‘ভারত এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট দেশ’
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১২:২৯
‘ভারত এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট দেশ’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দু’জনেই ভারতের ক্ষমতাসীন দলের কাছে ঘোষিত চক্ষুশূল! একজন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অন্যজন অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ। রবিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে দু’জনেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে।


অমর্ত্য সেনের মতে, গত চার বছরে দেশ ভুল দিকে বিরাট লাফ দিয়েছে! যার জেরে উপমহাদেশে পাকিস্তানের পরেই ভারত এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট দেশ!


আর মোদি সরকারের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্পকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে ব্যাখ্যা করে সরকারের বিভিন্ন নীতিকে তুলোধনা করলেন জঁ দ্রেজ।


জঁ দ্রেজের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি: ইন্ডিয়া এন্ড ইটস কন্ট্রাডিকশন’ বইয়ের হিন্দি অনুবাদ,‘ভারত অউর উসকে বিরোধাভাস’-এর প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমর্ত্য বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ভুল দিকে বিরাট লাফ দিয়েছে। আর্থিক উন্নতিতে দ্রুততম হয়েও আমরা পিছনের দিকে যাচ্ছি।


বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০ বছর আগেও এই অঞ্চলের ছয়টি দেশের মধ্যে ভারত ছিল দ্বিতীয় সেরা। শ্রীলঙ্কার পরেই। এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট! আমাদের নিকৃষ্টতম হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান!


মোদি ও বিজেপি সম্পর্কে প্রকাশ্যেই বহুবার নিজের বিরুদ্ধ মত তুলে ধরেছেন অমর্ত্য। সে কারণে বিজেপির একাধিক নেতা তাকে বিভিন্নভাবে আক্রমণও করেছেন। কিন্তু তিনি যে তাতে মোটেও দমে যাননি, তা বুঝিয়ে মোদি জমানায় আর্থিক বৈষম্য, জাতপাত, জনজাতিদের বিষয়গুলো নিয়ে সরব হন প্রবীণ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।


বিজেপি সরকারের হিন্দুত্বের রাজনীতিকে নিশানা করে অমর্ত্য বলেন, এই সব কারণেই সার্বিক বিরোধী ঐক্যের বিষয়টি এই সময়ের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি মোদির সঙ্গে রাহুল গান্ধীর লড়াই না। এটা ভারতের বিষয়।


এপ্রিলে বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ঘোষণা করেন মোদি। ওই প্রকল্পটিকে নিয়ে বিপুল প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। এ দিন প্রকল্পটিকে স্রেফ ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে ব্যাখ্যা করে জঁ দ্রেজ বলেন, এই বছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার কোটি রুপি। যদি সেটা পুরোটা খরচও করা হয়, তা হলেও মাথাপিছু বরাদ্দ আসলে ২০ রুপি!


নোট বাতিলের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন দ্রেজ। এদিন ফের সেই মত তুলে ধরে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের পিছিয়ে পড়া শ্রেণি মোটেই ভাল ছিল না। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com