পারিবারিক বৃত্তান্ত দেখেই চাই ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নির্বাচন
প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৮, ১৬:২৩
পারিবারিক বৃত্তান্ত দেখেই চাই ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নির্বাচন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক। তাঁর এই আন্তরিকতা এমনি-এমনি আসেনি। তিনিও একসময় ছাত্রলীগের ব্যানার ধরে, রাজপথের মিছিলে গলা ফাটিয়ে "জয় বাংলা” স্লোগান দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে তিনি নেতা হননি, হয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। তাই ছাত্রলীগ করতে হলে কত শ্রম দিতে হয়, কত না-খেয়ে রাজপথে মিছিল করতে হয় তিনি তা ভালোই জানেন। তিনি এটাও জানেন, যারা হৃদয় দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল করে তারা কতটা দেশপ্রেমিক ও সাহসী হয়। তারা দেশের জন্য জীবন দিতেও পিছপা হয় না। ছাত্রলীগের নেতাকে অবশ্যই ১০০% যোগ্য হতে হয়।


ছাত্রলীগের নেতৃত্ব যার হাতে আসে তার ওপর সারা বাংলাদেশের ছাত্রলীগের সব নেতা-কর্মীর সুখ-দুঃখের দায়িত্বও চলে আসে। তাই এ সংগঠনে এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে, যে জননেত্রীর এই আস্থা অর্জন করবে, সারা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অবশ্যই তাঁর থাকতে হবে।


জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে কয়েকবার মিডিয়াতে কথা বলেছেন। আমি গত তিনটি কমিটি দেখেছি। জননেত্রী ওই তিনটি কমিটির সময় এতটা সিরিয়াস ছিলেন না। তাঁর এই সিরিয়াসনেসের কারণও কারো অজানা নয়। তাঁর বক্তব্য নিশ্চয়ই সবাই মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। তাঁর কথার মর্মার্থও সবাই জানেন। সুতরাং এমন কোনো নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত হবে না, যার কারণে জননেত্রীর মন খারাপ হয়।


ছাত্রলীগের সব পর্যায়ের যারা দায়িত্বশীল তারা সবাই অনেক দক্ষ ও যোগ্য। তারপরেও কেন যেন সবাইকে ছাত্রলীগ নিয়ে আমার কিছু মতামত বলতে ইচ্ছা করছে। সরাসরি সবাইকে বলতে পারবো না বলেই এখানে লিখলাম।


পরবর্তী কমিটিতে যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বের দাবিদার তাদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগে আসে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০০৮ সালের শেষদিকে দুই-চারজন আর বাকী সবাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপই ছাত্রলীগে আসে। এরা রাজপথে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিকূলতার মোকাবেলা করেনি। এদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করার পেছনে কী উদ্দেশ্য, তা শুরুতে কেউই ভাবেনি, এদের বিষয়ে জানতেও চায়নি। আর এই সুযোগে এরা নেতার “মাই ম্যান” হয়ে নেতা হয়ে যায়। কিন্তু এদের মাঝে কয়েক জনের উদ্দেশ্য জামাত-বিএনপির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। এদের আসল রূপ দেখা যাবে আমাদের কোনো দুঃসময় এলে। এখন যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তাই এদের কোনোভাবে কারো পক্ষে আলাদা করে চেনা সম্ভব নয়।


জামাত কয়েক লক্ষ ছেলেকে মাসিক বৃত্তি দিয়ে লেখাপড়া করায় (গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে)। যারা শিবির করে তাদের মাসিক বেতন দেয়, কর্মসংস্থানও করে জামাত। এই জামাত কয়েক শ’ শিবিরকর্মীকে মাসিক টাকা দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে টার্গেট করে দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করায়। এরা কোনোদিন শিবিরের মিছিল-মিটিং করে না। এরা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে। এদের মধ্য থেকে এমন কিছু ছেলেকে কৌশলে ছাত্রলীগে প্রবেশ করায় যাকে কোনো দিন শিবির ভাবার সুযোগ নেই। তার ভাবখানা এমন যে সে শিবির নাম শুনলেই মারতে যায়। অথচ ছাত্রলীগ প্রবেশের আগের তিন মাসের তথ্য ভালোভাবে নিলেই দেখবেন কি অ্যাজেন্ডা নিয়ে এসেছে।


সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কোনোভাবে পারিবারিক বিষয় ১০০% না জেনে দেয়া যাবে না। তার পারিবারের কোনোভাবে জামাত-বিএনপির সাথে আঁতাত থাকা চলবে না।


অতি সম্প্রতি সবাই তারেক রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের মুঠোফোনালাপ শুনেছেন। এমন অনেক শিক্ষক ও ব্যবসায়ী আছেন যারা তারেক রহমানের হয়ে একজন উপদেশ আর একজন টাকা দেয়। এখন অনেক বিএনপি পরিবারের সন্তান আছে ছাত্রলীগ করে, অথচ তাদের রাজনৈতিক খরচ দেয় তারেক রহমানের এজেন্টরা। এদের পরিবার ১০০% বিএনপি। এদের পারিবারিক যোগাযোগ বিএনপির সাথে। এদের রক্ত-মাংসে বিএনপি।


এরা ঢাকায় এসে এমনভাবে ছাত্রলীগ করে এদের টাকার গরমে আদর্শবান ছাত্রলীগ ধোপে টিকে না। এরা সুযোগ পেলেই ছাত্রলীগের ক্ষতি করে।


সুতরাং ১০০% পারিবারিক বৃত্তান্ত না জেনে কাউকে নেতৃত্ব দিলেই ছাত্রলীগ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।


সরদার মামুন রশিদ মামুনের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com