''মার্কেট স্থিতিশীল রাখতে সংঘবদ্ধ হয়ে স্বচ্ছভাবে কাজ করবো''
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:২৫
''মার্কেট স্থিতিশীল রাখতে সংঘবদ্ধ হয়ে স্বচ্ছভাবে কাজ করবো''
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কাজী সানাউল হক। এর আগে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি, অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইসিবির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তিনি বাস্তবায়ন ও ঋণ আদায় ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।


এছাড়া কাজী সানাউল হক প্রধান কার্যালয়ের কর্মচারী বিভাগ, নিরীক্ষা ও পদ্ধতি বিভাগ, ইনভেস্টরস বিভাগ, ইকোনমিক ও রিসার্চ বিভাগ, কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ, স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা শাখায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির সিইও হিসেবেও কাজ করেছেন।


১০ অগাস্ট দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন পুঁজিবাজারের ‘প্রাণ’ বলে খ্যাত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হক।


মঙ্গলবার দুপুরে আইসিবির প্রধান কার্যালয়ে বিবার্তার সঙ্গে কথা বলেন সংস্থাটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান বাজারের অবস্থা, হালচাল ও আইসিবিকে নিয়ে তার কর্মপরিকল্পনার কথা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার প্রতিবেদক উজ্জ্বল এ গমেজ। আলাপনের বিশেষ অংশটুকু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো :




বিবার্তা : ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেলেন। আপনাকে অভিনন্দন। কঠিন এ দায়িত্ব পেয়ে আপনার অনুভূতি কি?


কাজী সানাউল হক : এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এর আগে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি আইসিবির বিভিন্ন গুরুপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছি। সবশেষে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি সিইও হিসেবেও কাজ করেছি। অত্যন্ত সফলতার সাথে এই কোম্পানিকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। ২০০৮ সালে যখন এই কোম্পানিতে জয়েন করি তখন এই কোম্পানির প্রতিদিন ট্রানজেকশন ছিল ১০ কোটি। আমার কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করে তিন বছরের মাথায় এটির ট্রানজেকশনের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন শ’ কোটিতে। মার্কেটে আমার কোম্পানির অবস্থান ভালো ছিল। এটা ২০১০ ও ২০১১ সালের ঘটনা। ক্যাপিটাল মার্কেটও তখন ভালো একটা অবস্থানে ছিল। এরপর আমি চলে যাই কমার্শিয়াল ব্যাংকে, অগ্রণী ব্যাংকে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময়ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যাপিটাল মার্কেটের বিষয়ে নানাভাবে হেল্প করেছিলাম এবং ওই প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হয়েছিল। শেষে আসি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি হিসেবে।সেখানে আমি বিশেষ কিছু প্রোগ্রাম চালু করেছিলাম। এর মধ্যে বিশেষ করে ৯০ ডেজ প্যাকেজ প্রোগ্রাম, ১৫০ ডেজ প্রোগ্রাম এখনও যেটা ব্যাংকে চলছে এবং ব্যাংকের ৩৩ বছরের পুরানো একটা খারাপ অবস্থা যেটা থেকে ব্যাংকটি এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ওখান থেকে আমাকে নিজস্ব জায়গায়, যেখানে আমার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে কর্তৃপক্ষ সেখানেই আবার এনে দিয়েছেন। তাই নতুন দায়িত্বকে আমি কঠিন কোনো কিছু মনে করি না। কমফোর্টেবল ফিল করছি।





বিবার্তা : আপনার দৃষ্টিতে বর্তমানে পুঁজিবাজারের অবস্থা কেমন?


কাজী সানাউল হক​ : গত ১০ অগাস্ট আমি আইসিবিতে জয়েন করেছি। আজ ২৬ সেপ্টেম্বর। আপনারা হয়তো দেখেছেন এই দেড় মাসে ক্যাপিটাল মার্কেটটা একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এই অবস্থার পেছনে আইসিবির একটা পরোক্ষ ভূমিকা আছে।


বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের কাজ চলছে। কিছু আছে প্রাথমিক পর্যায়ে - ৩০% এগিয়ে গেছে। আবার কিছু আছে মধ্যম পর্যায়ে - ৪০% কাজ এগিয়ে গেছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে ক্যাপিটাল মার্কেটটা বিশাল একটা মার্কেট হবে।


আপনারা হয়তো জানেন, এর আগে ১৯৯৬ সালে ক্যাপিটাল মার্কেটটা পিক করেছিল। তখন কিন্তু মেগা প্রজেক্ট বঙ্গবন্ধু ব্রিজ চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। এ রকম অসংখ্য মেগা প্রজেক্ট আমাদের আছে। এগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে আমাদের এখন যেখানে প্রতিদিন ট্রানজেকশনের ভলিউম হচ্ছে ১১শ’ কোটি/১২শ’ কোটি টাকা, তখন ৭-৮ হাজার কোটি টাকা ট্রানজেকশন হবে। সে সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও চলে আসবে। আমাদের মার্কেটটা ওই দিকে যাবে সেই সম্ভাবনাও আছে। ধীরে ধীরে এটার অবস্থাও আরো ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে আইসিবির কর্মক্ষেত্রও অনেক বেড়ে যাবে এবং আইসিবি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




বিবার্তা : পুঁজিবাজার শিল্প খাত কি সঠিক পথে এগুচ্ছে?


কাজী সানাউল হক​ : অবশ্যই। এই কারণে যে আপনারা জানেন প্রচুর শিল্প কোম্পানি আছে যাদের ব্যাংক লোন ছিল, ব্যাংক লোনের বাইরে শেয়ার মার্কেটে এসে ঋণ অ্যাডজাস্ট করে মার্কেটে চলে আসছে। লংটার্ম ‍ফাইনান্স সোর্সটা পেয়ে যাচ্ছে তারা। এভাবে গত দুই/তিন বছরে অনেক কোম্পানি চলে আসছে বাজারে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি যে ব্যাংকঋণের বাইরে যে সমস্ত ব্যাংক আসছে এবং এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে বন্ড মার্কেটেও আসছে, যারা বন্ড ছাড়ছে, ব্যাংক ঋণ অ্যাডজাস্ট করে দিয়ে বন্ডে চলে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রেও আমি বলবো যে ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য ভালো দিক। ক্যাপিটাল মার্কেটের পরিধিও অনেক বেড়ে যাচ্ছে এবং আস্থাও আসছে এটা। এটা অবশ্যই ভালো কিছু।


বিবার্তা : নতুন এমডি হিসেবে আইসিবির ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা জানতে চাই।


কাজী সানাউল হক​ : আমি যেহেতু একজন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২৮ বছর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাই আমাদের আইসিবি'র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সংঘবদ্ধ হয়ে একটা কমিটমেন্ট করেছি যে আমরা সবাই স্বচ্ছভাবে কাজ করবো। মার্কেটকে স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা সবাই একত্রে কাজ করবো। মার্কেটে যাতে মেনিপুলেশন না হয়। কিছু কিছু শেয়ার নিয়ে মেনোপুলেশন হয়। আমরা এর বিরোধিতা করবো। মার্কেটের অবস্থা যাতে ভালো থাকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবসময় নজর দেবো।


বিবার্তা/উজ্জল/হুমায়ুন/মৌসুমী


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com