কন্ঠস্বর পরিবর্তন হওয়ার কারণ কি?
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩২
কন্ঠস্বর পরিবর্তন হওয়ার কারণ কি?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে কণ্ঠনালীর প্রদাহ হতে পারে। আরো অন্য অনেক কারণে কণ্ঠনালীর স্বর পরিবর্তন হয়। যেমন­ ভোকাল কর্ড পলিপ, ভোকাল কর্ড নডিউল, ভোকাল কর্ড টিউমার বা ক্যান্সার, থাইরয়েড হরমোন যদি কমে যায় (হাইপোথাইরয়ডিজম), কণ্ঠনালীর নার্ভ (রিকারেন্ট ল্যারিনজিয়াল নার্ভ) প্যারালাইসিস হলে এবং আরো অন্য কারণে স্বর পরিবর্তন হয়।


অনেকদিন ধরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা যাদের বেশি কথা বলতে হয় যেমন­ হকার, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, অনেক সন্তানের মা এবং শিল্পীদেরও স্বর পরিবর্তন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি মানসিক কারণেও কথা বলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


গলার স্বর যদি বসে যায় এবং তা যদি ১৫ দিনের চিকিৎসায় ভালো না হয়, তাহলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গলার স্বর পরিবর্তন হলে নিকটবর্তী নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।


কণ্ঠনালীর সমস্যার কারণ সমূহ


কণ্ঠনালীর সমস্যার জন্য উপসর্গগুলো হলো গলা ব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, কাশি, কিছু গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ঠ ইত্যাদি। যদি ঘন ঘন কণ্ঠস্বও পরিবর্তন হয় বা দীর্ঘ দিন বা দুই সপ্তাহে ভাল না হয়, তবে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে। বিভিন্ন কারণে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হতে পারে।


কণ্ঠের যত্ন নেয়ার জন্য আমরা যে কাজগুলো করতে পারি, সেগুলো হলো : উপযুক্ত পরিমাণ পানি পান করা। কণ্ঠকে অ্যাবিউজ না করা। ধূমপান, মসলাযুক্ত খাবার না খাওয়া এগুলো করতে হবে।


প্রয়োজনীয় পানি পান


দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত। এছাড়া কিছু বিশেষ বিষয় রয়েছে। যেমন : ধরেন আজকে আপনি একটি বক্তৃতা দেবেন। যে বক্তৃতার স্থায়িত্ব এক ঘণ্টা। তাহলে সারা দিন আপনি কথা বললেন, এর পর গিয়ে বক্তৃতা দিলেন, তাহলে হবে না। এর জন্য আগে থেকে আপনার কণ্ঠকে বিশ্রাম দিতে হবে।


এরপর মায়েরা বাচ্চাদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলেন, অনেক জোরে কথা বললে, ভোকাল কর্ডে মাইক্রোহেমোরেজ নামক সমস্যা হয়। এতে হেমাটোমা, ফ্রাইব্রোসিস হয়ে অনেক সময় কণ্ঠ পরিবর্তন হয়ে যায়। শিক্ষকরাও অনেক সময় একই রকমভাবে কথা বলেন। কণ্ঠের যে একটি বৈজ্ঞানিক বিষয় আছে এটি সম্প্রতি মানুষের নজরে এসেছে।


আপনি জানেন, লতা মুঙ্গেশকর পুনেতে একটি কণ্ঠের হাসপাতাল করেছেন। ওখানে আমিও দুবার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। একটি স্বাভাবিক মাত্রায় আপনি কথা বলবেন। খুব জোরেও নয়, খুব আস্তেও নয়। অনেকের ধারণা হলো, আস্তে কথা বললে হয়তো কণ্ঠ ভালো থাকে। বিষয়টি মোটেও ঠিক নয়। খুব আস্তে কথা বলতে গেলেও কণ্ঠস্বরের অনেক বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। আবার বেশি চিৎকার করে কথা বললেও কিন্তু শক্তি অনেক বেশি খরচ করতে হয় এবং অনেক সময় ভেতরে আহত হয়। সুতরাং মধ্যমই উত্তম। আরো একটি বিষয় রয়েছে। হঠাৎ যদি কণ্ঠের পরিবর্তন হয়, তাহলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ দিতে হবে। কারণ, কণ্ঠের এই পরিবর্তন যদি এক মাস স্থায়ী থাকে, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে ওখানে কোনো রোগের কারণে এটি হয়েছে।


কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হওয়ার কারণ


কণ্ঠস্বরের পলিপ, নডিউল, প্যাপিলোমা, সিঙ্গারস নডিউল, কারসিনোমা, ক্যানসার এসবের কারণে সমস্যা হয়ে থাকে। তখন আমরা পরীক্ষা করে দেখি কণ্ঠস্বরের অবস্থা কী? যদি চার সপ্তাহের বেশি কোনো ব্যক্তির কণ্ঠের পরিবর্তন থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই একটি এফওএল করতে হবে।


অনেক সময় ঠান্ডা, ফ্যারিংজাইটিস, গলা ব্যথা হলে তখনো তো কণ্ঠের পরিবর্তন হয়। সে ক্ষেত্রে ওই সময়ের কণ্ঠের যত্ন কীভাবে নেবেন?


এ ক্ষেত্রে আপনাকে কম কথা বলতে হবে। কণ্ঠকে বিশ্রাম দিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারেন। অ্যান্টিহিসটামিন-জাতীয় ওষুধ কাজে লাগে তখন। এ ছাড়া খাওয়ার সময় কুসুম গরম পানি খেতে হবে। গরম পানি দিয়ে ভাব নিতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে একটু লবণ দিয়ে গার্গল করতে পারেন। তাহলে ওই জায়গাটা ভালো থাকবে। যদি ল্যারিংজাইটিস হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু গরম পানির ভাপ নিতে হবে।


একটি পাত্রে গরম পানি করে পাত্রটি নামিয়ে তার ওপর একটি ভেজা গামছা দিতে হবে। এরপর এর ভেতর দিয়ে যে বাষ্পটা উঠবে, সেটাকে নাক দিয়ে টানতে হবে। এর সঙ্গে কোনো রাসায়নিক পদার্থ যোগ করা যাবে না। এতে ক্ষতি হবে। বাষ্পটি নাক দিয়ে টানতে হবে, পূর্ণ দম নিয়ে ভেতরে নিতে হবে, এরপরে মুখ দিয়ে ছাড়তে হবে। পরে আবার মুখ দিয়ে টান দেবেন। দম নিয়ে ফুসফুসে নেবেন নাক দিয়ে ছাড়বেন। এভাবে ১৫ মিনিট সকাল-বিকেল করলে শ্বাসনালিটা ভালো থাকবে, কণ্ঠস্বর ভালো থাকবে।


একজন মানুষ তার কণ্ঠস্বর নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তিনি চান তার গলা আরো দরাজ হোক। এটি কি কণ্ঠ যত্ন বা সার্জারি করে ভালো করা সম্ভব?


এটা ১৯৮২ সাল থেকে চালু হয়েছে। ইসিকি অস্ত্রোপচার। থাইরোপ্লাস্টি। বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি আছে কণ্ঠস্বরকে ভালো করার জন্য। লম্বা গলার স্বরকে যদি আপনি ছোট করে দেন, তাহলে কণ্ঠ মোটা হয়ে যাবে। যেমন ধরেন অনেকের মেয়েলি গলা, এটাকে পুরুষ কণ্ঠে পরিবর্তন করতে চান। এটি করা সম্ভব। এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই করা সম্ভব। আমাদের দেশে কিছু কিছু সার্জন এটা করছেন। আমরাও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে প্র্যাকটিস করি না। তবে ভারতে এটি হয়, বাইরের দেশে এটি হয়। আমাদের দেশে বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু চালু হয়েছে।


অনেকের বয়োসন্ধিকালের সময় এসে একটু কণ্ঠের পরিবর্তন হয়, পরে এসে ছেলেদের গলা একরকম, মেয়েদের গলা আরেক রকম। একেবারে চিহ্নিত হয়ে যাবে। কিন্তু কোনো ছেলের বেলায় দেখা যায় তার কণ্ঠস্বরটা একটু মেয়েলি থাকে। এটি কি ভালো করা সম্ভব?


অবশ্যই। মেয়েলি গলাও ছেলের মতো করা যাবে। ছেলেদের গলাও মেয়েদের মতো করা সম্ভব। এটি কোনো জটিল অস্ত্রোপচার নয়।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com