ক্যান্সারকোষ নিধনের অ্যান্টিবডি আবিষ্কার দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীর
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ১৭:০৫
ক্যান্সারকোষ নিধনের অ্যান্টিবডি আবিষ্কার দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীর
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সাধারণ দেহকোষ প্রকৃতির নিয়মেই নির্দিষ্ট সময় পরে মরে যায়। অথচ মানবদেহের যে-কোষে ক্যানসার বাসা বাঁধে, তারা যেন কোনো অদ্ভুত নিয়মে ‘অমর’! নিজেরা না-মরে রোগীকে মেরে ফেলে তারা।


কিন্তু মানুষের দেহের ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ সত্যি সত্যিই তো আর অমর হতে পারে না! এই যুক্তিতে ভর দিয়ে এগোতে এগোতেই ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলার বিকল্প উপায় বের করে ফেলেছেন বলে দাবি এক ভারতীয় বাঙালি বিজ্ঞানীর। তিনি কালীপদ পাহান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক।


তাঁর দাবি, তিনি ‘মোনোক্লোনাল’ নামে একটি অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন, যা ক্যান্সারকোষ নিধনে সাহায্য করবে। তাঁর দুই সহযোগীও বাঙালি - মধুচ্ছন্দা কুণ্ডু ও অভীক রায়।


কালীপদ পাহানের আবিষ্কারের বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্যান্সারকোষকে কেমোথেরাপি দিয়ে জব্দ করার সময়ে প্রচুর সাধারণ সজীব কোষও মারা পড়ে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গিনিপিগ ছাড়াও মানবদেহের লিভার, স্তন, প্রস্টেটের ক্যান্সারকোষে ওপর তাঁর তৈরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে সদর্থক ফল মিলেছে। সাধারণ কোষ বাঁচিয়ে ক্যান্সারকোষ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। ফুসফুস ক্যান্সারে কিন্তু ওই অ্যান্টিবডি কাজ করছে না।


মানবদেহের প্রতিটি সাধারণ কোষের নিজস্ব আয়ু থাকে। এক সময়ে নিজের থেকে মারা যায় তারা। কালীপদ জানান, যে-কোষে ক্যান্সার বাসা বাঁধে, সেই কোষ নিঃশেষে নিকেশ হচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ কোষের মতো ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ মরে গেলে অনেক সুবিধা হবে। আমি প্রথমে খুঁজতে শুরু করি, ক্যান্সারআক্রান্ত কোষ ‘অমর’ হয়ে যাচ্ছে কেন।’’


বিজ্ঞানী কালীপদ জানান, যে-মলিকিউল বা সাইটোকাইন দেহের প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, তার পরিবারের চার সদস্য। তিন সদস্য সক্রিয়, এক জন নিষ্ক্রিয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাইটোকাইনের নিষ্ক্রিয় সদস্য ক্যান্সারআক্রান্ত কোষে সক্রিয় হয়ে প্রচুর মাত্রায় বংশবৃদ্ধি শুরু করে। সেই নিষ্ক্রিয় সদস্যই অতি সক্রিয় হয়ে ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষকে বাঁচিয়ে রাখছে। এটাই ক্যান্সারকোষের ‘অমরত্ব’র রহস্য।


ওই বিজ্ঞানীর দাবি, তাঁর তৈরি অ্যান্টিবডি ওই নিষ্ক্রিয় সদস্যকে বংশ বিস্তার করতেই দেয় না। সেই অ্যান্টিবডি মানবশরীরে ঢোকালে আর-দশটা সাধারণ কোষের মতোই ক্যান্সারকোষ নিকেশ হয়ে যাচ্ছে। এমনকী ক্যান্সার-আক্রান্ত কোষ ছড়িয়েও পড়তে পারছে না।


কালীপদ জানান, বিভিন্ন ওষুধ সংস্থার সঙ্গে কথা চলছে। ওষুধ সংস্থা তাঁর কাছ থেকে পেটেন্ট কেনার পরে ওই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবে। তবে ভারতেরই একজন ক্যান্সারচিকিৎসক বলেন,‘‘অনেক গবেষণাই তো হচ্ছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পাওয়ার আগে যে-কোনো গবেষণার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।’’সূত্র আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com