করলাম ভালো কাজ অথচ ‍ভুল বোঝা হচ্ছে: অধ্যাপক শিবলী
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৬
করলাম ভালো কাজ অথচ ‍ভুল বোঝা হচ্ছে: অধ্যাপক শিবলী
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের বিজনেস সেক্টরে একজন অতি পরিচিত ও নন্দিত মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, নিরলস প্রচেষ্টা, সততা আর নিষ্ঠার সঙ্গে এ সেক্টরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।


বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করেছে।সেই সাথে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন। এখানে তার নেতৃত্বের গুণে এসেছে সফলতা। ২০১৮ সালের চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী (নিরীক্ষিত) সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ৩২৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা ইতোপূর্বের তুলনায় রেকর্ড। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচিত হচ্ছেন একাধিক দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।


অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সাথে বিবার্তার স্টাফ রিপোর্টার মহিউদ্দিন রাসেল


ছাত্রলীগ নেতারা ডাকসু নির্বাচনে ‍অংশ নিতে তার ফ্যাকাল্টির ইভিনিং এমবিএতে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই নিয়ম লঙ্ঘন করে ভর্তি হয়েছে দাবি করে একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়।আর এ খবর প্রকাশের পরই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে সমালোচনা।


এ সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইভিনিং এমবিএর ভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়ম নিয়ে সোমবার তার ডিন কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন তিনি। তার আলাপের বিশেষ অংশটুকু বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা : সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আপনার ফ্যাকাল্টির ইভিনিং এমবিএতে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই নিয়ম লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগের নেতারা ভর্তি হয়েছে দাবি করে খবর প্রকাশিত হয়। আর এ খবর প্রকাশের পর আপনার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এ ধরণের বিভ্রান্তিকর সংবাদ জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে বলে আমি মনে করি। প্রকাশিত পত্রিকার খবরটি পড়লে মনে হয়, বাহিরের ছাত্র-ছাত্রীকে ডাকসু নির্বাচন করানোর জন্য বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে, যা একেবারেই সঠিক নয়। এখানে আলোচিত ছাত্র-ছাত্রীরা পূর্বে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ভর্তি হওয়া গ্র্যাজুয়েট। আর নিয়ম মেনে তাদের ইভিনিং এমবিএতে ভর্তি করানো হয়েছে।


বিবার্তা : ফ্যাকাল্টির ইভিনিং এমবিএ’র ভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়ম সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন. . .


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : দেখুন, আমাদের ডে প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অনেকে অর্থকষ্ট, পারিবারিক সমস্যা, অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মাস্টার্স করতে পারে না। তারা পরবর্তীতে আমাদের কাছে ইভিনিং প্রোগ্রামে মাস্টার্স করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তাদের দাবি, দিনে তারা চাকরি করবে এবং রাতে তারা ইভিনিংয়ে ক্লাস করার সুযোগ চান। আর এ বিষয়টা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে চেয়ারম্যানস কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়। আর এ আলোচনার পরে আমি এটা ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ে নিয়ে গেলাম। সেখানে বললাম, আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ইভিনিংয়ে মাস্টার্স করতে চায়। তখন মিটিংয়ে একজন বলল, আমাদের বিভিন্ন অনুষদের অনেক ছাত্ররা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে অনেক সময় তাদের চাকরির প্রমোশনসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইভিনিং এমবিএর গুরুত্ব অনুভব করে। তখন তারা আমাদের কাছে আসে। তখন সবাই বললেন, অসুবিধা কি? তারা পড়তে চাইলে পড়ুক। এরপর ওদের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলো। সবাই বললেন ওরা তো আমাদের এখানকার ছাত্র। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কাজেই তাদের তো আরেকটা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেয়া যাবে না। সুতরাং আমরা একটা মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তাদের ভর্তি করাবো। ২০১৮ সালের মার্চের দিকে এটা অনুমোদন দেয়া হয়।


বিবার্তা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য ইভিনিং এমবিএর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাই।


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : আমরা নিয়ম করলাম যে, বাইরে থেকে যদি কেউ আমাদের এখানে পড়তে আসে তাহলে তাকে লিখিত, মৌখিকসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বাইরের সবার জন্য এটা প্রযোজ্য।


বিবার্তা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সুযোগ দেয়ার কারণ কী ?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : কারণ হলো ইভিনিং প্রোগ্রাম এনবিআরের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রোগ্রাম। এখানে এনবিআরের লোকেরা ওদের নমিনেশনে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই পড়তে আসে। এরকম আমাদের এখানে এখন ৪০ থেকে ৫০ জন পড়ছে। তারা কোনো ভর্তি পরীক্ষা দেয় না। এটা আমাদের ঢাকা ইউনিভার্সিটির সাথে একই প্রোগ্রামে তাদের এগ্রিমেন্ট। আমি যদি এনবিআরে কাজ করা লোকদের পরীক্ষা ছাড়াই পড়তে দিতে পারি, তাহলে আমাদের ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের বিনা পরীক্ষায় পড়তে দিতে পারব না কেন? আমাদের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ সুযোগ দেয়া হয়েছে।


বিবার্তা : ইভিনিং প্রোগ্রামগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকি ফ্যাকাল্টির নিজস্ব প্রোগ্রাম ?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং প্রোগ্রামগুলো ফ্যাকাল্টির নিজস্ব প্রোগ্রাম। এটা ঢাবির প্রোগ্রাম না।এ প্রোগ্রামটা অনুমতি দেয় একাডেমিক কাউন্সিল আর সিন্ডিকেট। তারপর এ প্রোগ্রামের সবকিছু পরিচালনা করে ডিন অফিস বা ডিপার্টমেন্ট। এটার বিষয়ে কখনো সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, একাডেমিক কাউন্সিল কোথাও আর কিছু যায় না। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ৪০ থেকে ৪৫টা ইভিনিং প্রোগ্রাম চালু আছে, সেগুলোর কোনোটার কোনো এজেন্ডা সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল জানে না। শুধু অনুষদ জানে এ ব্যাপারে।


বিবার্তা : পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে অনেকে আপনার সমালোচনা করছেন। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : আমি একটা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ করে দিয়েছি। তার জন্য আমার প্রশংসা করার কথা, ধন্যবাদ দেয়ার কথা। অথচ উল্টো আমার সমালোচনা করা হচ্ছে। আমি যদি আজকে এটা বন্ধ করে দেই, তাহলে কি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না? আজকে হয়ত একজনের প্রয়োজন নাই, কালকে প্রয়োজন হতেও পারে। আর কারো দরকার হলে যদি বলি পড়তে দিবো না, পরীক্ষা দিতে হবে। তখন কেমন লাগবে শিক্ষার্থীদের? করলাম একটা ভালো কাজ, কিন্তু আমাকে ভুলা বোঝা হলো। আমি তো ছাত্রদের উপকার করতেছি। আমি আমার ফ্যাকাল্টির সাড়ে ৩০০ ছাত্রকে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছি। যারা একবেলা খেয়ে থাকতো, লেখাপড়া করার পয়সা নাই তাদের আমি স্কলারশিপ জোগাড় করে দিয়েছি। অসুস্থ হলে সাহায্য করি।যে কেউ, আমার দরজায় আসলে আমি কাউকে না বলি না।আমি উপকার করতে গিয়ে তো সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছি!


বিবার্তা : ইভিনিং এমবিএতে নিয়ম লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ নেতারা ভর্তি হয়েছেন এমন অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করছেন। তাদের উদ্দেশে আপনি কি বলবেন?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : দেখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের একটা ঐতিহ্য আছে। তবে এ আন্দোলন হতে হবে যৌক্তিক আর তার উদ্দেশ্য থাকতে হবে সৎ। শুধু শুধু মানুষকে হেয় করা, অপমান করার উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কিছু করলে, সেটা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহানি হবে।


বিবার্তা : সমালোচকদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?


শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : সমালোচকদের উদ্দেশে শুধু এইটুকুই বলবো, কাউকে অপমান করা, সামাজিকভাবে হেয় করার আগে তার কাজের উদ্দেশ্যটা ভালো হলে আমাদের এ ব্যাপারে বিবেচনা করা উচিত।


বিবার্তা/রাসেল/উজ্জ্বল/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com