ইতিহাস কখনো চাপা পড়ে থাকে না....
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১১:৪৬
ইতিহাস কখনো চাপা পড়ে থাকে না....
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

১/১১ নিয়ে আজ পর্যন্ত নিজ থেকে কোনোদিন কিছু লিখি নাই বা নিজের ছবিও পোস্ট করি নাই।


বিশেষ দিনগুলো এলে অন্যরা তাদের ছবি পোস্ট করে কিংবা স্ট্যাটাস দেয়, সেই সুবাদে আমার ছবি কিংবা নাম দেখতে পাই।


কিন্তু ইদানীং কিছু কিছু লিখায় এত বেশি নতুনত্ব ওঠে আসে যে পড়লে নিজের মধ্যেই কনফিউশন চলে আসে। মনে হয়, সত্যি কী এমন হয়েছিল? এত কনফিডেন্টলি ঘটনাগুলো লিখা থাকে যে মনে হয় আমিই মনে হয় ভুলে গেছি।


এভাবে চলতে থাকলে তো একসময় এই নতুন ইতিহাসই সত্যি হয়ে যাবে, আর কালের গর্ভে হারিয়ে যাব আমি, আমরা।


আমি যেহেতু সরকারি চাকরি করি, তাই কখনো নিজের রাজনৈতিক পরিচয় কোথায় ফলাও করে বলি না। তাছাড়াও আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া বা চাহিদাও নেই, তাই আরো বলার প্রয়োজন বোধ করি নাই। এছাড়াও আমি মনে করি ছাত্রজীবনে যা করেছি, তা সময়ের প্রয়োজনে করেছি। সে একটা সময় ছিল বটে। ২০০১ এর বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন কাঁধে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলাম ২০০২ এর মার্চ মাসে। সে সময় সেই দুঃশাসন রুখে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প ছিল না। তাই বিগত বছরগুলোতে কখনো লিখার কথা মনেও আসে নাই।



কিন্তু আজ মনে হল- আমরা যারা ১/১১ মোকাবিলা করেছি আমরা যদি চুপ থাকি তাহলে অন্যরা সু্যোগ পাবে নতুন ইতিহাস লিখার। তাই আজ ১/১১ এর উল্লেখযোগ্য একটা কর্মসূচির কথা লিখব।


রোকেয়া হলের নেতৃত্বে আমরা ৩/৪ জন উদ্যোগ নিয়ে ১৫/২০ মিলে প্রথম প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়া ডেকে আপার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছিলাম।


এর আগে আপা গ্রেফতার হওয়ার পর পরই ভোরে একটা ঝটিকা মিছিল হয়েছিল শুধু। সেই ঝটিকা মিছিলের কথাই সবসময়, সবজায়গায় আলোচনায় আসে।


‘প্রথম অনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়ার সামনে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আপার মুক্তির জন্য অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন হয়েছিল,- আজ পর্যন্ত কী কোথাও এ বিষয়টা এসেছে? কোনোদিন কোনো ফোরামে কাউকে দেখলাম না এটা উল্লেখ করতে।



আর আমরা যে কয়েকজন (নাম উল্লেখ করছি না, ওইসময় যারা সক্রিয় ছিলেন তারা জানেন) উদ্যোগ নিয়ে মানববন্ধন করেছিলাম আমরাও কোনদিন এটা নিয়ে বলি নাই কিংবা লিখি নাই। তাই কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মানববন্ধনের কথা।


শুধুমাত্র আমাদের প্রিয় (Jashim Uddin) জসীম ভাইকে দেখি এই মানববন্ধন নিয়ে কথা বলেন।


আজ ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানের ছবি অনেকক্ষণ সময় নিয়ে বিভিন্নজনের ফেসবুক ওয়ালে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। প্রথম মানববন্ধনের আয়োজক বা অংশগ্রহণকারী কোনো বোনকেই ছবিতে দেখতে পেলাম না। শুধু তাই না, অন্যান্য হলের যে বোনেরা (সর্বচ্চো সংখ্যা ৮/১০ জন) ১/১১ এর পুরোটা সময় ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কাউকেও দেখলাম না।


এখন যারা ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা আমাদের অনেক ছোট, তাই ওরা আমাদের চিনে না। কিন্তু তাদের পূর্বসুরীরা যদি সঠিক ইতিহাসটা ওদের সামনে তুলে ধরত, তাহলে তো আমরা আর অচেনা থাকতাম না।



আমাদের চিনতেই হবে, এমন না। কোনোকিছু পাওয়ার আশায় তো কিছু করি নাই, যা করেছি সময়ের প্রয়োজনে। না চিনুক আমাদের। না জানুক প্রকৃত ইতিহাস তাতেও সমস্যা নেই, কারণ ইতিহাস কখনো চাপা পড়ে থাকে না। একসময় না একসময় তা প্রকাশিত হয়ই।


আমার সমস্যা তখনই হয়, খারাপ তখনই লাগে যখন দেখি একদল স্বার্থান্বেষী, লেবাসধারী, ভণ্ড, নষ্ট মানুষ তাদের নিজেদের মতো করে ইতিহাস রচনা করে তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।


গুলশাহানা ঊর্মির ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com