা ‍বিজ্ঞানসম্মতভাবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পটি করতে যাচ্ছি। আর সুন্দরবন কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়, এটি সকলের আবগের জায়গা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের অনেক স্মৃতি সুন্দরবন ঘিরে। কারণ উনার দাদা খুলনাকেন্দ্রিক ব্যবসা করতেন। উনি যখন জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন, সেখানে আমি মনে করি আর কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে না।


আমরা জায়গা নির্ধারণের জন্য গবেষণা করেছি। এটির জন্য অনেক জায়গার দরকার হয়। এছাড়া জায়গাটি কৃষিজমি কিনা, সেখানে জনবসতি আছে কিনা, কয়লা পরিবহনের ব্যবস্থা আছে কিনা, সর্বশেষ সেখানকার পরিবেশ কেমন - সবকিছু মিলিয়ে আমরা রামপালকে চয়েস করি। দেশের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল। এখান থেকে সেটি ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং সন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে।


অন্যদেশেও এই ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। রামপালে আমরা আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির ব্যবহার করছি। ক্লিন কোল্ড টেকনোলজিও ব্যবহার করছি। এরস্টিং সক্স, লোনক্স মার্নারের জন্য এরস্টিং নক্স, ইটিপি, ইএসপি আমরা ব্যবহার করবো। এগুলো কতটুকু প্রতিপালন হচ্ছে তা দেখার জন্য মনিটরিং টুলসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং আশ্বস্ত করতে চাই, সুন্দবনের কোনো ক্ষতি হবে না।


বিবার্তা : এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। সরকারের এতো উন্নয়নের কথা বললেন, এ উন্নয়নের খবর জনগণের নিকট পৌছাতে আপনি কী ভূমিকা রাখছেন?


মোহাম্মদ হোসাইন : আমার নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-৫। অর্থাৎ হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি এই দুই এলাকার সমন্বয়ে আমাদের নির্বাচনী এলাকা। আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এলাকায় যেয়ে থাকি। তখন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরি। অনেকে শুধু বর্তমান উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। এটা করলে হবে না, বর্তমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি আগের আমলের দুঃশাসনও মনে করিয়ে দেই, যেন জনগণকে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখিন আর কখনো হতে না হয়।


বিবার্তা : আপনি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে চাকরি করে আসছেন। বর্তমানে আমরা যতটুকু জেনেছি আপনার এলাকার জনগণ আপনাকে অন্যভাবে প্রত্যাশা করে অর্থাৎ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন?


মোহাম্মদ হোসাইন : সত্যি বলতে কী, এই দেশ, এই রাষ্ট্র আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমার পড়াশুনার পেছনে বা আমার গড়ে ওঠার পেছনে আমার বাবা-মায়ের খুব বেশি খরচ করতে হয়নি। সরকারী খরচেই পড়াশুনা শেষ করেছি। এই রাষ্ট্র আমাদের এত কিছু দিয়েছে, সে কারণে আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য যথাসম্ভব কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতেও নিজের অবস্থান থেকে করে যাবো।


রাজনীতির কথা বলতে চাচ্ছিলাম না। তবু আপনার প্রশ্নের সূত্র ধরে বলি, আজকাল রাজনীতি অনেক বিতর্কিত হয়ে গেছে। কিছু লোকের কারণে সাধারণ মানুষের ধারণা যে, রাজনীতি করবে খারাপ মানুষ। অথচ রাজনীতি হচ্ছে জনসেবার বড় একটা মাধ্যম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হবে। ইতিমধ্যে সে স্বপ্নের অনেক প্রতিফলন আমরা দেখেছি। সেই স্বপ্নে উদ্দীপ্ত হয়ে আমিও আমার এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে চাই, যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সুযোগ দেন।



বিবার্তা : সরকারী চাকুরীজীবী থেকে রাজনীতিবিদ! বিষয়টাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?


মোহাম্মদ হোসাইন : আসলে কী, আমার শরীরে, রক্তে মিশে আছে রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে। আমার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা দলবল সহকারে আসতেন। আমার মা রান্না করে দিতেন। ওখান থেকেই চেতনার শুরু। পরবর্তীতে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই। আমি দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের প্রথম সদস্যপদ লাভ করি। ১৯৮০ সালে ঢাকা কলেজে দক্ষিণ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলাম। তৎকালীন জেনারেল জিয়ার সন্ত্রাসী বাহিনী নিরু বাবলুর দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছি। বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। জীবনের ঝুকি নিয়ে ফ্রিডম পার্টি ঠেকিয়েছি। ছাত্রজীবন শেষ করে পেশা জীবনেও রাজনীতি করেছি। বর্তমানে আমি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সহ-সভাপতি, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আমি পারিবারিকভাবেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বাবা আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পারিবারিকভাবে ধারণ করেছি।


বিবার্তা/ওরিন/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com