দীপু মনিরা উঠে আসেন স্বমহিমায়
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:১১
দীপু মনিরা উঠে আসেন স্বমহিমায়
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্য হয় তবে এমন রাজনীতি করা মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করা মানুষের সংখ্যা ক’জন?


রাজনীতি করতে হলে, মানুষের মনের গহীনে আসন করে নিতে হলে নিজস্বতা দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। এর মধ্য ‍দিয়েই নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তুলে ধরা যায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা এমন রাজনীতি করা মানুষগুলোকেই তুলে এনে স্থান করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। বঙ্গবন্ধু যেমন চিনে নিয়েছিলেন জাতীয় চার নেতাকে, তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যাও কয়েকজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক মানুষকে সাহচর্যে রেখেছেন।


সহনশীলতা, ঔদার্য, বিনয়, ভদ্রতা একজন মানুষকে নিয়ে যেতে পারে শিখরে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি তেমনই একজন। অনেক সময় অবাক হয়ে ভাবি, একজন রাজনীতিবিদ কতটুকু মার্জিত রুচি ও সৌজন্যবোধসম্পন্ন এবং বিনয়ী হতে পারেন। কিভাবে মানুষকে আপন করে নিতে হয়, কিভাবে মানুষকে মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতে হয়, দীপু মনির কাছে তা শিখতে হয়। প্রতিনিয়ত শিখছি ঔদার্য দিয়ে কিভাবে মানুষকে আপন করে নেয়া যায়। ন্যায়নীতির মধ্যে থেকে কিভাবে রাজনীতি করা যায়। চরম সংকটেও কিভাবে নিজেকে বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি অবিচল থাকতে হয়। তাই তো তিনি দীপু মনি; আমাদের চাঁদপুরের অহংকার।


একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়ে দীপু মনি রাজনীতিকেই পাথেয় করে নিয়েছেন। নিজেকে সঁপে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে। তাঁর বাবা এম এ ওয়াদুদ ছিলেন একজন ভাষাবীর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ও সাংবাদিক। বাংলা ভাষা, স্বাধিকার ও জনগণের সার্বিক মুক্তির আন্দোলনে জড়িত ছিলেন তিনি। কর্মজীবনে দৈনিক ইত্তেফাকের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। ১৯৫৩-১৯৫৪ সালের ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত জনগণের সকল আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর।


তাঁরই সুযোগ্যা কন্যা দীপু মনি এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সংক্ষেপে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার কিছু বিবরণ :


শিক্ষাগত যোগ্যতা : এমবিবিএস (ডিএমসি), এলএলবি (এন ইউ) পিএইচ (জন হপকিন্স) দ্বন্দ্ব নিরসন, মধ্যস্থতা ও সমঝোতা বিষয়ে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। পেশাগতভাবে তিনি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী ও চিকিৎসক।


রাজনৈতিক যোগ্যতা : সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ সদস্য, চাঁদপুর -৩। সভাপতি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সদস্য : প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সদস্য : স্থানীয় সরকার নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।


সাংগঠনিক দক্ষতা : চেয়ারপার্সন, আইপিইউ ফোরাম অব উইমেন পার্লামেন্টেরিয়ান্স। সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। চেয়ারপার্সন, বোর্ড অব ট্রাস্ট, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম। আওয়ামী লীগের নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ও মাস্টার ট্রেনার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ সন্ধানীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সন্ধানীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনির যত সাফল্য :


ক) ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন


খ) বাংলাদেশ-ভারত ল্যান্ড বাউন্ডারী নির্ধারণে ভূমিকা


গ) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বহিঃবিশ্বে গতিশীল করতে ভূমিকার রাখেন।


ঘ) Commonwealth Ministerial Action Group (CMAG) এর প্রথম মহিলা এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে দেশের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনেন।


ঙ) সৌদি আরবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইকামা পরিবর্তনের সুযোগ পুনরায় চালু করায় ভূমিকা রাখেন।


চ) মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিককে বৈধকরণে ভূমিকা রাখেন।


নির্বাচনী এলাকায় ডা. দীপু মনির যত উন্নয়নমূলক কাজ :


১। চাঁদপুর হাইমচর রক্ষা বাঁধ।


২। ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন


৩। চাঁদপুর-লাকসাম রেল লাইন সংস্কার ও ডেমু ট্রেন চালু।


৪। মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট নির্মাণ


৫। চাঁদপুর হাইমচর রাস্তা প্রশস্তকরণ


৬। চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভাবন নির্মাণ


৭। ৩৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ


৮। চাঁদপুর ও পুরান বাজার কলেজের অবকাঠানো উন্নয়ন।


৯। ডিপ্লোমা ফিসারিজ ইনস্টিটিউট নির্মাণ।


১০। শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়াম নির্মাণ।


একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা দীপু মনি নিজ যোগ্যতাবলেই স্বীয় আসনে অধিষ্ঠিত। তাঁর রয়েছে একটি রাজনৈতিক পারিবারিক ঐতিহ্য।


২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারকালের একটি গল্প দিয়ে আমার লেখার সমাপ্তি টানবো।


নির্বাচনের আর তিনদিন বাকি। রাতের বেলা হঠাৎ করেই ডা. দীপু মনির ফোন বেজে উঠলো। ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে এক রিক্সা ড্রাইভারের আবেগাপ্লুত কণ্ঠ, “আপা, আমি একজন রিক্সা ড্রাইভার। আপনি আজ আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আমি গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। আমি আপনার নির্বাচনী তহবিলে ১০০ (একশত) টাকা দিতে চাই। দয়া করে যদি আপনি সম্মতি দেন তবে ফ্ল্যাক্সি লোড করে আপনাকে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিবো (তখন বিকাশ ছিল না)।


আপা রিক্সা ড্রাইভারের কথায় আপ্লুত হয়ে পড়লেন। বললেন, ভাই আপনারাই আমার শক্তি, আমার অভিভাবক, আমার স্বজন, আপনাদের ভালবাসা আমার অহংকার। আপনারা যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটটি আমাকে দেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় দেন, এতেই আমি সন্তুষ্ট।


রিক্সা ড্রাইভার নাছোড়বান্দা। তার কথা, আপা আমাকে হতাশ করবেন না। আমি গরিব বলেই কি আপনি নিতে চাচ্ছেন না?


আপা এবার আরো আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন। নিজেকে সংবরণ করে রিক্সা ড্রাইভারের ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন, ঠিক আছে ভাই, ১০০ টাকা নয়, আপনি ১০টি টাকা আমাকে পাঠিয়ে দিবেন।


এই যে সাধারণ মানুষের ভালবাসা, শ্রদ্ধা, মমতা এগুলো অর্জন করতে হয়। অর্জন করতে হয় সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থেকে। মানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে হয়। ডা. দীপু মনি তাই করেছেন। ডা. দীপু মনিরা এ সমাজের সম্পদ। তাদের সমাজে লালন করতে হয়। নতুবা সমাজে দীপু মনিদের জন্ম হবে না।


রতন কুমার মজুমদারের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com