সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া!‌
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৮, ১৯:২১
সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া!‌
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতের আকাশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ‘‌এয়ার ইন্ডিয়া'‌ এবং ‘‌ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স'‌, এই দুটি সরকারি সংস্থারই একছত্র আধিপত্য ছিল দীর্ঘদিন। সেসময় ওই দুই সংস্থার গর্বিত বিজ্ঞাপন ছিল, আমরা বিমান সফরের টিকিট বিক্রি করি না, লোকে আমাদের থেকে টিকিট কেনে!‌


এই একাধিপত্যের সুযোগ নিয়ে একদিকে বিমানযাত্রা চিরকালই মহার্ঘ এবং একমাত্র বিত্তবানের আয়াসসাধ্য হয়ে থেকেছে, অন্যদিকে একচেটিয়া কারবার হওয়া, কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার যা যা কুফল, সবই এই দুই সংস্থার পরিষেবায় চোখে পড়েছে। দ্রুত নেমেছে পরিষেবার গুণমান। সরকারি কর্মচারীদের মার্কামারা ‘‌'নিতে হলে নিন, না হয় বাদ দিন'‌' হাবভাব প্রকট হয়ে উঠেছে কর্মীদের আচরণে। এর পাশাপাশি আরও বেতন, আরও সুযোগের দাবিতে প্রায়ই আন্দোলন, কর্মবিরতি এমনকি ধর্মঘটও প্রায় নিয়মিত হয়ে ওঠে দুই সরকারি সংস্থায়। ফলে যেদিন থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজ ভারতের বাজারে পা রাখলো একের পর এক, বিমানসফরের খরচ দ্রুত কমলো, পরিষেবা আন্তর্জাতিক মানের হলো এবং সমস্ত ব্যাপারেই নিখুঁত পেশাদারিত্ব এলো, তখন থেকেই এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স দ্রুত নিজেদের ব্যবসা হারিয়ে জরাগ্রস্ত দুই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো। তাদের দুরবস্থা এখন এতটাই যে, সরকার নিজের ঘাড়ের ওপর থেকে ওদের নামাতে পারলেই বাঁচে!


‌কিন্তু খোলাবাজারে নিলাম ডেকে এয়ার ইন্ডিয়াকে বিক্রি করা, বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলো। কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না দেখে নিলামের দিন বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু তাতেও বাজারে উৎসাহ বাড়লো না। শোনা গেল, শেষ পর্যন্ত কো্নো ক্রেতাই এয়ার ইন্ডিয়ার বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘাটতির বোঝা নিজেদের ঘাড়ে নিতে চাইছে না। এই আর্থিক দায়ের মধ্যে আছে বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন এবং প্রাক্তন কর্মীদের অবসর ভাতা। এই দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি নয়। এ কারণে একাধিক সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে।


কিন্তু এখন এ-ও জানা যাচ্ছে, এটা হয়তো সম্ভাব্য ক্রেতাদের সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর যোগসাজশ, যাতে সরকারি শর্তে নয়, খদ্দেরের শর্তেই এয়ার ইন্ডিয়ার হাতবদল হয়। যেমন, সরকার চাইছে ৭৬%‌ মালিকানা ছেড়ে দিয়ে ২৪%‌ নিজের হাতে রাখতে। কিন্তু কোন সম্পত্তি সরকার ছাড়তে চায়, কোনটা রাখতে চায়, সেটা এখনও ক্রেতাদের কাছে স্পষ্ট নয়।


বাজার বিশেষজ্ঞ ধ্রুবজ্যোতি নন্দী বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এখনও এমন অনেক সম্পত্তি আছে, যা ধরে রাখা লাভজনক হবে বলে সরকার মনে করছে। এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রের খবর, ভারতের সব বড় শহর ছাড়াও বিশ্বের বেশ কিছু বড় শহরে এয়ার ইন্ডিয়ার নিজস্ব দপ্তর থেকে শুরু করে বিমানবন্দরগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নেওয়া নিজস্ব জায়গা এবং আরও স্থাবর বিষয়-সম্পত্তি আছে। এছাড়া বিমানবন্দর কর্মীদের এক প্রশিক্ষিত দলও এয়ার ইন্ডিয়ার আছে। এর মধ্যে সরকার কোনটা ধরে রাখতে চায়, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। ফলে ঝুলেই থাকলো এয়ার ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ।


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com