ভারত-ইসরায়েল মাখামাখির নেপথ্যে
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৪
ভারত-ইসরায়েল মাখামাখির নেপথ্যে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভারত সফরে সই হয়েছে ৯টি সমঝোতা চুক্তি। বলা হচ্ছে, জেরুসালেম প্রশ্নে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ইসরাইলের বিপক্ষে ভোট দিলেও তা দু'দেশের বন্ধুত্বে বড় কোনো বাধা নয়।


সব মিলিয়ে ভারত-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছরের মধ্যে উভয় দেশ একে অপরের এত কাছাকাছি এর আগে আর কখনো হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রচলিত কূটনৈতিক প্রোটোকলের সব বিধি ভেঙে নতুনদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে গিয়ে যেভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, সেটা যেন বন্ধুত্বের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়ালো।


একই ঘটনা ঘটেছিল গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেখানেও মোদী-নেতানিয়াহুর আলিঙ্গন, একে অপরকে নাম ধরে ডাকা। এই আন্তরিকতা, এই শরীরী ভাষা শুধু দু'দেশের নয়, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা।


গত সোমবার দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর সই হয় ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সাইবার নিরাপত্তা, অপ্রচলিত বিদ্যুৎশক্তি, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সহযোগিতা, হোমিওপ্যাথি ওষুধপত্র, মহাকাশ বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র নির্মাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমঝোতাপত্র। ভারতের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা আবার শুরু করার কথা বলা হয়। ভারতের তরফে বলা হয়, এ বিষয়ে ইসরায়েলের সব অসুবিধার সমাধানে ভারত রাজি, যাতে ভারতে ইসরায়েলের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ মসৃণ হয়।


বৈঠক শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে দেন। তাতে সন্ত্রাস দমনে যে-কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়। মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোদী একজন বিপ্লবী নেতা, যিনি ভারতে বিকাশের এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন।


জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার প্রশ্নে জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিপক্ষে ভারতের ভোট দেয়া প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, জেরুসালেম নিয়ে একটা ভোটে দু'দেশের সম্পর্ক বদলে যাবে না। এর বাইরে অনেক সহযোগিতার সুযোগ আছে।


ভারত ও ইসরায়েলের এই গলাগলির কি বিশেষ কোনো তাৎপর্য আছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে ভারত-মার্কিন সৌহার্দের প্রতিফলন। দ্বিতীয়ত, ভারত একটা শক্তিধর রাষ্ট্র হয়ে ওঠার দিকে ক্রমশ এগোচ্ছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ভারত এককালে যেসব সামরিক সহায়তা পেতো, এখন সেটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দেশ থেকে পেতে চাইছে দিল্লি। ফলে এটাকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা যেতে পারে। তবে এর ফলে হয়ত ভারতের নেহেরুপন্থি এবং বামপন্থি দলগুলি ''ভারত তার পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছে এবং সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে'' বলে অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব বাস্তববাদী চিন্তার ফসল এবং সেটা হবারই কথা।


এদিকে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়েছে ভারতের বামপন্থি দলগুলো। সিপিআই নেতা ডি. রাজা বলেন, আমরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে রাখার ইসরায়েলি নীতির বিরোধী এবং জাতিসংঘের-প্রস্তাবিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থক। সূত্র : ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com