ঢাকা-কলকাতা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসের অভিবাসন-শুল্ক পরীক্ষা শুরু
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৩২
ঢাকা-কলকাতা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসের অভিবাসন-শুল্ক পরীক্ষা শুরু
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কলকাতা স্টেশনে চালু হল ঢাকা-কলকাতা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসের অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষা। শুক্রবার কলকাতার চিৎপুর আন্তর্জাতিক রেল টার্মিনালেই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের দিয়ে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। এরপর প্রত্যেকেই তাদের মালপত্র নিয়ে ট্রেনে ওঠেন এবং ৪৩২ জন যাত্রী নিয়েই ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।


তবে প্রথম দিনই নির্ধারিত সময়ের (সকাল ৭.১০ মিনিট) ৪২ মিনিট পর কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ে। এরপর আবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়া রেল স্টেশনে যাত্রী বিক্ষোভ হওায়ার কারণে নৈহাটি স্টেশনে মৈত্রীকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর ট্রেনটি আবার গন্তব্যের দিকে ছেড়ে যায়।


যদিও ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নির্বিঘ্নে করতে প্রথম দিন ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে কলকাতা স্টেশনে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে যাত্রীদেরকে আগেই নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেইমতো যাত্রীরাও অনেক আগে থেকেই কলকাতা স্টেশনে চলে আসেন। অনেকে আবার গতকাল রাতেই কলকাতা স্টেশনে এসে রাত কাটান।


প্রথম দিনের বিলম্বতা নিয়ে কলকাতা স্টেশনের সহকারী কমিশনার হিমাংশু শীল জানান ‘এটা অমাদের প্রথম দিন, তাই হয়তো একটু সময় লাগছে। আমরা আশা করছি ব্যাপারটা স্বাভাবিক হয়ে গেলে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সময় কম লাগবে। প্রতিটি যাত্রীদের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সুবিধা, তাদের অভিমত নিচ্ছি। যাত্রীরাও এতে খুশি’।
২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল মৈত্রীর যাত্রা শুরুর পর থেকেই এই ট্রেনটি কলকাতা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারতের গেদে ও বাংলাদেশের দিকে দর্শনা স্টেশনে অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার কাজ সারতে হতো। এ সময় যাত্রীদের সকল মালপত্র নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সেরে আবারও মালাপত্র নিয়ে ট্রেনে উঠতে হতো। আর এই প্রক্রিয়া শেষ করতে মাঝপথেই প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় চলে যেতো। স্বাভাবিক ভাবেই এই বিষয়টিতে যাত্রীদের বেশ কিছুটা ভোগান্তি পোয়াতে হতো। যাত্রীদের অনেকে আবার ক্ষুব্ধও ছিলেন। তাদের দাবি ছিল যাত্রা স্টেশনেই এই পরীক্ষার কাজ সেরে ফেলার। তাদের সেই দাবি মেনেই এই এদিন থেকে সরকারি ভাবে এই প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেল। এর ফলে যাত্রা স্টেশনেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কারণে যাত্রীদের আর মাঝপথে নামতে হবে না। কলকাতা থেকে ট্রেন ছাড়ার পর তা গিয়ে থামবে সোজা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। ঠিক এভাবেই ঢাকা থেকে কলকাতায় আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। নতুন এই ব্যবস্থায় যাত্রা সময়ও তিন ঘণ্টা কমে গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা।


দুই দেশের রেল কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তে খুশি যাত্রীরাও। তাদের অভিমত এই পরিসেবার ফলে তাদের যাত্রা আরও আরামদায়ক ও সহজ হবে।


মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক প্রশান্ত কুমার তরফদার জানান ‘আমি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এই ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত আছি। যাত্রীদেও অসুবিধার কথা ভেবেই প্রাথমিকভাবে এটা করা হচ্ছে। আগে যাত্রী অনেক কম হতো তবে এই সুবিধার ফলে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে’। তিনি আরও জানান ‘ভারতের মধ্যে অন্য যাত্রীবাহী ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও এই এক্সপ্রেসের সঙ্গে আমি সত্যিই খুব খুশি। কারণ বাংলাদেশের যাত্রীরা বেশি অতিথি পরায়ণ।


এক সপ্তাহ আগে সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের থেকে কলকাতায় এসেছিলেন জাকির হোসেন। তিনি জানান ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের আসার সময় আমাকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল, দুই বার ট্রেন থেকে নামতে হয়েছিল কিন্তু দেশে ফিরে যাওয়ার সময় তা হবে না। এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হল। একদিকে যেমন আমাদের সময় বাঁচবে তেমনি সন্তান, পরিবারদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেন থেকে আর ওঠা নামা করতে হবে না’।


বিবার্তা/ডিডি/সোহাগ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com