নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়া উচিত
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৫০
নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়া উচিত
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ছাত্ররাজনীতির শিরায় শিরায় কয়লার দাগ। দাগের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায়, এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু কালো দাগ যে রয়েছে তার অস্তিত্ব মুছে ফেলা যায় না।


রাজনীতির আতুড়ঘর হলো ছাত্ররাজনীতি। ছোট্ট বেলায় আমরা যে দুষ্টুমি করি তার জন্য পরিবারের কাছ থেকে ধমক খেতে হয় এবং সেখান থেকে ভয়ে আমরা শোধরানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মানব জীবনে বুঝে আসার পর কোনো জিনিসের প্রলেপ মস্তিস্ক ঢেলে দিলে সেই জিনিসের প্রভাব মস্তিস্ক থেকে ফেলে দেয়া বড় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।


পুকুরের একটি শেওলা থেকে অগণিত শেওলার সৃষ্টি হয়। রাজনীতির মাঠ আজ অগণিত শেওলায় বিস্তৃত। এই শেওলাগুলো রাজনীতির যে কিঞ্চিত অংশটুক স্বচ্ছ জলে পরিপূর্ণ তাও ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলছে। পুকুরের শেওলা এমন কোনো বস্তু নয়, যা পরিস্কার করা যায় না। রাজনীতির শেওলাঢাকা পথও পরিস্কারের অনুপযুক্ত নয়। গ্রামের বাড়ির পুকুরে শেওলা জমলে উচ্চবিত্ত শ্রেণী নিন্মবিত্তের মানুষদের টাকা দিয়ে পুকুরের শেওলা পরিস্কার করে।


আজ রাজনীতির উচ্চবিত্তের মাঠে শেওলা জমেছে; এই শেওলা জমা শুরু করে ছাত্ররাজনীতির আতুর ঘরে, যেখান থেকে বৃদ্ধি পেতে পেতে উচ্চশ্রেণীর পর্যায়ে এসে পৌঁছায়। এই শেওলা যদি ছাত্ররাজনীতি থেকে পরিস্কার করা না হয় তাহলে জাতীয় রাজনীতি গোগ্রাসে গিলে ফেলবে যা ইতোমধ্যেই প্রায় সমাপ্তির পথ ধরে হেঁটে চলছে।


রাজনীতির উচ্চ পদরাধী নেতৃত্ব ব্যতিরেকে বাকি সবাই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এই উচ্চ পদধারীর কিছু চেলা-চামচা আবার অনেককে কোণঠাসা করে রাখে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়া সত্ত্বে ও অবৈধভাবে হলে অবস্থান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বড় পদ ধারণ করে রাজনীতির মাঠে শেওলার বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে। এই শেওলা বিস্তৃতকারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কিভাবে মেনে নেয় তা আমার বোধগম্য নয়।


আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড পরিচালার জন্য এক (১) বছরের জন্য মনোনীত হয়েছিলাম। সেখানে আমি প্রায় চার বছর ছাত্রলীগ পরিচালনা করেছি। এতে ছাত্রলীগের বয়স ২৯ সীমাবদ্ধ থাকায় অনেকের পরবর্তী ক্ষেত্রে নেতা হওয়ার অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। আমাদের কমিটি এক বছরের জায়গায় চার বছর কিভাবে টিকে থাকল তা আমি নিজেই জানি না।


তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ইউনিটের কমিটি এক বছরের পরিবর্তে দুই (২) বছর মেয়াদী হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কমিটি এক বছর পরিপূর্ণ হবার পর নতুন কমিটি গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে অনুরোধ করতে পারতাম; কিন্তু সেটা আমি করিনি। আর আমি বললেই সেটা বাস্তবায়িত হতো কি-না তা জানি না। কারণ এটা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটির উপর নির্ভর করে। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠন করার সময় আমাকে জানানো হয়নি। আমি ফেসবুকের কল্যাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দেখেছি।


বর্তমান ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ প্রধান দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কমিটির সময়সীমা যে দুই (২) বছর সেই সময় সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। বয়সসীমা বাধ্যতামূলক থাকার কারণে সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে আনাড়ি নেতৃত্ব চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল বলে আমার কাছে মনে হয়।


ছাত্ররাজনীতিতে ভালো নেতৃত্ব দরকার। কারণ এই ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই আওয়ামী লীগ নেতা, যুবনেতা, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ অন্যান্য নেতৃত্ব চলে আসে। তাই বয়সসীমা বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়া উচিত।


মেহেদী হাসানের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com